দু’বার প্রধানমন্ত্রীর কুর্সির একেবারে কাছাকাছি পৌঁছে গিয়েছিলেন প্রণব মুখোপাধ্যায়

0
Indira Gandhi and Pranab Mukherjee

খবরঅনলাইন ডেস্ক: বিভিন্ন সময়ে কেন্দ্রীয় রাজনীতির বিভিন্ন ভূমিকায় দেখা গিয়েছিল সোমবার প্রয়াত প্রাক্তন রাষ্ট্রপতি প্রণব মুখোপাধ্যায়কে। তবে এমনও ঘটনা ঘটেছে যে, একাধিক বার তাঁর সামনে প্রধানমন্ত্রীর কুর্সিতে বসার প্রবল সম্ভাবনা তৈরি হয়ে যায়। কিন্তু শেষমেষ তা বাস্তবায়িত হয়নি।

নিজের দীর্ঘ রাজনৈতিক জীবনে সাত বার সাংসদ হয়েছিলেন প্রণববাবু। ২০১২ সালে দেশের ত্রয়োদশ রাষ্ট্রপতি হওয়ার আগে ওই লম্বা রাজনৈতিক সফরে কখনও তিনি লোকসভায় কংগ্রেসের সংসদীয় দলের চিফ হুইপ আবার কখনও কেন্দ্রীয় মন্ত্রিসভার গুরুত্বপূর্ণ পদে উল্লেখযোগ্য ভাবে দায়িত্ব পালন করেন।

Loading videos...

রাজনৈতিক বিশ্লেষকরা বলেন, জীবনে দু’ বার প্রধানমন্ত্রী হওয়ার সম্ভাবনা তৈরি হয়েছিল তাঁর।

প্রথম বার, ১৯৮৪ সালে তৎকালীন প্রধানমন্ত্রী ইন্দিরা গান্ধীর হত্যার পর। বছর দুয়েক বাদে ১৯৮৬ সালে পশ্চিমবঙ্গে নিজের রাষ্ট্রীয় সমাজবাদী কংগ্রেস (আরএসসি) প্রতিষ্ঠা করেন প্রণব। তবে বছর তিনেক বাদে রাজীব গান্ধীর সঙ্গে সমঝোতার মাধ্যমে সেই দল কংগ্রেসে মিশে যায়।

দ্বিতীয় বার, ২০০৪ সালে প্রথম ইউপিএ জোট সরকার গঠিত হওয়ার সময় সনিয়া গান্ধী ‘অন্তরাত্মা’র টানে প্রধানমন্ত্রীপদ প্রত্যাখ্যান করার পর।

দু’ বারই সম্ভাবনা বাস্তবের মুখ দেখেনি। ইন্দিরা-হত্যার পর প্রধানমন্ত্রী হন রাজীব গান্ধী। অন্য দিকে ২০০৪ সালে প্রধানমন্ত্রী হন ড. মনমোহন সিং।

তবে বর্ণবহুল রাজনৈতিক পথে অবাধ বিচরণকারী প্রণববাবু দলের বিভিন্ন পদে দায়িত্ব পালন করে গিয়েছেন বেশ কয়েক দশক। রাষ্ট্রপতি ভবন ছাড়ার পর ২০১৮ সালে আরএসএসের অনুষ্ঠানে প্রধান অতিথি হয়ে যাওয়ার ঘটনা নিয়ে কংগ্রেসের অন্দরে তুমুল সমালোচনার মুখে পড়েন তিনি। যদিও তার পরেও বিজেপি-বিরোধী রাজনৈতিক দলের সঙ্গে তাঁর সখ্য একাধিক বার সংবাদ মাধ্যমের শিরোনাম হয়েছে।

এ ভাবেই নিজের গণতান্ত্রিক চেতনার ভিতকে বরাবরই সযত্নে আগলে রেখেছিলেন ভারতীয় রাজনীতির ‘চাণক্য’ প্রণব মুখোপাধ্যায়

এক নজরে স্বল্প পরিচিত পাঁচটি তথ্য

১. দক্ষিণ ২৪ পরগনার বিদ্যানগর কলেজে পলিটিক্যাল সায়েন্সের অধ্যাপক হিসেবে নিযুক্ত হন ১৯৬৩ সালে।

২. সক্রিয় রাজনীতিতে প্রবেশের আগে ‘দেশের ডাক’ নামে একটি বাংলা সংবাদপত্রে সাংবাদিকতাও করেছিলেন।

৩. ১৯৬৯ সালে সংসদীয় রাজনীতিতে প্রবেশ, ইন্দিরা গান্ধী তাঁকে দলের তরফে রাজ্যসভা সাংসদের টিকিট দেন।

৪. ১৯৮৪ সালে অর্থমন্ত্রীর পদ থেকে অপসারিত হন তিনি। আশ্চর্যজনক ভাবে ওই বছরই ইউরোমানি ম্যাগাজিনের সমীক্ষায় ‘বিশ্বের সেরা অর্থমন্ত্রী’র তকমা পান তিনি।

৫. রাষ্ট্রপতি থাকাকালীন ২৪টি প্রাণভিক্ষার আবেদন খারিজ করেন তিনি। যেগুলির মধ্যে ছিল ইয়াকুব মেমন, আজমল কাসব এবং আফজল গুরুর মতো বেশ কয়েক জনের আবেদন।

LEAVE A REPLY

Please enter your comment!
Please enter your name here

This site uses Akismet to reduce spam. Learn how your comment data is processed.