ওয়েবডেস্ক: একবার নয়, দু-দুবার প্রণব মুখোপাধ্যায় আশা করেছিলেন তিনি প্রধানমন্ত্রী হবেন। প্রথমবার, ২০০৪ সালে প্রথম ইউপিএ সরকার গঠিত হওয়ার সময় আর দ্বিতীয়বার ২০১২ সালে রাষ্ট্রপতি নির্বাচনের আগে। আত্মজীবনীর তৃতীয় খণ্ড ‘কোয়ালিশন ইয়ারস’-এ লিখেছেন প্রণব।

পাশাপাশি প্রণব এও লিখেছেন, ২০০৪ সালে যখন মনমোহন সিং প্রধানমন্ত্রী হলেন, তখন তিনি মন্ত্রিসভায় যোগ দিতে চাননি। মনমোহনের অধীনে কাজ করার ব্যাপারে তাঁর অস্বস্তি ছিল। কারণ, ইন্দিরা গান্ধীর আমলে যখন প্রণব দেশের অর্থমন্ত্রী ছিলেন তখন মনমোহন ছিলেন রিজার্ভ ব্যাঙ্কের গভর্নর। অর্থাৎ সে সময় মনমোহন, প্রণবের অধীনস্থ ছিলেন।

আরও পড়ুন: আত্মজীবনীতে ‘বিদ্রোহী’ মমতাকে নিয়ে কী লিখলেন প্রণব

তবে মনমোহন যে একজন ‘অ্যাকসিডেন্টাল প্রাইম মিনিস্টার’, এই অভিযোগ প্রণব নস্যাৎ করে দিয়েছেন। তাঁর কথায়, “দৃঢ় জাতীয়তাবাদী, সাহসী এবং দৃঢ়চেতা মানুষ মনমোহন সিং কোনওমতেই ‘অ্যাকসিডেন্টাল প্রাইম মিনিস্টার’ নন। আমি নিশ্চিত ভবিষ্যৎ তাঁর ওপরে অন্যভাবে আলোকপাত করবে, এখন যেমন পিভি নরসিংহ রাওয়ের বিশ্লেষণ হচ্ছে”।

প্রণব লিখেছেন, ২০০৪ সালের ১৮ মে সনিয়া গান্ধী যখন প্রধানমন্ত্রী হওয়ার প্রস্তাব প্রত্যাখ্যান করলেন, তখন দল ও গণমাধ্যমে পরবর্তী প্রধানমন্ত্রীর নাম নিয়ে ব্যাপক চর্চা হচ্ছিল। “দলের মধ্যে এ ব্যাপারে সর্বসম্মতি ছিল যে, প্রধানমন্ত্রী একজন রাজনৈতিক নেতারই হওয়া উচিৎ, যার দলীয় বিষয় এবং প্রশাসনে যথেষ্ট অভিজ্ঞতা রয়েছে….(অনেকেরই) আশা ছিল, সনিয়া গান্ধী প্রত্যাখ্যান করার পর আমিই প্রধানমন্ত্রী হব”।

প্রণবের মতে ওই আশার কারণ ছিল, সরকারে কাজ করার ক্ষেত্রে তাঁর বিশাল অভিজ্ঞতা। অন্যদিকে মনমোহনের  বিস্তৃত অভিজ্ঞতা ছিল মূলত সরকারি চাকুরে হিসেবে এবং পাঁচ বছর সংস্কারপন্থী অর্থমন্ত্রী হিসেবে কাজ করার।

প্রণব জানিয়েছেন, মনমোহন প্রধানমন্ত্রী নির্বাচিত হওয়ার, সংবাদমাধ্যমে প্রচারিত হয় যে তিনি মনমোহনের অধীনে কাজ করতে চান না, তাই মন্ত্রিসভায় যোগ দেবেন না। এ কথা আত্মজীবনীতে মেনে নিয়েছেন প্রণব। বলেছেন, তিনি সে সময় মন্ত্রিসভায় যোগ দিতে অনিচ্ছুক ছিলেন এবং সে কথা সনিয়া গান্ধীকে জানিয়েও ছিলেন।

কিন্তু শেষ পর্যন্ত সনিয়ার চাপাচাপিতে তিনি মন্ত্রিসভায় যোগ দেন। কারণ, “সরকার পরিচালনার কাজে আমাকে অত্যন্ত্ প্রয়োজন এবং আমি মনমোহন সিং-কে সাহায্য করতে পারব। ফলে আমি সরকারে যোগ দিই এবং দেখা যায় সমস্ত গুরুত্বপূর্ণ বিষয়েই ড. সিং আমার সঙ্গে আলোচনা করছেন, যা থেকে বলা যেতে পারে তিনি আমার ওপর নির্ভর করেছিলেন। আমাদের দুজনের মধ্যে খুব ভালো কাজের সম্পর্ক গড়ে উঠেছিল”।

দ্বিতীয়বার প্রণবের মনে প্রধানমন্ত্রী হওয়ার আশা জাগে, রাষ্ট্রপতি হিসেবে নিজের মনোনয়ন পেশের দিনকতক আগে।

২০১২ সালে রাষ্ট্রপতি নির্বাচনের আগে সনিয়া গান্ধী দলীয় নেতাদের সঙ্গে রাষ্ট্রপতি পদের প্রার্থীর নাম নিয়ে আলোচনা চালাচ্ছিলেন। ২ জুন তিনি এ বিষয়ে প্রণবের সঙ্গেও আলোচনা করেন। সেদিনের আলোচনার শেষে প্রণবের “ভুল ধারণা হয় যে সনিয়া রাষ্ট্রপতি পদে প্রার্থী হিসেবে মনমোহনের নাম বিবেচনা করছেন”।

“আমি ভেবেছিলাম উনি(সনিয়া) যদি রাষ্ট্রপতি পদে মনমোহন সিং-কে নির্বাচন করেন, তাহলে নিশ্চয় প্রধানমন্ত্রী পদে আমাকেই পছন্দ করবেন। পরে একবার পাহাড়ে ছুটি কাটাতে গিয়ে আমি জানতে পেরেছিলাম, এই সম্ভাবনাটি নিয়ে তিনি সত্যিই খুব গুরুত্ব দিয়ে ভেবেছিলেন”, লিখেছেন প্রণব।

মন্তব্য করুন

Please enter your comment!
Please enter your name here