saree printing

ওয়েবডেস্ক: জিএসটি চালু হওয়ার দু’মাস পর নিজের শাড়ি ছাপার ব্যবসা বন্ধ করে দিয়েছিলেন রাজকোটের বিশাল গাধিয়া। নতুন করে অর্ডার না আসার ফলে বাধ্য হয়েই ব্যবসা বন্ধ করতে হয়েছিল তাঁকে।

অর্ডার বন্ধ হওয়ার কারণ কী? বিশালের কথায়, “প্রতিটা ধাপে পাঁচ শতাংশ করে জিএসটি বসানো হয়েছে। এর ফলে জিনিসটার দাম ক্রমশ বাড়ছে। সব শেষে জিনিসটা যখন খদ্দেরের হাতে পৌঁছচ্ছে তখন দাম অনেক বেড়ে যাচ্ছে। এত দাম দিয়ে জিনিস কেনার প্রয়োজন বোধ করছেন না খদ্দেররা।”

দু’মাস বন্ধ রেখে অক্টোবরেই নিজের ব্যবসা ফের চালু করেন বিশাল, কিন্তু তত দিনে তাঁর ব্যবসায়ে ৫০ শতাংশ ক্ষতি হয়ে গিয়েছে। তাঁর কথায়, “নতুন করব্যবস্থা নিয়ে মানুষের মধ্যে বিভ্রান্তি এখনও রয়েছে।” গাধিয়ার এই ছাপা কারখানা ছাড়াও রাজকোট জেলায় প্রায় দেড় হাজারটি ক্ষুদ্র শিল্পের কারখানা রয়েছে, যেখানে কর্মরত প্রায় কুড়ি হাজার শ্রমিক।

মূলত কৃষি অঞ্চল হিসেবে পরিচিত রাজকোটের জেতপুর তালুকে শাড়ি ছাপার ব্যবসা প্রায় চার দশক পুরোনো। গুজরাত তো বটেই, আফ্রিকাতেও এখানকার শাড়ি রফতানি হয়। নিজেদের আয় বাড়ানোর জন্য স্থানীয় কৃষকরা এই শাড়ির ব্যবসায় ঢুকেছেন।

জিএসটির উচ্চ হারের পাশাপাশি তাঁকে কেন্দ্র করে বিভ্রান্তিও চরমে। এর ফলে স্থানীয় ব্যবসায়ীদের মধ্যে শাসক বিজেপির বিরুদ্ধে ক্ষোভ বাড়ছে। গাধিয়ার এখন আশা, তাঁদের মতো ক্ষুদ্র শিল্পকে বাঁচানোর জন্য উদ্যোগ নেবেন প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদী।

চিন এবং ইতালির পরে সেরামিক টাইল উৎপাদনের সব থেকে বড়ো আঁতুড়ঘর গুজরাতেরই মোরবি। এই শিল্পের সঙ্গে জড়িয়ে রয়েছেন প্রায় তেরো লক্ষ মানুষ। ২০১৬-১৭ অর্থবর্ষে প্রায় ২৫ হাজার কোটি টাকার লাভের মুখ দেখেছিল এই শিল্প। তবে টাইল্‌সের ওপরে ২৮ শতাংশ জিএসটি ধার্য হওয়ায়, বিশাল ক্ষতির সম্মুখীন হতে হয়েছে ব্যবসায়ীদের। ব্যবসায়ীদের ক্ষোভের কথা ভেবে ২৮ থেকে জিএসটির হার কমিয়ে ১৮ করা হয়েছে, কিন্তু তাতেও খুশি নন ব্যবসায়ীরা।

নাম প্রকাশে অনিচ্ছুক এক ব্যবসায়ী বলেন, জিএসটি’র হার কমলেও, কমে যাওয়া উৎপাদন এখনও বাড়াতে পারেননি তাঁরা। তাঁর কথায়, “প্রথমে বিমুদ্রাকরণ এবং পরে জিএসটি’র জন্য আমাদের ক্ষতি হয়েছে। বিজেপির ওপরে বিশ্বাস ক্রমশ কমছে।”

বিজেপিকে সমর্থনের ব্যাপারে দ্বিধাবিভক্ত সড়কশিল্পের সঙ্গে যুক্ত মেহসানার ব্যবসায়ীরা। এই শিল্পেও প্রধানত পটেলদের আধিপত্য। এখানেও বিপদের মুখে ক্ষুদ্র ব্যবসায়ীরা। জিএসটি চালু হওয়ার আগে তাদের কোনো করই দিতে হত না, এখন কিন্তু দিতে হয়। তবে বৃহৎ বা মাঝারি ব্যবসায়ীদের সে ভাবে প্রভাব ফেলেনি জিএসটি।

সড়কশিল্পের সঙ্গে যুক্ত ব্যবসায়ীরা বিজেপির ওপর থেকে আস্থা পুরোপুরি না সরিয়ে নিলেও, ফেব্রিক ব্যবসায়ীদের ক্ষেত্রে ব্যাপারটা অন্য রকম। ফেব্রিক ব্যবসার সঙ্গে যুক্ত ব্যবসায়ী ভরত পটেল বলেন, “আমরা এমন একটা করব্যবস্থার শিকার হয়েছি যেটা আমরা ভালো করে বুঝতেই পারছি না। বিমুদ্রাকরণের পরে প্রথম তিন মাস কোনো কাজ করতে পারিনি। তার পর ছ’মাসে ব্যবসা কিছুটা আশার মুখ দেখেছিল। কিন্তু জিএসটির পরে আবার সেই আগের অবস্থায় ফিরে গেলাম।”

জিএসটি’র হার কমালেও কৃষি ক্ষেত্রেও ছবিটা করুণ। কৃষি শিল্পের সঙ্গে যুক্তি মেহসানার এক ব্যবসায়ী বলেন, “সারা দেশেই কৃষি শিল্পের ছবিটা বেশ করুণ। বিমুদ্রাকরণের পর থেকে চাহিদা অনেক কমে গিয়েছে।”

বিশেষজ্ঞদের মতে, জিএসটির বিভ্রান্তি, বিমুদ্রাকরণের ভোগান্তি, ব্যবসায়ীদের ক্ষোভ এবং পাতিদারদের আন্দোলন গুজরাতের ব্যালট বাক্সে প্রভাব ফেলবে। ক্ষমতা হারানোর সম্ভাবনা এখনই না থাকলেও, প্রায় নাকের ডগায় চলে আসতে পারে কংগ্রেস।

 

মন্তব্য করুন

Please enter your comment!
Please enter your name here