homeless

ওয়েবডেস্ক: শহরের আধুনিকীকরণ হচ্ছে, তৈরি হচ্ছে রাস্তা, বিলাবহুল মল। এই জন্য প্রতি ঘণ্টায় ভারতে গৃহহীন হচ্ছেন অন্তত তিরিশ জন। এমনই দাবি করেছেন মানবাধিকার কর্মীরা।

বাড়ি এবং জমি বিষয়ক অধিকার সংগঠন হাউসিং অ্যান্ড ল্যান্ড রাইট্‌স নেটওয়র্কের (এইচএএলআর) দাবি ‘স্মার্ট সিটি’ এবং আধুনিকীকরণের আরও প্রকল্পের জন্যই এই পরিস্থিতির সম্মুখীন হচ্ছেন মানুষরা। পরিকাঠামো এবং উন্নয়নমূলক প্রকল্পের পাশাপাশি বন্যপ্রাণী সংরক্ষণ এবং বিপর্যয় মোকাবিলার বিভিন্ন প্রকল্পের জন্যও গৃহহীন হয়ে পড়ছেন মানুষ। গরিব মানুষরাই যে গৃহহীন হচ্ছেন সেটা বলাই বাহুল্য।

এইচএলআরএনের এক্সিকিউটিভ ডিরেক্টর শিবানী চৌধুরী বলেন, “যে ভাবে সৌন্দর্যায়ন এবং উন্নয়নের নামে শহরে থাকা গরিব মানুষরা গৃহহীন হয়ে পড়ছেন সেটা যথেষ্ট চিন্তার ব্যাপার। গরিব মানুষদের প্রতি এটা চরম বৈষম্যের।”

সংস্থাটির পেশ করা তথ্যে দেখা গিয়েছে, গত বছর সারা দেশে মোট ৫৩,৭০০ বাড়ি ভাঙা হয়েছিল। এর ফলে গৃহহীন হয়ে পড়েন ২,৬০,০০০ মানুষ। তবে সংস্থার দাবি, তারা নিজেরা যটা ঘটনার কথা জানতে পেরেছে তার ওপরেই এই তথ্য সম্বিলিত করা হয়েছে। আসল সংখ্যাটা আরও অনেক বেশি হতে পারে।

চৌধুরীর দাবি, “শহরাঞ্চলে গরিব মানুষদের বাড়িকে এখনও বেআইনি নির্মাণ আখ্যা দেওয়া হয়। কোনো চিন্তাভাবনা ছাড়াই তাদের বাড়ি ভেঙে দেওয়া হয়, যেখানে তারা দশকের পর দশক কাটিয়েছে।”

যদিও এই ব্যাপারে কোনো সঠিক তথ্য কেন্দ্রীয় আবাসন মন্ত্রকের কাছে নেই। অন্য দিকে দিল্লি ডেভেলপমেন্ট অথোরিটির (ডিডিএ) দাবি, আইন মেনেই সব কিছু করা হয়। ডিডিএ-এর মুখপাত্র প্রকাশ অগ্রওয়াল বলেন, “যখনই উচ্ছেদের প্রয়োজন হয়, আমরা সব কিছু আইন মেনেই করি। যাঁরা গৃহহীন হয়ে পড়ছেন, তাঁদেরও পুনর্বাসনের ব্যবস্থা করে দেওয়া হয়।”

প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদীর স্বপ্নের প্রকল্প ‘স্মার্ট সিটি’। এই প্রকল্পের মাধ্যমে ২০২০-এর মধ্যে একশোটা শহরের খোলনলচে বদলে দেওয়া হবে। শহরগুলি যত উন্নয়নের দিকে যাচ্ছে ততই উচ্ছেদ হয়ে যাচ্ছেন গরিব মানুষরা।

চৌধুরীর দাবি, সাম্প্রতিক কালে উচ্ছেদের ক্ষেত্রে কোনো নিয়ম পালন করা হয় না। অনেক সময়ে আগাম ইঙ্গিত না দিয়েই পুলিশ ব্যবহার করেও উচ্ছেদ করে দেওয়া হয়। এতে গৃহহীন হয়ে পড়ার পাশাপাশি পুলিশের মারে আহত হন অনেক মানুষ। তবে পুলিশ ব্যবহার করার যাবতীয় কথা অস্বীকার করেছে ডিডিএ কর্তৃপক্ষ।

মন্তব্য করুন

Please enter your comment!
Please enter your name here