বিজেপি নেতাদের গুণ্ডামির বিরুদ্ধে রুখে দাঁড়ানোর শাস্তি, উত্তরপ্রদেশে বদলি মহিলা পুলিশ অফিসার

0
297

বুলন্দশহর (উত্তরপ্রদেশ): তাঁর অপরাধ, সপ্তাহখানেক আগে তিনি স্থানীয় বিজেপি নেতাদের গুণ্ডামির বিরুদ্ধে রুখে দাঁড়িয়েছিলেন, পাঁচ জনকে জেলেও পাঠিয়েছিলেন। সেই ‘অপরাধ’-এ বদলি করা হল তাঁকে। তিনি বুলন্দশহর জেলার সিয়ানা সার্কেলের পুলিশ অফিসার শ্রেষ্ঠা ঠাকুর।

ঘটনাটি ২২ জুনের। স্থানীয় বিজেপি নেতা প্রমোদ লোধির কাছে তাঁর গাড়িসংক্রান্ত নথি দেখতে চান কর্তব্যরত ট্র্যাফিক পুলিশ। কিন্তু সঠিক নথি না থাকায়, তাঁর ২০০ টাকার জরিমানা করে পুলিশ। জরিমানার প্রতিবাদে এলাকা জুড়ে হম্বিতম্বি শুরু করে বিজেপি কর্মীরা। এর পরই পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে আনতে ঘটনাস্থলে আসেন সার্কেল অফিসার শ্রেষ্ঠা ঠাকুর। তখন তাঁর ওপর কার্যত তর্জন-গর্জন শুরু করে বিজেপি কর্মী-সমর্থকরা।

কিন্তু বিজেপি কর্মীদের হুমকির মুখেও নিজের কর্তব্য থেকে পিছিয়ে আসেননি ওই পুলিশ অফিসার। প্রমোদ তো বটেই, গণ্ডগোল বাঁধানোর জন্য জেলে পাঠানো হয় আরও চার জনকে। এতেই আঁতে ঘা লাগে বিজেপি কর্মী-সমর্থকদের। যে পুলিশকে তারাই ‘শাসন’ করে, তাদের থেকে এ রকম ব্যবহার পেয়ে ‘অপমানিত’ হন কর্মী সমর্থকরা। অভিযোগ জানানো হয় মুখ্যমন্ত্রী যোগী আদিত্যনাথের কাছে।

এই ব্যাপারে মুখ্যমন্ত্রীর সঙ্গে বৈঠক করেন বিজেপির এগারো জন সাংসদ-বিধায়ক। বৈঠকে মুখ্যমন্ত্রীকে জানানো হয়, দলীয় কর্মীদের মনোবল বাড়ানোর জন্য ওই পুলিশ অফিসারের বিরুদ্ধে ব্যবস্থা নেওয়া জরুরি। এই ব্যাপারে কোনো রাখঢাক না রেখেই বুলন্দশহরের বিজেপি সভাপতি হিমাংশু মিত্তল বলেন, “ওই অফিসারের আচরণের ব্যাপারে আমরা হাইকমান্ডকে জানিয়েছিলাম। সাধারণ মানুষের সঙ্গে কী ভাবে ব্যবহার করতে হয়, সেই ব্যাপারে কিছুই জানেন না ওই অফিসার।”

বুলন্দশহর থেকে ভারেচে বদলি হয়ে যাওয়ার ব্যাপারে শ্রেষ্ঠা জানিয়েছেন, “এটা রুটিনমাফিক বদলি নাকি রাজনৈতিক কারণে বদলি সেটা আমি বলতে পারব না। কিন্তু এটা তো সত্যি যে আমার কোনো ব্যাচমেটের বদলি হয়নি।”

এক ক্লিকে মনের মানুষ,খবর অনলাইন পাত্রপাত্রীর খোঁজ

মতামত দিন

Please enter your comment!
Please enter your name here