নয়াদিল্লি: দুই বাংলার মধ্যে মৈত্রী সম্পর্ক আরও সুদৃঢ় করার আশা জাগিয়ে শনিবার রাষ্ট্রপতি ভবনে নৈশভোজে মিলিত হলেন বাংলাদেশের প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা এবং পশ্চিমবঙ্গের মুখ্যমন্ত্রী মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়। সীমান্তের দুই পারের মানুষের স্বার্থ ক্ষুণ্ণ না করে কী ভাবে তিস্তার জলবণ্টন সমস্যার সমাধান করা যায়, তা নিয়ে দুই নেত্রীর মধ্যে নৈশভোজে ও তার আগে আলোচনা হয়েছে বলে জানা গিয়েছে।

নৈশভোজের আগে শনিবার দুপুরে হায়দরাবাদ হাউজে প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদীর আমন্ত্রণে মধ্যাহ্নভোজে মিলিত হন শেখ হাসিনা এবং মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়। টাইমস অব ইন্ডিয়ার খবর, তিস্তার জল বেশি দেওয়ার সমস্যা কোথায় তা ওই বৈঠকে হাসিনাকে বুঝিয়ে বলেন মমতা।  মমতা নাকি প্রস্তাব দিয়েছেন, যে হেতু বাংলাদেশের আরও বেশি জলের প্রয়োজন, সে হেতু শুধু তিস্তাই নয়, উত্তরবঙ্গে আরও যে সব নদী আছে সেগুলির জল কী ভাবে দু’ দেশের মধ্যে ভাগ করা যায় তা খতিয়ে দেখা যেতে পারে। মুখ্যমন্ত্রী নাকি বলেছেন, বাংলাদেশকে তিস্তা থেকে বেশি জল দিলে উত্তরবঙ্গ  শুকিয়ে যাবে। সে ক্ষেত্রে তোর্ষার মতো নদী থেকে জল দেওয়া সহজ, কারণ এই অঞ্চলে তিনটি নদীব্যবস্থা আছে। 

শুধু জল নয়, ঢাকাকে আরও অনেক কিছু দেওয়ার পরিকল্পনা আছে মমতার। কারণ তিনি জানেন, যে দেশের সঙ্গে তাঁর রাজ্যের সুদীর্ঘ সীমান্ত রয়েছে, সেই দেশকে রসেবশে রাখাও একান্ত জরুরি। তাই শেখ হাসিনা এবং নরেন্দ্র মোদীর সঙ্গে বৈঠকে মমতা বাংলাদেশকে বিদ্যুৎ দেওয়ার প্রস্তাব করেন। মমতা জানান, পশ্চিমবঙ্গে বাড়তি বিদ্যুৎ রয়েছে এবং তাঁরা সেই বিদ্যুৎ ঢাকাকে বিক্রি করতে চান। মোদীর সামনেই হাসিনাকে এই প্রস্তাব দেন মমতা এবং মোদী তাতে সঙ্গে সঙ্গে সম্মতি জানান।

শেখ হাসিনার জন্য কলকাতা থেকে বালুচরী  শাড়ি, রসগোল্লা নিয়ে যান মমতা। ও দিকে মমতার জন্য বাংলাদেশ থেকে হাসিনা নিয়ে এসেছেন বেনারসি শাড়ি, ইলিশ মাছ, কালো জাম, রসগোল্লা ও মিষ্টি দই।  

এ দিকে শনিবার থেকেই কলকাতা-খুলনা-ঢাকা বাস চলাচল শুরু হল। সকালে নবান্নর সামনে থেকে ওই বাসযাত্রার সূচনা করেন রাজ্য মন্ত্রিসভার সদস্যারা। শুরু হল রেলপথে নিয়মিত যোগাযোগের ব্যবস্থাও। ।  

শনিবার সকালে ভারত-বাংলাদেশের মধ্যে ২২টি চুক্তি স্বাক্ষরিত হয়েছে। বাংলাদেশকে ৪৫০ কোটি ডলার ঋণ দেওয়ারও ঘোষণা করেছেন প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদী। তিস্তা সমস্যার সমাধান দ্রুত মিটবে আশা প্রকাশ করলেও, এই নিয়ে শেখ হাসিনাকে সুনির্দিষ্ট কোনো জবাব দিতে পারেননি মোদী। বৈঠকের পরে এক সাংবাদিক সম্মেলনে তিনি বলেন, “পশ্চিমবঙ্গের মুখ্যমন্ত্রীকে অতিথি হিসাবে পেয়ে আমি খুব খুশি। বাংলাদেশবাসীদের প্রতি তাঁর যতটা উষ্ণ ভালোবাসা রয়েছে, আমারও ঠিক ততটাই। আমি আপনাকে এবং বাংলাদেশের জনগণকে আশ্বাস দিচ্ছি তিস্তা সমস্যার সমধানে আমরা উদ্যোগী। একমাত্র আপনার এবং আমার সরকারই তিস্তা জলবণ্টন সংক্রান্ত সমস্যার দ্রত সমাধান বের করতে পারবে।” বাংলাদেশের প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা আশা প্রকাশ করে বলেন, “তিস্তা সমস্যার সমাধানে ভারত সহযোগিতা করবে।” 

 

 

 

যৌথ সাংবাদিক বৈঠকে ঘুরে ফিরে আসে সন্ত্রাস প্রসঙ্গ। যে ভাবে বাংলাদেশের প্রধানমন্ত্রী ‘শক্ত হাতে’ সন্ত্রাসবাদের মোকাবিলা করছেন তার প্রশংসা করেন নরেন্দ্র মোদী। এই প্রথম ভারতের থেকে ৫ কোটি ডলারের সামরিক যন্ত্রপাতি কিনবে বাংলাদেশ। সেই নিয়ে শনিবার একটি চুক্তি স্বাক্ষরিত হয়েছে।

 

মন্তব্য করুন

Please enter your comment!
Please enter your name here