আগরতলা: ত্রিপুরার মানুষ এ বারের নির্বাচনে ‘মানিক’ নয়, ‘হিরে’ চাইছেন, বললেন প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদী। বিধানসভা নির্বাচনের প্রচারে এসে বৃহস্পতিবার তাঁর বক্তব্য জুড়ে ছিল মানিক সরকারের নেতৃত্বে বিগত আড়াই দশকের ‘অপশাসনের’ কথা। সেই প্রসঙ্গেই তিনি ‘চলো পাল্টাই’ স্লোগানকে সামনে রেখে এহেন মন্তব্য করেন।

আগরতলা বিমান বন্দর থেকে ৮৬ কিমি দূরে সোনামুড়ার নির্বাচনী জনসভায় তিনি বলেন, তাঁর সরকার ক্ষমতায় এসেই  উত্তর-পূর্ব ভারতের উন্নয়নে মনোনিবেশ করেছে। ‘কিন্তু বাম অপশাসনের জেরেই ত্রিপুরার মানুষের জীবনযাত্রার উন্নয়ন ঘটেনি। সারা দেশ এগিয়ে চলেছে, অথচ বাম রাজত্ব ত্রিপুরা তার বাইরে থেকে গিয়েছে’, মন্তব্য মোদীর।

রাজ্যের যুব সম্প্রদায়ের দৃষ্টি আকর্ষণে মোদী তাঁর নিজস্ব ঢঙেই বক্তব্য পেশ করেন। তিনি বলেন, ত্রিপুরায় বেকারের সংখ্যা বেড়েই চলেছে। ফলে এ বারের ভোট মোটেই সিপিএমের বিরুদ্ধে বিজেপির প্রতিদ্বন্দ্বিতা নয়। আগামী ১৮ ফেব্রুয়ারি ভোট বাক্সে লড়াই হবে সিপিএম বনাম ত্রিপুরার বেকার যুব সম্প্রদায়ের। দেশের ভবিষ্যৎ নিহিত রয়েছে যুব সম্প্রদায়ের মধ্যেই। কিন্তু বাম সরকার কোনো রকমের কর্ম সংস্থানের ব্যবস্থা না করে তাদের দলদাসে পরিণত করার চেষ্টা চালিয়ে গিয়েছে টানা ২৫ বছর ধরে। এ বারের নির্বাচনে সেই প্রক্রিয়া আর কাজ করবে না। এখনকার যুবক-যুবতীরা অনেক বেশি সচেতন।

বেকারদের পাশাপাশি সরকারি কর্মচারিদের উদ্দেশ্যে তিনি বলেন, সারা ভারতে সপ্তম পে কমিশনের সুপারিশ মতো বেতন পাচ্ছেন সরকারি কর্মীরা। অথচ আশ্চর্য জনক ভাবে ত্রিপুরায় সেই সরকারি কর্মীরা এখনও চতুর্থ পে কমিশনের নির্ধারিত বেতন পাচ্ছেন।

‘চলো পাল্টাই’ স্লোগানের সুরেই তিনি বলেন, ‘আড়াই দশক ধরে বাম সরকার ত্রিপুরার মানুষকে সম্মোহিত করে রেখেছে। ফলে রাজ্যের মানুষ বুঝে উঠতে পারছেন না তাঁরা কতটা পিছনে পড়ে রয়েছেন। কিন্তু এখন পরিবর্তনের সময় এসেছে, রাজ্যে এবং রাজ্যের মানুষের ভবিষ্যতেরও পরিবর্তন হবে এ বারের ভোটে।’

মন্তব্য করুন

Please enter your comment!
Please enter your name here