স্ট্যাচু অফ ইউনিটি।

কেভাডিয়া (গুজরাত): এক রাশ বিতর্কের মধ্যেই বহু প্রতীক্ষিত ‘স্ট্যাচু অফ ইউনিটি’-এর উন্মোচন করলেন প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদী। বুধবার সকাল সাড়ে দশটা নাগাদ গুজরাতের নর্মদা জেলার কেভাডিয়ার সর্দার বল্লবভাই পটেলের এই বৃহত্তম মূর্তির উন্মোচন করেন মোদী।

১৮২ মিটার উঁচু এই মূর্তিকেই বিশ্বের উচ্চতম মূর্তি বলে দাবি করা হচ্ছে। তবে এই মূর্তি তৈরিতে বিতর্কও কিছু কম হয়নি। এমনকি এই মূর্তি উন্মোচনের আগে ১৬ জন আদিবাসী নেতাকে গ্রেফতার করেছে গুজরাত পুলিশ।

গুজরাত পুলিশের দাবি, নর্মদা জেলার বিভিন্ন প্রান্ত থেকে এই ১৬ জনকে গ্রেফতার করার কারণ তাঁরা বুধবার সকালে এই মূর্তি উন্মোচনের সময়ে কেভাডিয়ায় বিক্ষোভ দেখানোর পরিকল্পনা করেছিলেন।

যাঁদের গ্রেফতার করা হয়েছে তাঁরা প্রত্যেকেই বিলিস্তান টাইগার সেনা (বিটিএস) এবং ভারতীয় ট্রাইবাল পার্টির (বিটিপি) সদস্য।

সর্দার পটেলের এই মূর্তিকে ঘিরে অনেক দিন ধরেই নিজেদের ক্ষোভ জানিয়ে আসছিলেন নর্মদা জেলার আদিবাসীরা। কিছু দিন আগে তো আদিবাসীদের তরফ থেকে হুমকি দিয়ে বলা হয়, এই মূর্তি উন্মোচনে প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদী এলে তাঁকে কোনো ভাবেই স্বাগত জানানো হবে না।

statue-of-unity
১৮২ মিটার উঁচু এই মূর্তিকেই বিশ্বের উচ্চতম মূর্তি বলে দাবি করা হচ্ছে।

এই মূর্তি তৈরি করতে গিয়ে নষ্ট করা হয়েছে পরিবেশ, যার ওপরে এত দিন পর্যন্ত নির্ভরশীল ছিলেন এই অঞ্চলের মানুষজন, এমনই দাবি করে মোদীকে একটি চিঠি লেখেন কেভাডিয়া এবং সংলগ্ন ২২ গ্রামের সরপঞ্চরা। সেখানে হলা হয়, “এখানকার জঙ্গল, জলপ্রপাত, নদীর ওপরে আমরা এত দিন নির্ভরশীল ছিলাম। এই মূর্তি তৈরি করার জন্য সব কিছু ধ্বংস করা হচ্ছে। প্রকৃতিকে ধ্বংস করে এ ভাবে কিছু উদযাপন করা কি সত্যিই যুক্তিসংগত?”

আরও পড়ুন শিমলা থেকে শ্যামলা- হিন্দু রাজ্য হওয়া সত্ত্বেও হিন্দুত্ববাদী দলগুলির দাবি মানল না হিমাচল, কেন?

স্কুল, পানীয় জল, হাসপাতালের মতো পরিষেবার ব্যবস্থা না করে এ ভাবে একটা মূর্তির পেছনে এত টাকা খরচ করা কিছুতেই তাঁরা মেনে নেবেন না বলে সাফ জানিয়ে দেন এই সরপঞ্চরা।

এ ভাবে ১৬ জনকে গ্রেফতার করার জন্য রাজ্য সরকারকে একহাত নিয়েছে বিরোধী দল কংগ্রেস। মান্ডবীর কংগ্রেস বিধায়ক আনন্দ চৌধুরী বলেন, “বিক্ষোভ তো শান্তিপূর্ণ ভাবে হত। কেউ তো আইন নিজেদের হাতে নিত না। তা হলে সরকারের এত ভয় পাওয়ার কী আছে?”

এ দিকে এই মূর্তি উন্মোচনের প্রতিবাদে বুধবার বন্‌ধের ডাক দিয়েছে আদিবাসী অধ্যুষিত গুজরাতের সাড়ে পাঁচ হাজার গ্রাম।

মন্তব্য করুন

Please enter your comment!
Please enter your name here