ভোট পরিচালনা পদ্ধতির আদলে দ্রুত টিকাকরণের সওয়াল করলেন প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদী

0

খবর অনলাইন ডেস্ক: প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদীর (Narendra Modi) সভাপতিত্বে কোভিড পরিস্থিতির পর্যালোচনায় শনিবার বৈঠকে বসল উচ্চ-পর্যায়ের কমিটি। এই বৈঠকে নাগরিকদের দ্রুত টিকাকরণের সওয়াল করলেন প্রধানমন্ত্রী।

মোদী বলেন, দৈনিক কোভিড-১৯ (Covid-19) আক্রান্তের সংখ্যায় স্পষ্ট অবনমন ধরা পড়ছে। অন্যদিকে মৃত্যুহার কমে, ক্রমশ বেড়ে চলেছে সুস্থতার হার। গত তিন সপ্তাহ ধরে এই প্রবণতা বজায় রয়েছে। এমন পরিস্থিতিতে ভ্যাকসিন এক বার হাতে এসে গেলেই দ্রুত টিকাকরণের পরিকল্পনা বাস্তবায়িত করা হবে এবং সেটা নির্বাচন পরিচালনা পদ্ধতির আদলেই করতে হবে।

এ দিন উচ্চ-পর্যায়ের এই বৈঠকে প্রধানমন্ত্রী ছাড়াও অংশ নিয়েছিলেন কেন্দ্রীয় স্বাস্থ্যমন্ত্রী ডা. হর্ষ বর্ধন (Dr. Harsh Vardhan) এবং নীতি আয়োগের (NITI Aayog) সদস্য-সহ কেন্দ্রের অন্যান্য উচ্চপদস্থ আধিকারিকরা।

কী বললেন প্রধানমন্ত্রী?

বৈঠকের পর সরকারি ভাবে একটি সাংবাদিক বিজ্ঞপ্তিতে জানানো হয়, “প্রধানমন্ত্রী মোদী পরামর্শ দিয়েছেন যে নির্বাচন পরিচালনার আদলে ভ্যাকসিন বিতরণ ব্যবস্থা তৈরি করা উচিত”।

বিবৃতিতে বলা হয়, “ভারতে তৈরি তিনটি সম্ভাব্য ভ্যাকসিন আশাব্যঞ্জক অবস্থানে রয়েছে। এগুলির মধ্যে দু’টির দ্বিতীয় পর্যায় এবং একটির তৃতীয় পর্যায়ের পরীক্ষামূলক প্রয়োগ চলছে। ভারতীয় বিজ্ঞানী এবং গবেষকরা আফিগানিস্তান, ভুটান, বাংলাদেশ, মলদ্বীপ, মরিশাস, নেপাল এবং শ্রীলঙ্কার মতো দেশগুলিকে সহযোগিতা করছেন। পাশাপাশি বাংলাদেশ, মায়ানমার, কাতার এবং ভুটান থেকে তাদের দেশে ক্লিনিকাল ট্রায়ালের জন্য অনুরোধও এসেছে”।

টিকাকরণ পরিকল্পনার রূপরেখা সম্পর্কে “উৎপাদন, সরবরাহ-সহ প্রতিটি বিষয়ে প্রশাসনের কঠোর পদক্ষেপের উপর জোর দেন প্রধানমন্ত্রী। এর মধ্যে অবশ্যই কোল্ড স্টোরেজ চেনের উন্নত পরিকল্পনা, বিতরণ নেটওয়ার্ক, তদারকি ব্যবস্থা, অগ্রিম মূল্যায়ন এবং প্রয়োজনীয় আনুষঙ্গিক সরঞ্জাম যেমন, ভ্যাকসিনের আধার, সিরিঞ্জ ইত্যাদির প্রস্তুতিকেও অন্তর্ভুক্ত রাখতে হবে” বলে জানানো হয় সরকারি বিবৃতিতে।

৪৮ ঘণ্টা পর দ্বিতীয় বৈঠক!

গত বৃহস্পতিবারেও কোভিড পরিস্থিতি পর্যালোচনায় বৈঠকে বসেন প্রধানমন্ত্রী। ৪৮ ঘণ্টা পর ফের একই ধরনের বৈঠকে অংশ নিলেন তিনি। বৃহস্পতিবারের বৈঠকেও ভ্যাকসিন সরবরাহে মনোনিবেশ করেছিলেন প্রধানমন্ত্রী। ভ্যাকসিন মজুতের জন্য তিনি প্রযুক্তির উপর জোর দেওয়ার পরামর্শ দিয়েছিলেন। উল্লেখ্য, শনিবার সকালে স্বাস্থ্যমন্ত্রক জানায়, টানা ৪৬ দিন পর ভারতে এখন সক্রিয় কোভিডরোগীর সংখ্যা আট লক্ষের নীচে নেমে এসেছে।

গত দেড় মাসের মধ্যে এই প্রথম বার ভারতে সক্রিয় রোগীর সংখ্যা ৮ লক্ষের নীচে নেমে এসেছে। গত ২৪ ঘণ্টায় নতুন করে আক্রান্ত হয়েছেন ৬২ হাজার ২১২ জন। বর্তমানে ভারতে মোট রোগী ৭৪ লক্ষ ৩২ হাজার ৬৮০ জন। বিস্তারিত পড়ুন এখানে: করোনার অভূতপূর্ব শিখর অতিক্রম করেছে ভারত: কেন্দ্রীয় স্বাস্থ্য মন্ত্রক

অগ্রাধিকার ৩০ কোটির!

জানা গিয়েছে, ভারত সরকার অগ্রাধিকারের ভিত্তিতে ৩০ কোটি মানুষ, বিশেষত করোনার ঝুঁকি রয়েছে এবং বয়স্ক, এমন গোষ্ঠীকে শনাক্ত করার কাজ শুরু করেছে।

এই অতিমারির যুদ্ধে যাঁরা একেবারে সামনে থেকে লড়াই করছেন- যেমন স্বাস্থ্যকর্মী, পুলিশ, নিকাশিকর্মী এবং কো-মর্বিডিটি রয়েছে এমন বয়স্ক মানুষেরা টিকাকরণে অগ্রাধিকার পাবেন। বিস্তারিত পড়ুন এখানে: অগ্রাধিকারের ভিত্তিতে টিকাকরণে ৩০ কোটি মানুষকে শনাক্ত করছে সরকার

খবরের সব আপডেট পড়ুন খবর অনলাইনে। লাইক করুন আমাদের ফেসবুক পেজ। সাবস্ক্রাইব করুন আমাদের ইউটিউব চ্যানেল

বিজ্ঞাপন