শিলচরে অপদস্থ শ্রীজাত, কলকাতায় ফিরে বললেন অসহিষ্ণু আবহ অসমে

0
srijato

অরূপ চক্রবর্তী, গুয়াহাটি: একটি বেসরকারি সামাজিক ও সাংস্কৃতিক সংগঠনের আমন্ত্রণে শিলচর এসে দস্তুরমতো অপদস্থ হতে হল খ্যাতনামা কবি শ্রীজাতকে। তিনি যে হোটেলে উঠেছিলেন সেই রিয়া প্যালেসে ভাঙচুর চালাল কতিপয় স্বঘোষিত হিন্দুত্ববাদী যুবক। হিন্দুদের আরাধ্য দেবতা শিবকে নিয়ে শ্রীজাত যে কবিতা লিখেছিলেন সেই কবিতার রেশ ধরেই এই আক্রমণ বলে ধারণা। উচ্ছৃঙ্খল যুবকদলের হামলার খবর পেয়ে পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে ঘটনাস্থলে ছুটে আসতে হয় অতিরিক্ত পুলিশ সুপার রাকেশ রেড্ডিকে। উত্তেজিত যুবকদের ছোড়া ঢিলে রিয়া প্যালেসের জানালার গ্লাস ভেঙেছে বলে জানা গিয়েছে। রবিবার কলকাতায় ফিরে কবি বলেন, অসহিষ্ণু আবহ অসমে।

আরও পড়ুন আবার আনা হল তিন তালাক বিরোধী অর্ডিন্যান্স! কী কী পরিবর্তন করা হল?

শিলচরের সাহিত্যপ্রেমী ক’জন যুবক মিলে ‘এসো বলি’ নামের এক সংস্থার জন্ম দেন। এই সংস্থার উদ্যোক্তা সব্যসাচী রুদ্রগুপ্ত, শান্তনু সূত্রধর, দেবস্মিতা বিশ্বাস, শিবন দাস প্রমুখ। তাঁদের আমন্ত্রণে শিলচর আসেন কবি শ্রীজাত। শনিবার রাত ৮টায়  ছিল উদ্বোধনী অনুষ্ঠান। যথারীতি শুরু হয় অনুষ্ঠান। অনুষ্ঠান চলাকালীন সভাগৃহে প্রবেশ করে ক’জন ব্যক্তি। তারা এসেই কবি শ্রীজাতর সঙ্গে দেখা করার আগ্রহ প্রকাশ করে। কথা শুরু হয় ঠিকঠাক। কিন্তু তারা হঠাৎ ভগবান শিব নিয়ে ব্যঙ্গাত্মক কবিতা কেন লিখেছেন বলে শ্রীজাতর কৈফিয়ত তলব করে বসে। এতে সভা উত্তপ্ত হয়ে ওঠে। যুবকরা কবিকে অপদস্থ করছে দেখে উদ্যোক্তাদের তরফে তাদের সভাস্থল থেকে চলে যাওয়ার নির্দেশ দেওয়া হয়।

Loading videos...

প্রবীণ সাংবাদিক অরিজিৎ আদিত্য বলেন, এই শহরে কবির অপমান উচিত নয়। শ্রীজাতকে হেনস্থা করা হলে কলকাতায় এর বিরূপ প্রভাব পড়তে পারে। তিনি সবাইকে শান্ত করার চেষ্টা করেও ব্যর্থ হন। এ দিকে চলে যাওয়ার নির্দেশ ওই যুবকরা সভাগৃহ থেকে বেরিয়ে এসে রিয়া প্যালেসের বাইরে বিক্ষোভ দেখাতে শুরু করে। ঠিক এ সময় আরও কিছু যুবক জমায়েত হয় রিয়া প্যালেসের সামনে। উত্তেজনার পারদ বাড়তে থাকে এবং এক সময় শুরু হয় হোটেল লক্ষ করে ঢিল ছোড়া। খবর পেয়ে অতিরিক্ত পুলিশ সুপার রাকেশ রেড্ডি ঘটনাস্থলে ছুটে আসেন। তিনি উত্তেজিত যুবকদের বুঝিয়ে শান্ত করার চেষ্টা করেন কিন্তু তাদের একটাই দাবি। হিন্দুদের ভাবাবেগে আঘাত দেওয়ার জন্য শ্রীজাতকে ক্ষমা চাইতে হবে। কিন্তু শ্রীজাত ক্ষমা চাইতে অস্বীকার করেন বলে জানা গিয়েছে। বাধ্য হয়ে পুলিশ বলপ্রয়োগ করে উচ্ছৃঙ্খল যুবকদের ছত্রভঙ্গ করে।

demonstration against poet
কবির বিরুদ্ধে বিক্ষোভ। নিজস্ব চিত্র।

এ দিকে এই ঘটনার প্রতিবাদের ঝড় উঠেছে বুদ্ধিজীবী ও সাহিত্যমহলে। তবে আরেকটা অংশ শ্রীজাতর সমালোচনা করছে। রবিবার সকালে পুলিশি নিরাপত্তায় শ্রীজাত শিলচর থেকে কলকাতা অভিমুখে রওনা দেন। তবে সকালের দিকে বিজেপির সমর্থক কিছু লোক শিলচর আবর্ত ভবন ঘেরাও করার চেষ্টা করে যদিও পুলিশের বাধায় তা হয়ে ওঠেনি। সংবাদ মাধ্যমে খবর পশ্চিমবঙ্গের মুখ্যমন্ত্ৰী মমতা বন্দ্যোপাধ্যায় শনিবার রাতেই শিলচরে ফোন করে খবর নিয়ে কবির নিরাপত্তাব্যবস্থার খবর নেন এবং ঘটনার ধিক্কার জানান।

রবিবার কলকাতায় শ্ৰীজাত কলকাতায় পৌঁছোলে তাঁকে পুলিশি নিরাপত্তায় বাড়িতে পৌঁছে দেওয়া হয়। তিনি সেখানে সাংবাদিকদের বলেন, অসমের পরিস্থিতি ভয়াবহ। চার পাশে অসহিষ্ণু আবহ। পশ্চিমবঙ্গের পরিস্থিতি অনেক ভালো বলে দাবি করেন। তিনি বলেন, গোটা দেশে নৈরাজ্যের পরিবেশ তৈরি হয়েছে। মুক্ত চিন্তার কোনো অবকাশ নেই। বিশিষ্ট কবি শঙ্খ ঘোষ সাহিত্যিক শীৰ্ষেন্দু মখোপাধ্যায়, সুবোধ সরকার, জয় গোস্বামী প্ৰমুখ কবিরা শ্রীজাতকে অপদস্থ করার ঘটনার তীব্ৰ সমালোচনা করেছেন।

খবরের সব আপডেট পড়ুন খবর অনলাইনে। লাইক করুন আমাদের ফেসবুক পেজ। সাবস্ক্রাইব করুন আমাদের ইউটিউব চ্যানেল

বিজ্ঞাপন