নয়াদিল্লি: দুই দফায় দেশব্যাপী ব্যাপক অভিযান। এক সপ্তাহে গ্রেফতার পপুলার ফ্রন্ট অব ইন্ডিয়া (PFI)-র ২৪০ জনেরও বেশি সদস্য। মঙ্গলবার রাতে জঙ্গি কার্যকলাপের অভিযোগে পাঁচ বছরের জন্য সংগঠনটিকে নিষিদ্ধ করেছে কেন্দ্রীয় সরকার।

কেন নিষিদ্ধ পিএফআই?

পিএফআই এবং এর সহযোগী সংস্থাগুলিকে বেআইনি কার্যকলাপ (প্রতিরোধ) আইনের (UAPA) অধীনে একটি “বেআইনি সংগঠন” হিসাবে ঘোষণা করা হয়েছে কেন্দ্রের তরফে।

কেন্দ্র বলেছে, স্টুডেন্টস ইসলামিক মুভমেন্ট অব ইন্ডিয়া (SIMI), জামাত-উল-মুজাহিদিন বাংলাদেশ (JMB)-এর সঙ্গে এই সংগঠনের যোগসূত্র রয়েছে। এমনকী ইসলামিক স্টেট বা আইএসআইএস (ISIS)-এর সঙ্গে বেশ কয়েকটি অপরাধমূলক ও সন্ত্রাসবাদী মামলায় জড়িত পিএফআই।

স্বরাষ্ট্রমন্ত্রকের তরফে প্রকাশিত বিবৃতিতে আরও জানানো হয়েছে, দেশবিরোধী কার্যকলাপের সঙ্গে জড়িত থাকার প্রমাণের সাপেক্ষেই এই সংগঠনকে নিষিদ্ধ বলে ঘোষণা করা হচ্ছে। একাধিক অপরাধমূলক কাজ এবং সন্ত্রাসমূলক কাজকর্মে জড়িত আছে পিএফআই। বিদেশ থেকে অর্থ সাহায্যও পায়। যা দেশের অভ্যন্তরীণ সুরক্ষার ক্ষেত্রে বড়সড় উদ্বেগের বিষয়।

নিষিদ্ধ সহযোগী সংগঠনগুলিও

এর পাশাপাশি বেআইনি কাজকর্মের জন্য পিএফআই-এর সমস্ত সহযোগী সংস্থা এবং অনুমোদিত সংস্থার উপরও নিষেধাজ্ঞা চাপানো হয়েছে। পিএফআই-এর সহযোগী সংস্থাগুলি – রিহ্যাব ইন্ডিয়া ফাউন্ডেশন (RIF), ক্যাম্পাস ফ্রন্ট অব ইন্ডিয়া (CFI), অল ইন্ডিয়া ইমামস কাউন্সিল (AIIC), ন্যাশনাল কনফেডারেশন অব হিউম্যান রাইটস অর্গানাইজেশন (NCHR), ন্যাশনাল উইমেনস ফ্রন্ট, জুনিয়র ফ্রন্ট, এমপাওয়ার। ইন্ডিয়া ফাউন্ডেশন এবং রিহ্যাব ফাউন্ডেশন কেরল-কেও নিষিদ্ধ করা হয়েছে।

ব্যাপক যৌথ অভিযান

কয়েক দিন ধরেই দেশ জুড়ে পিএফআই নেতা ও সদস্যদের বাড়ি ও অফিসে যৌথ ভাবে তল্লাশি চালায় জাতীয় তদন্তকারী সংস্থা (NIA), এনফোর্সমেন্ট ডিরেক্টরেট (ED) এবং সংশ্লিষ্ট রাজ্য পুলিশ। পিএফআই নেতা ও সদস্যরা সন্ত্রাসবাদে অর্থ জোগানো, অস্ত্র প্রশিক্ষণের জন্য শিবিরের আয়োজনের মতো কাজকর্মে যুক্ত বলে জোরালো তথ্য উঠে আসে তদন্তকারীদের হাতে। তার প্রেক্ষিতেই পাঁচটি এফআইআর রুজু করেছে এনআইএ। জানা যায়, দেশের ১৫ টি রাজ্যের ৯৩ টি জায়গায় তল্লাশি চালিয়ে প্রচুর পিএফআই সদস্যকে গ্রেফতার করা হয়। দু’‌দফায় পপুলার ফ্রন্ট অব ইন্ডিয়ার অন্তত আড়াই সদস্যকে গ্রেফতার এবং আরও বেশ কিছু সদস্যক আটক করা হয়েছে বলে জানা যায়।

কোথায় কোথায় সক্রিয় পিআফআই?

জানা যায়, বর্তমানে দেশের ১৫টি রাজ্যে সক্রিয় এই সংগঠন। দিল্লি, অন্ধ্রপ্রদেশ, অসম, বিহার, কেরল, ঝাড়খণ্ড, পশ্চিমবঙ্গ, উত্তরপ্রদেশ, কর্নাটক, পশ্চিমবঙ্গ, রাজস্থান, হরিয়ানা, তামিলনাড়ু, তেলঙ্গনা এবং মধ্যপ্রদেশে সক্রিয় পিএফআই। আপাতত ৫ বছরের জন্য নিষিদ্ধ সংগঠন ঘোষণা করেছে কেন্দ্রীয় সরকার।

খবর অনলাইন-এ আরও পড়ুন:

সর্বকালীন পতন! ডলার প্রতি ৮২ হওয়ার দিকে টাকার মূল্য

স্বরাষ্ট্রমন্ত্রকের বিজ্ঞপ্তিতে এ কথাও বলা হয়েছে, পিএফআই এবং এর সহযোগী দলগুলি যে বেআইনি কার্যকলাপের যুক্ত আছে তা ‘দেশের অখণ্ডতা, সার্বভৌমত্ব এবং নিরাপত্তার জন্য ক্ষতিকর’। এই দলগুলি সক্রিয় থাকলে দেশের শান্তি ও সাম্প্রদায়িক সম্প্রীতি নষ্ট হওয়ার আশঙ্কা রয়েছে।

dailyhunt

খবরের সব আপডেট পড়ুন খবর অনলাইনে। লাইক করুন আমাদের ফেসবুক পেজ। সাবস্ক্রাইব করুন আমাদের ইউটিউব চ্যানেল

বিজ্ঞাপন