নয়াদিল্লি: কালো টাকা উদ্ধারের জন্য পুরোনো ৫০০ ও ১০০০ টাকার নোট বাতিলের সিদ্ধান্ত ঘোষণা করে দেশবাসীর কাছে পরিস্থিতি স্বাভাবিক হওয়ার জন্য ৫০ দিন সময় ছেয়েছিলেন প্রধানমন্ত্রী। সেটা ছিল ৮ নভেম্বর সন্ধ্যা। ৫৩ দিনের মাথায় ফের জাতির উদ্দেশে ভাষণ দিলেন মোদী। কিন্তু টাকা তোলার লাইন কবে শেষ হবে বা টাকা তোলার ঊর্ধ্বসীমা কবে দূর হবে, সে সব কোনো প্রশ্নেরই জবাব পেলেন না সাধারণ মানুষ। শুধু বললেন,  যতটা তাড়াতাড়ি সম্ভব পরিস্থিতি যাতে স্বাভাবিক হয়, সে ব্যাপারে সরকার সচেষ্ট এবং ব্যাঙ্কগুলিকে উদ্যোগী হতে বলেছেন।

কালো টাকার বিরুদ্ধে দেশবাসী ৫০ দিন ধরে যে ‘আত্মত্যাগ’ স্বীকার করেছে এবং ‘ধৈর্যের’ পরিচয় দিয়েছে, সে জন্য তাদের বহুবার ধন্যবাদ দিলেন। এর ফলে ভারতের জন্য যে ‘উজ্জ্বল ভবিষ্যৎ’ অপেক্ষা করে আছে, তাও বললেন। কিন্তু কত কালো টাকা উদ্ধার হল কিংবা ৮ নভেম্বরের আগে দেশে যে পরিমাণ পুরোনো ৫০০ ও ১০০০ টাকার নোট ছিল, তার পুরোটা ব্যাঙ্কে এল কি না, তাও  জানালেন না। যদিও বললেন, ব্যাঙ্কে যে পরিমাণ টাকা এসেছে, তা এর আগে কখনো ব্যাঙ্কে আসেনি। সেই টাকা দিয়ে যাতে ব্যাঙ্কগলি গরিব ও নিম্নবিত্তদের সাহায্য করে, তার জন্য ব্যাঙ্কগুলিকে অনুরোধও জানালেন।

বস্তুত প্রধানমন্ত্রীর এদিনের ভাষণের বেশিরভাগটা জুড়েই ছিল নীতি কথা।

ভাষণের পরের দিকটায় অবশ্য নানারকম প্রকল্প ঘোষণা করেন প্রধানমন্ত্রী। সাধারণত বার্ষিক বাজেট পেশ করার সময় অর্থমন্ত্রীরা যে ধরনের প্রকল্প ঘোষণা করে থাকেন, সেগুলো বাজেট পেশের এক মাস আগে মোদী নিজেই ঘোষণা করে দিলেন। তার মধ্যে প্রধানমন্ত্রী আবাস যোজনায় শহরে বাড়ি করলে ৯ লক্ষ টাকা পর্যন্ত ঋণে ৪ শতাংশ ছাড়, ১২ লক্ষ টাকা পর্যন্ত ঋণে ৩ শতাংশ ছাড় এবং গ্রামাঞ্চলে বাড়ির ক্ষেত্রে ২ লক্ষ টাকা পর্যন্ত ঋণে ৩ শতাংশ ছাড়ের ঘোষণা থাকল।

থাকলো রবি শস্যের জন্য কৃষকরা যে ঋণ নিয়েছেন, তাদের দায়িত্ব ৬০ দিন পর্যন্ত সরকার নেবে, এই ঘোষণা।

ছোটো ও মাঝারি ব্যবসায়ীদের ক্রেডিট গ্যারান্ট ১ কোটি টাকা থেকে বাড়িয়ে ২ কোটি করার কথাও জানান প্রধানমন্ত্রী।

এছাড়া দেশের সব জেলায় গর্ভবর্তী মহিলাদের প্রসব, টিকাকরণ ও পুষ্টির জন্য তাদের অ্যাকাউন্টে  ৬০০০ টাকা দেওয়া হবে, এমনটাও জানানো হল।

প্রবীণ নাগরিকদেরও খুশি করার চেষ্টা করেছেন মোদী। যাদের ব্যাঙ্কে সাড়ে সাত লক্ষের কম টাকা আছে, তাদের সুদের হার আগামী দশ বছর ৮ শতাংশ-র থেকে কমবে না বলেও এদিন জানিয়েছেন প্রধানমন্ত্রী।

এদিন প্রধানমন্ত্রী ক্যাশলেস অর্থনীতির কথা বলেননি। বলেছেন নগদ ও ডিজিটাল লেনদেনে ভারসাম্য রাখার কথা।

সব মিলিয়ে, পরিস্থিতির পরিবর্তন কবে হবে, সে বিষয়ে কোনো দিশা ছাড়াই শেষ হয় নরেন্দ্র মোদীর ভাষণ। শুধু জানা গেল, জনগণ দুর্নীতির বিরুদ্ধে যে লড়াই করে চেলেছেন, তা অভূতপূর্ব। সঙ্গে বাজেট পেশের এক মাস আগেই জেনে নেওয়া গেল তার অংশবিশেষ। অরুণ জেটলির কাজ কমল।

মন্তব্য করুন

Please enter your comment!
Please enter your name here