বিতর্কিত মন্তব্যের জের, পরেশ রাওয়ালের বিরুদ্ধে পদক্ষেপ কলকাতা পুলিশের

ও দিকে, তৃণমূল কংগ্রেসের মুখপাত্র সাকেত গোখলেকে গ্রেফতার করেছে গুজরাত পুলিশ। এ দিকে, বিতর্কিত মন্তব্যের জেরে পরেশ রাওয়ালের বিরুদ্ধে পদক্ষেপ কলকাতা পুলিশের!

0

কলকাতা: বাঙালিদের নিয়ে বিতর্কিত মন্তব্যের জের। বলিউড অভিনেতা পরেশ রাওয়ালের (Paresh Rawal) বিরুদ্ধে এফআইআর দায়ের করল কলকাতা পুলিশ। সিপিএম নেতা মহম্মদ সেলিম ওই একই অভিযোগে পুলিশের দ্বারস্থ হয়েছিলেন।

গুজরাত বিধানসভা ভোটে বিজেপির প্রচারসভায় গিয়ে বাঙালিদের নিয়ে বিতর্কিত মন্তব্য করেছিলেন অভিনেতা পরেশ রাওয়াল। তার পরই জনরোষের মুখে পড়েন তিনি। বিতর্কের জেরে নিজের কথা ফিরিয়ে নিয়ে শেষমেশ ক্ষমা চাইতে বাধ্য হন সাংসদ।

পরেশ রাওয়ালের বিরুদ্ধে এফআইআর কলকাতা পুলিশের

জানা গিয়েছে, লালবাজারের তরফে অভিনেতা পরেশ রাওয়ালের বিরুদ্ধে ভারতীয় দণ্ডবিধির ১৫৩ ধারায় অশান্তি সৃষ্টির উস্কানি, ১৫৩এ ধারায় বিভিন্ন গোষ্ঠীর মধ্যে শত্রুতার প্রচার, ১৫৩বি ধারায় ভাষাগত বা জাতিগত গোষ্ঠীর অধিকার অস্বীকার এবং ৫০৪ ধারায় উস্কানির উদ্দেশ্যে ইচ্ছাকৃত অপমান করার মামলা রুজু করা হয়েছে।  কলকাতা পুলিশ সূত্রে জানা গিয়েছে, ঘটনার তদন্তে নেমে ওই বক্তব্যের ফুটেজ খতিয়ে দেখা হবে।

তৃণমূল কংগ্রেসের (TMC) মুখপাত্র সাকেত গোখলেকে (Saket Gokhale) সোমবার রাতে রাজস্থানের জয়পুর থেকে গ্রেফতার করে গুজরাত পুলিশ। প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদীর (Narendra Modi) মোরবি সফর ঘিরে একটি বিতর্কিত টুইটের জেরেই তাঁকে গ্রেফতার করা হয় বলে সূত্রের খবর। গত অক্টোবরে মোরবি সেতু ভেঙে ১৩০ জনেরও বেশি লোক মারা গিয়েছিল। ঘটনাস্থলে যান প্রধানমন্ত্রী। সেই ঘটনা নিয়ে টুইট করেন সাকেত। বিজেপির রাজনৈতিক প্রতিহিংসার জেরেই গুজরাত পুলিশ সাকেতকে গ্রেফতার করেছে বলে দাবি করেন তৃণমূলের রাজ্যসভার সাংসদ ডেরেক ও’ব্রায়েন।

খবর অনলাইন-এ পড়ুন: তৃণমূল মুখপাত্রকে গ্রেফতার করল গুজরাত পুলিশ, ক্ষোভ উগরে দিলেন ডেরেক ও’ব্রায়েন

পরেশ রাওয়ালের বিরুদ্ধে এফআইআর মহম্মদ সেলিমের

এর আগে তালতলা থানায় অভিযোগ পত্র জমা দিয়েছিলেন সিপিএম রাজ্য সম্পাদক মহম্মদ সেলিম। সেখানে জানান, পরেশ রাওয়ালের বাঙালি বিরোধী মন্তব্যের জেরে দেশের অন্য প্রদেশের মানুষের মধ্যে বাঙালি বিদ্বেষী মনোভাব তৈরি হতে পারে। এই মর্মে তিনি পরেশের বিরুদ্ধে অভিযোগ দায়ের করে তাঁর যথাযথ শাস্তির দাবি জানিয়েছিলেন।

গুজরাতে পরেশের প্রচারপর্বের একটি ভিডিয়োর লিঙ্ক অভিযোগপত্রে উল্লেখ করে সেলিম লিখেছেন, বহু বাঙালিই পশ্চিমবঙ্গের বাইরে অন্য রাজ্যে বসবাস করেন। এই ধরনের মন্তব্য তাঁদের বিপদে ফেলার জন্য যথেষ্ট। এই বক্তব্য বাঙালিদের প্রতি ঘৃণার উদ্রেক ঘটাবে। সোশ্যাল মিডিয়ার কমেন্ট থ্রেডেও তা স্পষ্ট। এর ফলে দেশে হিংসা ছড়াতে পারে।

পরেশের মন্তব্যের ভিডিও প্রকাশ্যে আসতেই প্রতিবাদে সরব হয় পশ্চিমবঙ্গের শাসক দল তৃণমূল কংগ্রেসের নেতারাও। এ ছাড়াও এই মন্তব্যের বিরুদ্ধে বাংলাপক্ষের তরফ থেকে প্রতিবাদ জমায়েতের আয়োজন করা হয়। এরই মধ্যে থানায় গিয়ে বলিউড অভিনেতার বিরুদ্ধে ভারতীয় দণ্ডবিধির ১৫৩, ১৫৩এ, ১৫৩বি, ৫০৪ ও ৫০৫ ধারায় মামলা করেন সেলিম।

খবর অনলাইন-এ পড়ুন: পরেশ রাওয়ালের বাঙালি-বিদ্বেষী মন্তব্য, থানায় এফআইআর মহম্মদ সেলিমের

কী বলেছিলেন পরেশ রাওয়াল

গত সপ্তাহে গুজরাতের ভালসাদে নির্বাচনী প্রচারে পরেশ বলেন, “বর্তমানে গ্যাস সিলিন্ডারের দাম যথেষ্ট বেশি, তবে এই দাম কমে যাবে। সাধারণ মানুষের কর্মসংস্থানও হবে। কিন্তু রোহিঙ্গা বা বাংলাদেশিরা দিল্লির মতো জায়গায় আপনার পাশেই বসবাস শুরু করলে কী হবে? তখন আপনি গ্যাস সিলিন্ডার নিয়ে কী করবেন? বাঙালিদের জন্য মাছ রান্না করবেন? গুজরাতের মানুষ মূল্য়বৃদ্ধি সহ্য করে নেবে, কিন্তু এটা নয়…যে ভাবে তাঁরা কুকথা ব্যবহার করেন, তাঁদের মাঝে থাকতে হলে সাধারণ মানুষকে মুখেও ডায়পার পরতে হবে।”

পরেশের এই বিতর্কিত মন্তব্যের বিরুদ্ধে মুখ খোলেন অনেকেই। পরেশ “অবৈধ বাংলাদেশি এবং রোহিঙ্গা” বলার সময় “বাঙালি” শব্দটি ব্যবহার করায় এই প্রতিবাদ আরও জোরালো হয়। ঘুরিয়ে ক্ষমা চাইবার জন্য টুইটারে পরেশ লেখেন, “অবশ্যই মাছ নিয়ে আলাদা করে বলা ঠিক হয়নি। গুজরাতের মানুষও মাছ খান। তবে স্পষ্ট করে বলতে চাই, বেআইনি ভাবে অনুপ্রবেশকারী বাংলাদেশি এবং রোহিঙ্গাদের বোঝাতে চেয়েছি আমি। কিন্তু এর পরেও যদি আপনার অনুভূতিতে আঘাত দিয়ে থাকি, তা হলে ক্ষমা চাইছি”।

খবর অনলাইন-এ পড়ুন: খাদ্যাভ্যাস নিয়ে বাঙালিকে চরম অপমান, ক্ষমা চেয়ে নিলেন পরেশ রাওয়াল

dailyhunt

খবরের সব আপডেট পড়ুন খবর অনলাইনে। লাইক করুন আমাদের ফেসবুক পেজ। সাবস্ক্রাইব করুন আমাদের ইউটিউব চ্যানেল

বিজ্ঞাপন