খবর অনলাইন ডেস্ক: প্রধানমন্ত্রী আবাসন তহবিলে কয়েক হাজার কোটি টাকার কেলেঙ্কারি করেছেন ডিএইচএফএল কর্তারা। এমনটাই জানিয়েছে কেন্দ্রীয় তদন্তকারী সংস্থা সিবিআই।

প্রধানমন্ত্রী আবাস যোজনা (পিএমএওয়াই)-র সঙ্গে জড়িত একটি কেলেঙ্কারির পরদাফাঁস হয়েছে। একই সঙ্গে বুধবার কপিল ও ধীরাজ ওয়াধাওয়ানের বিরুদ্ধে মামলা দায়ের করেছে সিবিআই। এই দুই ভাই আর্থিক সংকটে জর্জরিত দেওয়ান হাউজিং ফিনান্স লিমিডেট (DHFL)-এর প্রমোটার। জালিয়াতি ও বেআইনি আর্থিক লেনদেনের অভিযোগে তাঁরা জেলে রয়েছেন।

Loading videos...

কী ভাবে জালিয়াতি?

সিবিআই সূত্র বলছে, কপিল ও ধীরাজ “ভুয়ো ও কল্পিত” গৃহঋণের অ্যাকাউন্ট তৈরি করেছিলেন। এই জাল অ্যাকাউন্টগুলির ভিত্তিতে, ভারত সরকারের কাছ থেকে ১১,৭৫৫ কোটি টাকার গৃহঋণ হাতিয়ে ছিলেন দুই ভাই। যে টাকার সুদ হিসেবে ভরতুকি মিলেছিল ১,৮৮০ কোটি টাকা।

সকলের জন্য মাথার উপর ছাদ নিশ্চিত করতে প্রধানমন্ত্রী আবাস যোজনা (PMAY) নামে এই কেন্দ্রীয় প্রকল্পটি ২০১৫ সালের অক্টোবরে ঘোষণা করা হয়েছিল।

এই প্রকল্পের আওতায় অর্থনৈতিক ভাবে দুর্বল বিভাগগুলি (ইডব্লিউএস) এবং নিম্ন এবং মধ্য আয়ের গোষ্ঠীর লোকদের নেওয়া ঋণের উপর সরকারি ভরতুকি দেওয়া হয়। ডিএইচএফএলের মতো আর্থিক প্রতিষ্ঠানের মাধ্যমে এই ভরতুকি দাবি করা যায়।

কত টাকার জালিয়াতি?

সিবিআই সূত্র জানিয়েছে, ২০১৮ সালের ডিসেম্বরে ডিএইচএফএল বিনিয়োগকারীদের জানিয়েছে যে তারা পিএমএওয়াইয়ের আওতায় ৮৮,৬৫ টি ঋণ প্রক্রিয়া করেছে এবং ভরতুকি বাবদ ৫৩৯.৪ কোটি টাকা পেয়েছে, এখনও বাকি রয়েছে ১,৩৪৭.৮ কোটি টাকা।

তবে ফরেনসিক অডিট থেকে জানা গিয়েছে, কপিল ও ধীরাজ ২.৬ লক্ষ জাল আবাসন ঋণ অ্যাকাউন্ট খোলেন – যার বেশিরভাগ পিএমএওয়াই স্কিমের অধীনে ছিল। বান্দ্রা শাখায় সংস্থার একটি কাল্পনিক অ্যাকাউন্টে সেই সুদের ভরতুকির টাকা দাবি করা হয়।

২০০৭ থেকে ২০১৯ সালের মধ্যে এই অ্যাকাউন্টগুলিতে ১৪,০৪৬ কোটি টাকার ‘ঋণ’ অনুমোদিত হয়েছে। সিবিআই অভিযোগ করেছে, যার মধ্যে, ১১,৭৫৫.৭৯ কোটি টাকা অন্য কোনো কাল্পনিক সংস্থায় জমা হয়েছিল।

গত বছরের জুন মাসে ইয়েস ব্যাঙ্কের প্রতিষ্ঠাতা রানা কপূরের পরিবারের সঙ্গে ডিএইচএফএলের বিনিয়োগ সংক্রান্ত সংঘাত বাঁধার পর সিবিআই কপিল, ধীরাজ এবং রানার বিরুদ্ধে চার্জশিট দাখিল করে।

সিবিআইয়ের দাবি, ১০১৮ সালের এপ্রিল-জুনের মধ্যে এই কেলঙ্কারি হয়েছিলে। যখন ইয়েস ব্যাঙ্ক ডিএইচএফএলে ৩,৭০০ কোটি টাকা বিনিয়োগ করে। অভিযোগ, এর বিনিময়ে রানার স্ত্রী এবং কন্যার একটি সংস্থাকে ৬০০ কোটি টাকার ঋণ দিয়েছিলেন কপিল, ধীরাজরা।

প্রসঙ্গত, গত বছরের এপ্রিলে কপিল এবং ধীরাজকে করা হয়েছিল। তার আগেই, মার্চ মাসে গ্রেফতার করা হয়েছিল রানাকে।

আরও পড়তে পারেন: ২৪ দিন পর পেট্রোল, ডিজেলের দামে পরিবর্তন

LEAVE A REPLY

Please enter your comment!
Please enter your name here

This site uses Akismet to reduce spam. Learn how your comment data is processed.