দিল্লি : প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদীর দুর্নীতিতে জড়িত থাকা সংক্রান্ত ‘ব্যক্তিগত তথ্য’ তাঁর কাছে রয়েছে – এমন দাবি করলেন রাহুল গান্ধী। বুধবার ১৬টি বিরোধী দলের ডাকা এক সাংবাদিক সম্মেলনে এ কথা বলেন কংগ্রেসের সহ-সভাপতি। তিনি অভিযোগ করেন, নোট বাতিল প্রসঙ্গে সংসদে তাঁকে বলতে দেওয়া হচ্ছে না। কারণ রাহুলের কাছে প্রধানমন্ত্রীর বিরুদ্ধে কিছু গোপন তথ্য আছে। সেই জন্যই প্রধানমন্ত্রী খুবই ভয় পেয়ে গেছেন। সাংসদে কথা বলার অধিকার তাঁদের আছে। তাঁদের বলতে দেওয়া হোক।

রাহুল বলেন, ভারতে নোট বাতিলের ঘটনা একটা বিরাট বড়ো কেলেঙ্কারি। তিনি যদি মুখ খোলেন প্রধানমন্ত্রী পালানোর পথ পাবেন না। প্রতিটি বিরোধী দল এই ইস্যুতে আলোচনা করতে চায়। কিন্তু শাসকদল তা চায় না। তিনি বলেন, মোদীর এই সিদ্ধান্ত সব থেকে ক্ষতি করেছে দেশের গরিবদের। এর জেরে কত মানুষ মারা যাচ্ছেন। এই সবের জন্য প্রধানমন্ত্রীকেই উত্তর দিতে হবে। লোকসভায় এই সমস্ত প্রশ্নের উত্তর দিতে তিনি বাধ্য। ভারতের ইতিহাসে এমন প্রথম হল যখন সরকারপক্ষ লোকসভাকে নিয়ন্ত্রণ করছে। কাউকে কিছু বলতে সুযোগ দিচ্ছে না। রাহুল বলেন, নরেন্দ্র মোদী নানা রকম অজুহাত দেখিয়ে নিজেকে আড়াল করার চেষ্টা করছেন। তাঁর সংসদে আসা উচিত। সকলের কথা শোনা উচিত।

রাহুলের সমর্থনে কথা বলেন অন্য বিরোধী দলের একাধিক নেতা-নেত্রী। তৃণমূল নেতা সুদীপ বন্দ্যোপাধ্যায় মন্তব্য করেন, সংসদ খুবই অব্যবস্থার মধ্যে দিয়ে চলছে। গণতন্ত্র আক্রান্ত। বিরোধীদের বলতে দেওয়া হচ্ছে না। রাহুল গান্ধীকে বলতে দিতে চাইছে না শাসকদল। সিপিএম নেতা পি করুণাকরণ বলেন, এর অর্থ হল সরকার জনগণের কাছ থেকে পালানোর চেষ্টা করছে। এনসিপি নেতা তারিক আনোয়ার বলেন, এটা সরকারের ষড়যন্ত্র। এমনটা ইতিহাসে প্রথম ঘটছে।

কিন্তু আপ নেতা অরবিন্দ কেজরিবাল রাহুলের এই অভিযোগের মধ্যে কংগ্রেস-বিজেপির খেলা দেখতে পাচ্ছেন। তাঁর কথায়, এটা দুই দলের পরিকল্পনা-মাফিক একটা খেলা। তাঁর প্রশ্ন, যদি তথ্যপ্রমাণ সব থাকে তা হলে অপেক্ষা কেন করছেন রাহুল?

অন্য দিকে রাহুলের এই অভিযোগ উড়িয়ে দিয়েছেন বিজেপির একাধিক নেতা। বিজেপির তরফে স্বরাষ্ট্র বিষয়ক প্রতিমন্ত্রী কিরণ রিজিজু বলেন, এটা এ বছরের শ্রেষ্ঠ ঠাট্টা। সংসদ বিষয়ক মন্ত্রী অনন্ত কুমার বলেন, রাহুলের এই অভিযোগ ভিত্তিহীন।

কিন্তু এর পরেও প্রধানমন্ত্রীর উপস্থিতি সত্ত্বেও বুধবারও লোকসভা মুলতবি হয়ে যায়।

প্রসঙ্গত, এর আগেই রাহুল সংসদে বলতে না পেরে মুখ খোলেন জনপথেই। তিনি বিজেপির শক্ত ভোট ব্যাঙ্ক দাদরির সবজি বাজারকে বেছে নেন। সেখানে তিনি বলেন, নগদে যে ব্যবসায়ীরা ব্যবসা করেন, তাঁদের স্বার্থ দেখছে না সরকার। ‘ক্যাশলেস’ ব্যবস্থায় বড়ো বড়ো সংস্থাগুলিকে সুবিধা দিতে চাইছে সরকার। তা ছাড়া ব্যাঙ্ক বৃহৎ শিল্পপতিদের দেওয়া ঋণের টাকা আদায়   করতে না পেরে সেই ঘাটতি পূরণ করছে সাধারণ মানুষের টাকা হাতিয়ে নিয়ে।

মন্তব্য করুন

Please enter your comment!
Please enter your name here