জয়পুর: আলোয়ার পুলিশ স্থানীয় রাজনৈতিক নেতৃবৃন্দের ঘনিষ্ঠ, এই অভিযোগ ছিল গো-রক্ষক বাহিনীর মারে নিহত পেহলু খানের পরিবারের। তাদের দাবি মেনে তাই আলোয়ার থেকে জয়পুর সরিয়ে দেওয়া হল এই হত্যা মামলা।

গত এপ্রিলে হরিয়ানার মেওয়াতের দুধ ব্যবসায়ী পেহলু জয়পুরে এসেছিলেন দুধেল মোষ কিনতে। রমজান মাসে দুধের উৎপাদন বাড়ানোই ছিল তাঁর উদ্দেশ্য। কিন্তু বিক্রেতার জোরাজুরিতে দুধেল গরু কিনে নেন পেহলু। বিক্রেতা বলেছিলেন মোষের থেকে গরুটি বেশি দুধ দেবে। সেটাই বিশাল ভুল ছিল পেহলুর। মেওয়াতে ফেরার পথে আলোয়ারে তাঁর ওপর হামলা চালায় গো-রক্ষক বাহিনী। নিহত হন পেহলু, গুরুতর আহত হয়ে হাসপাতালে ভর্তি হন পেহলুর দুই ছেলে-সহ আরও চার জন।

আরও পড়ুন আলওয়ার হত্যাকাণ্ড: দোষীদের ছাড়া হবে না, বললেন রাজস্থানের মুখ্যমন্ত্রী

ঘটনার পরেই গো-রক্ষকদের দাপাদাপি নিয়ে দেশ জুড়ে চর্চা শুরু হয়ে যায়। ঘটনায় অভিযুক্ত চার জনকে গ্রেফতার করে আলোয়ার পুলিশ।

তবে আলোয়ার পুলিশের হাতে এই মামলার তদন্তভার থাকায়, তাঁরা আদৌ ন্যায় পাবেন কি না সে নিয়ে সন্দিহান হয়ে পড়েন পেহলুর পরিবারের সদস্যরা। তাদের ভাবিয়ে তোলে গত তিন বছরে এই এলাকায় মুসলিমদের আক্রান্ত হওয়ার বিভিন্ন ঘটনা এবং তার তদন্ত করতে আলোয়ার পুলিশের ব্যর্থতা। সন্দেহ হয়, আলোয়ার পুলিশ স্থানীয় রাজনৈতিক নেতৃবৃন্দের খুবই ঘনিষ্ঠ এবং এই রাজনৈতিক নেতৃবৃন্দের উস্কানিতেই দাপাদাপি বেড়েছে গো-রক্ষকদের। এমনকি পেহলু হত্যা মামলাতেও চার জন অভিযুক্তকে গ্রেফতার করা ছাড়া, গো-রক্ষকদের দাপাদাপি কমানোর জন্য কোনো উল্লেখযোগ্য ভূমিকাই নেয়নি আলোয়ার পুলিশ।

তবে পরিবারের দাবি মেনে রাজস্থান সরকার মামলাটিকে জয়পুরের স্থানান্তরিত করার সিদ্ধান্ত নিয়েছে। এই সিদ্ধান্তকে স্বাগত জানিয়েছে  পেহলুর পরিবার, রাজনৈতিক মহল এবং মানবাধিকার সংগঠন।

আরও পড়ুন গো-হত্যার গুজবে খুন: অভিযুক্তকে ভগত সিংহের সঙ্গে তুলনা করলেন গোরক্ষা নেত্রী

গোটা ঘটনার তদন্তে নজর রাখবেন রাজস্থান পুলিশের আইজি হেমন্ত প্রিয়দর্শী। এই মামলার নতুন তদন্তকারী অফিসার হয়েছেন রাম স্বরূপ। আইজির সঙ্গে এ বিষয়ে দেখা করে সন্তুষ্ট পেহলুর পরিবারের সদস্য এবং মানবাধিকার কর্মীরা। এ ব্যাপারে সিপিএম সদস্য সুমিত্রা চোপড়া বলেন, “মামলাগুলি যে রাজনৈতিক প্রভাবমুক্ত থাকবে সে ব্যাপারে আমাদের আশ্বস্ত করেছেন আইজি।”

উত্তর দিন

আপনার মন্তব্য দিন !
আপনার নাম লিখুন