শিবমোগা (কর্নাটক) : কর্নাটক-বিহারের পর আবার কর্নাটকে। হুইলচেয়ারের অভাবে সরকারি হাসপাতালে মাটিতে শুইয়ে টানতে টানতে নিয়ে যেতে হল ৭৫ বছরের রোগীকে।

রোগীর নাম আমির সাব। ২৫ মে থেকে তিনি শিবমোগার ম্যাকগান সরকারি হাসপাতালের জেনারেল ওয়ার্ডে ভর্তি ছিলেন। ফুসফুসের সমস্যা, শ্বাসপ্রশ্বাস জনিত সমস্যা ও হাত-পা ফোলা নিয়ে এখানে ভর্তি হয়েছিলেন তিনি। চিকিৎসকরা তাঁর পেটের স্ক্যান করানোর নির্দেশ দেন। সেই মতোই ৩১ মে তাঁকে নির্দিষ্ট বিভাগে নিয়ে যাওয়ার চেষ্টা করা করেন তাঁর স্ত্রী ফামেদা। অসুস্থ স্বামীকে নিয়ে যাওয়ার জন্য একটা হুইলচেয়ার চেয়েছিলেন ফামেদা হাসপাতাল কর্মীদের কাছে। কিন্তু পরিবর্তে তারা ফামেদার কাছে ৫০ টাকা চায়। সেই টাকা দিতে পারেননি ফামেদা। অবশেষে উপায় না পেয়ে অসুস্থ স্বামী আমিরকে মাটিতে শুইয়ে তাঁর পা দু’টো ধরে টানতে টানতে নিয়ে যান তিনি।

 

ঘটনা দেখে কয়েক জন তীব্র প্রতিবাদ জানান। তখন তাঁকে একটা হুইলচেয়ারের ব্যবস্থা করে দেওয়া হয়।

আমির জানান, এই ঘটনার পর থেকে তাঁর পিঠে ব্যথা শুরু হয়েছে। তাঁর ফিজিওথেরাপি করানো হচ্ছে। শুধু তা-ই নয়, ঠিক সময়ে চিকিৎসকরা আসেন না এমন অভিযোগও করেন তিনি।

আরও পড়ুন : বিহারে স্ট্রেচারের অভাবে চ্যাংদোলা করে নিয়ে যেতে হল মহিলা রোগীকে

সরকারি হাসপাতালের এই অমানবিক দিক এই নিয়ে বেশ ক’বারই সামনে এল। প্রত্যেক বারেই হাসপাতাল কর্তৃপক্ষ বলে, যা চাওয়া হয়েছে, তা পর্যাপ্ত পরিমাণেই হাসপাতালে আছে। কিন্তু তাও কেন রোগীকে পাইয়ে দেওয়া যায়নি, তা তদন্ত করে দেখা হবে, এমন অপ্রীতিকর ঘটনা — সেটা কর্মীদের অক্ষমতার কারণেই ঘটেছে। এ বারও একই কথা বলেছে ম্যাকগান হাসপাতাল কর্তৃপক্ষ। বলেছে, এই ঘটনা দুঃখজনক। হাসপাতালে হুইলচেয়ার পর্যাপ্ত। কিন্তু তাও কেন আমিরকে দেওয়া হয়নি, তা খতিয়ে দেখা হবে। এটা কর্মীদের অক্ষমতা যে তাঁরা তাঁদের দায়িত্ব ঠিকমতো পালন করতে পারছেন না।

তবে হাসপাতালের তরফে জানানো হয়েছে, নার্স আশা, চিত্রা, জয়িতা ও আয়া সুব্রহ্মণ্যমকে কাজ থেকে বরখাস্ত করা হয়েছে।

আরও পড়ুন : মেডিক্যালের এমারজেন্সিতে বিনা চিকিৎসায় পড়ে থাকলেন মালদহ থেকে আসা রোগী

চিকিৎসা শিক্ষামন্ত্রী স্মরণ প্রকাশ পাটিলের অধীনে রয়েছে এই হাসপাতালটি। প্রকাশ বলেন, ঘটনাটি তদন্ত করে দেখা হবে। অভিযুক্তদের উপযুক্ত শাস্তি দেওয়া হবে।

স্বাস্থ্যমন্ত্রী রমেশ কুমার জানান, হাসপাতালের তরফে তাঁকে জানানো হয়েছে রোগীর পরিবার হুইলচেয়ারের জন্য অধৈর্য হয়ে উঠেছিল। কিন্তু তা সত্ত্বেও তিনি তদন্তের নির্দেশ দিয়েছেন। প্রকৃত দোষীদের উপযুক্ত শাস্তি দেওয়া হবে বলে তিনি জানান। তিনি সাধারণ মানুষকে সরকার ও সরকারি হাসপাতালের ওপর বিশ্বাস রাখতে অনুরোধ করেছেন।

একটি উত্তর ত্যাগ

আপনার মন্তব্য দিন !
আপনার নাম লিখুন