cold blast usa

ওয়েবডেস্ক: সুমেরু অঞ্চলের কোল্ড-ব্লাস্টের জেরে কেঁপে যাচ্ছে মার্কিন যুক্তরাষ্ট্র। আর তার পরোক্ষ প্রভাব পড়ছে ভারতের ওপরেও। এমনই জানাচ্ছেন আবহাওয়া দফতরের আধিকারিকরা।

গত দু’সপ্তাহ ধরে সুমেরু কোল্ড ব্লাস্টের জারিজুরিতে জর্জরিত যুক্তরাষ্ট্র। দিন কয়েক হল ঠান্ডা আরও বেড়েছে। নিউ ইয়র্কে পারদ নেমেছে মাইনাস ২২-এ। মিনেসোটা, শিকাগোয় তাপমাত্রা নেমেছে মাইনাস ৩২-এ। গ্রেট লেকের মতো কিছু জায়গায় পারদ তো সব রেকর্ড ভেঙে দিয়ে হিমাঙ্কের ৬৫ ডিগ্রি নীচে নেমে গিয়েছে।

সুমেরু কোল্ড ব্লাস্টের জন্য মেরু অঞ্চলে তৈরি হওয়া নিম্নচাপ বলয়কে দায়ী করেছেন আবহাওয়া বিশেষজ্ঞরা। ‘পোলার ভোর্টেক্স’ নামক এই নিম্নচাপ বলয়ের প্রভাবে অতিরিক্ত ঠান্ডা বাতাস ঘিরে ধরেছে গোটা যুক্তরাষ্ট্রকে। এরই পরোক্ষ প্রভাবে সেই ঠান্ডা ব্রিটেন হয়ে চলে আসছে ভারতে।

কী ভাবে প্রভাব পড়ছে ভারতে?

আবহাওয়া দফতরের লং রেঞ্জ ফোরকাস্টিং-এর প্রধান ডি শিবানন্দ পাই বলেন, “পোলার ভোর্টেক্সের ফলে শীতল বাতাস ব্রিটেন এবং যুক্তরাষ্ট্রে চলে আসছে। এই শীতল বাতাস একের পর এক পশ্চিমী ঝঞ্ঝাকে ভারতের দিকে ঠেলছে। এই ঝঞ্ঝার পেছন পেছন দক্ষিণ ইউরোপের প্রবল ঠান্ডা চলে আসছে উত্তর ভারতে।” প্রসঙ্গত উল্লেখ্য, মঙ্গলবার রাজস্থানের চুরুতে তাপমাত্রা রেকর্ড করা হয়েছে মাইনাস ১.১। সমতলের কোনো জায়গায় তাপমাত্রা হিমাঙ্কের এতটা নীচে নেমে যাওয়ার ঘটনা বেশ বিরলই বলে মনে করছেন আবহাওয়াবিদেরা।

পশ্চিমী ঝঞ্ঝার বাড়বাড়ন্ত
বরফে ঢাকা মুন্সিয়ারি।

দিল্লির আঞ্চলিক আবহাওয়া কেন্দ্রের ডিরেক্টর বিপি যাদবের কথায়, জানুয়ারিতে সাধারণত চারটে থেকে ছ’টা পশ্চিমী ঝঞ্ঝা ভারতে হানা দেয়। কিন্তু এ বার সেই সংখ্যাটা ৭। বেশির ভাগ ঝঞ্ঝাই যথেষ্ট শক্তিশালী।

এমনকি ২১ থেকে ২৮ জানুয়ারি পর্যন্ত কাশ্মীর, হিমাচল এবং উত্তরাখণ্ডের পাহাড়ে প্রতি দিন তুষারপাত হয়েছে। এমন ঘটনাও খুব একটা ঘটে না বলে জানাচ্ছেন আবহাওয়াবিদেরা।

আরও পড়ুন পারদ কিছুটা বাড়লেও, শীতের দাপট অব্যহত গোটা রাজ্যে

জানুয়ারির শেষ পশ্চিমী ঝঞ্ঝাটি ইতিমধ্যেই উত্তর ভারতে প্রভাব ফেলতে শুরু করে দিয়েছে। এর প্রভাবে আরও একপ্রস্থ ভারী তুষারপাত হতে পারে। এই ঝঞ্ঝা কেটে গেলে আবার প্রবল শীতের জালে জড়াতে পারে উত্তর ভারত।

শীতের পূর্বাভাস ভুল?

উল্লেখ্য, শীত কেমন পড়বে দেশে, সেই ব্যাপারে গত ডিসেম্বরে লং রেঞ্জ ফোরকাস্ট প্রকাশ করেছিল আবহাওয়া দফতর। সেখানে বলা হয়েছিল, এ বার শীতে গড় তাপমাত্রা স্বাভাবিকের থেকে কিঞ্চিৎ বেশিই থাকবে। কিন্তু সেই পূর্বাভাস মেলেনি। আবহাওয়াবিদদের সমস্ত হিসেব গড়বর করে দিয়েছে এই পোলার ভোর্টেক্স।

তবে শিবানন্দ পাই বলেন, “সব সময়ে লং রেঞ্জ ফোরকাস্টে এই ধরনের ঘটনা ধরা যায় না। তাই এই পূর্বাভাস দেওয়া সম্ভব হয়নি। কিন্তু এখন আমরা চার-সপ্তাহের যে পূর্বাভাস প্রকাশ করি, সেখানে জানিয়ে দিই যে টানা শীতের প্রভাব থাকবে উত্তর ভারতে।”

সব মিলিয়ে এখনই এই শীতের দাপট থেকে মুক্ত হওয়ার কোনো সম্ভাবনা নেই উত্তর ভারতের। পশ্চিমী ঝঞ্ঝার হানা দেওয়া জারি থাকবে, এবং সেটা কাটলেই বাড়বে ঠান্ডা। তার পরোক্ষ প্রভাব কিন্তু এ রাজ্যেও এসে পড়বে।

একটি উত্তর ত্যাগ

Please enter your comment!
Please enter your name here