Narendra Modi

ওয়েবডেস্ক: আরে ভাই, রাজনীতিতে সবই সম্ভব। যেখানে বাবার প্রতিদ্বন্দ্বী হয়ে ওঠেন ছেলে! তাতে ভাই তো অনেক পরে!

তিনি না কি আগামী লোকসভা ভোটে কেন্দ্রের শাসক দল বিজেপির বিরোধী জোটকেই সমর্থন করছেন! এমনকী বিজেপি-বিরোধী প্রচারে নামতে কলকাতায় তৃণমূলের একটি সভাতেও অংশ নিতে চলেছেন। বিগত কয়েক দিন ধরে প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদীর ভাই প্রহ্লাদ মোদীকে নিয়ে এমন সব খবরই উড়ে বেড়াচ্ছিল, বিভিন্ন সংবাদ মাধ্যমে বড়োসড়ো জায়গা করেও নিচ্ছিল। কিন্তু তিনি যে কোনো মতেই দাদার বিরুদ্ধাচারণ করবেন ন, সে কথা সাফ জানিয়ে দিয়েছেন। পাশাপাশি তাঁকে নিয়ে এ ধরনের প্রচার কানে পৌঁছাতে যথেষ্ট ক্ষুব্ধও হয়েছেন।

একটি সংবাদ মাধ্যমকে দেওয়া সাক্ষাৎকারে প্রহ্লাদ দাবি করেছেন, ‘আমাকে শিখণ্ডী বানিয়ে কেউ কেউ দাদা-ভাইয়ের সম্পর্কে ফাটল ধরাতে চাইছেন। কিন্তু নরেন্দ্র ভাইয়ের সঙ্গে আমার সম্পর্ক অটুট। জীবনের শেষ রক্তবিন্দু পর্যন্ত আমি দাদাকেই সমর্থন করব।’

তা হলে তিনি যখন রক্তকণার দিব্যি গালছেন, তখন কেন তাঁর নাম জড়িয়ে এমনতরো প্রচার?

প্রহ্লাদ সর্বভারতীয় রেশন ডিলার সংগঠন অল ইন্ডিয়া ফেয়ার প্রাইস শপ ওনার্স ফেডারেশনের সহ-সভাপতি। ওই সংগঠনের পশ্চিমবঙ্গ শাখার নেতারা রাজ্যের শাসক দলকে সরাসরি সমর্থনের কথা জানিয়েছেন। সহ-সভাপতিরও দাবি, এটা ই স্বাভাবিক। কিন্তু এ ব্যাপারে তাঁর কোনো ভূমিকা নেই। কলকাতায় এ ধরনের সিদ্ধান্ত গ্রহণ করা হলেও তিনি এ ব্যাপারে বিন্দুবিসর্গ জানেন না।

পাশাপাশি তিনি ঊষ্মা প্রকাশ করে বলেছেন, ‘এখন দেখছি, দাদা-ভাইয়ের সম্পর্কে ফাটল ধরাতে ষড়যন্ত্র চলছে কলকাতায়।’

রাজনীতির কারবারিদের যুক্তি, প্রহ্লাদ এর আগেও মোদী সরকারের বিরুদ্ধে একাধিক বার তোপ দেগেছেন। মন্ত্রিসভাতেও নাক গলিয়েছেন। কেন্দ্রীয় মানবসম্পদ উন্নয়নমন্ত্রী থাকাকালীন স্মৃতি ইরানির শিক্ষাগত যোগ্যতা যাচাইয়ের দাবি তুলে বিতর্ক উসকে দিয়েছিলেন। ফলে তাঁর সংগঠনের কোনো এক শাখা যখন দাদার দলের বিরুদ্ধে ভোট দেওয়ার আহ্বান জানায়, সে সিদ্ধান্ত থেকে তিনি সম্পর্কের খাতিরে হাত ধুয়ে ফেললেও রাজনৈতিক ভাবে দায় এড়াতে পারেন কি? তা ছাড়া সর্বভারতীয় সভাপতি রাজ্য শাখার সিদ্ধান্ত সম্পর্কে জানেন না বললে আর শুনছে কে?

মন্তব্য করুন

Please enter your comment!
Please enter your name here