গুয়াহাটি : অসম সরকার জনসংখ্যা নীতির একটি খসড়া ঘোষণা করল। রবিবার ঘোষিত এই খসড়ায় বলা হয়েছে, ২টির বেশি সন্তান যাঁদের আছে তাঁরা সরকারি চাকরি পাবেন না। খসড়ায় আরও বলা হয়েছে, রাজ্যে মেয়েদের জন্য বিশ্ববিদ্যালয় স্তর পর্যন্ত পড়াশোনার খরচ লাগবে না। গুয়াহাটিতে একটি সাংবাদিক সম্মেলনে এই খসড়া নীতির কথা ঘোঘণা করেন অসমের শিক্ষা ও স্বাস্থ্যমন্ত্রী হেমন্ত বিশ্বশর্মা।

তিনি বলেন, শুধু সরকারি চাকরি পাওয়ার সময়েই নয়, গোটা কর্মজীবনেই এই শর্ত বহাল থাকবে। অর্থাৎ চাকরি পাওয়ার পর আরও সন্তান হলে চাকরি যাবে। এবং শুধু সরকারি চাকরি পাওয়ার ক্ষেত্রেই নয়, অন্যান্য সরকারি  প্রকল্পের ক্ষেত্রেও একই নীতি প্রযোজ্য হবে। তিনি বলেন, যে কোনো সরকারি সাহায্য — ট্রাকটার দেওয়া, ঘরবাড়ি তৈরি করে দেওয়া বা যে কোনো ক্ষেত্রেই সাহায্য দেওয়ার আগে সরকার সন্তান সংক্রান্ত বিষয়টি লক্ষ রাখবে। পাশাপাশি অসম নির্বাচন কমিশনের অধীনে যে কোনো নির্বাচনে প্রার্থী হতে গেলেও এই শর্ত মানতে হবে। খসড়ায় রাজ্য জনসংখ্যা কাউন্সিল ও রাজ্য জনসংখ্যা গবেষণা কেন্দ্র গড়ে তোলার ওপর জোর দেওয়া হয়েছে। হেমন্ত বিশ্বশর্মা বলেন, রাজ্যের মহিলাদের সরকারি চাকরি আর নির্বাচনে প্রার্থী হওয়ার ক্ষেত্রে ৫০% সংরক্ষণের বিষয়টি নিয়েও বিবেচনা করে দেখা হবে।

শিক্ষামন্ত্রী হিসেবে তিনি জানান, নিখরচায় শিক্ষার ব্যবস্থা করতে চায় সরকার। পড়াশোনার জন্য স্কুলের ফি, যাতায়াত, বইপত্র কেনা, হোস্টেলে থাকা-সহ সব কিছুই নিখরচায় হবে। এতে করে স্কুলছুট, অনুপস্থিতি অনেকটাই বাগে আনা যাবে বলে মনে করছেন তিনি। জনসংখ্যা নীতির আর একটা লক্ষ্য হল আইনত ভাবে বিয়ের বয়স বাড়ানো। সে ক্ষেত্রেও কেউ যদি নাবালক অবস্থায় বিয়ে করে থাকেন তা হলেও সরকারি চাকরির জন্য অযোগ্য গণ্য হবেন।

তিনি জানান, এই খসড়ায় মেয়েদের সুরক্ষা, যৌন হেনস্থার বিষয়ে কঠোর আইন আনার কথা বলা হয়েছে। খসড়ায় বলা হয়েছে, যাঁরা বৃদ্ধ বাবামায়ের দেখাশোনা করবেন তাঁদের ইনসেন্টিভ দেওয়া হবে সরকারের তরফ থেকে। এতে বয়ঃসন্ধির বিষয়েও বিশেষ দৃষ্টি আকর্ষণ করা হয়েছে। তা ছাড়া যে কোনো বিষয়ে জন সচেতনতার ওপর জোর দেওয়া হয়েছে এই খসড়ায়।

জুলাই মাস পর্যন্ত এই বিষয়ে জনমত সংগ্রহ করা হবে। এর পর খসড়াটি বিধানসভায় পেশ করা হবে। সরকারি ভাবে এই নীতি গ্রহণ করা হলে রাজ্যের ৪৮টি বিভাগের নিয়োগ নীতি সংশোধন করতে হবে। এতে কমপক্ষে ৩ বছর লাগতে পারে বলে মনে করছেন হেমন্ত বিশ্বশর্মা।

উল্লেখ্য, ২০১১ সালের আদমসুমারি অনুযায়ী অসমের বর্তমান জনসংখ্যা ৩.২ কোটি। ২০০১ সালের পর থেকে ওই দশ বছরে জনসংখ্যা বেড়েছে প্রায় ১ কোটি। 

মন্তব্য করুন

Please enter your comment!
Please enter your name here