তলে তলে কংগ্রেসের ঘর ভাঙাচ্ছেন প্রশান্ত কিশোর? তৃণমূলে যোগ দেওয়ার পর দিনই ফাঁস করলেন গোয়ার প্রাক্তন মুখ্যমন্ত্রী

0

কংগ্রেস নেতাদের সঙ্গে আলোচনা করছেন আর তৃণমূলে যোগ দেওয়ার জন্য পরামর্শ দিচ্ছেন? পিকে-র ‘কীর্তিকলাপ’ ফাঁস করলেন গোয়ার প্রাক্তন মুখ্যমন্ত্রী!

নয়াদিল্লি: “হ্যাঁ, কয়েক দিন আগেই প্রশান্ত কিশোর এবং তাঁর আই-প্যাক টিম আমার সঙ্গে যোগাযোগ করেছিলেন”। বুধবার তৃণমূলে যোগ দেওয়ার পর দিন এমনটাই স্বীকারোক্তি গোয়ার প্রাক্তন মুখ্যমন্ত্রী লুইজিনহো ফালেইরোর। ও দিকে ২০২৪ লোকসভা ভোটে কংগ্রেসের ‘ভাগ্য পুনরুজ্জীবিত’ করতে আলোচনা চালিয়ে যাচ্ছেন প্রশান্ত কিশোর। স্বাভাবিক ভাবেই কংগ্রেস ছেড়ে লুইজিনহোর তৃণমূলে যোগ দেওয়ার ঘটনায় পিকে-র ভূমিকা নিয়েই প্রশ্ন তুলছে রাজনৈতিক মহল।

তাঁর তৃণমূলে যোগ দেওয়ার নেপথ্যে কি প্রশান্ত কিশোর অথবা আই-প্যাকের কোনো ভূমিকা রয়েছে? এমন প্রশ্নের জবাবে লুইজিনহো স্পষ্টতই বলেন, “হ্যাঁ, তিনি (পিকে) আমার সঙ্গে যোগাযোগ করেছিলেন কয়েক দিন আগে। তবে তিনি আমাকে তৃণমূলে যোগ দিতে বলেননি। কিন্তু একটা বিশ্লেষণ তুলে ধরেছিলেন। গোয়ার মানুষের বিজেপির উপর ক্ষুব্ধ। খনির কাজ বন্ধ। অর্থনীতি বিপর্যস্ত। এখানে কোনো কাজ নেই। স্বভাবতই গোয়া বিকল্পের সন্ধান করছে। দিদি-ই একমাত্র শক্তি। কেন্দ্রীয় এজেন্সি দিয়ে যতই চাপের সৃষ্টি করা হোক না কেন, তিনি অদমনীয়। দিদির মতোই একজন নেত্রীর প্রয়োজন আমাদের দেশের”।

এনডিটিভির-র কাছে লুইজিনহোর এই স্বীকারোক্তির পর প্রশান্ত কিশোরে রাজনৈতিক ভূমিকা নিয়ে স্বার্থগত দ্বন্দ্বের প্রশ্ন উঠছে। ক’দিন আগে পর্যন্ত ধারণা করা হচ্ছিল, ২০২৪-এর লোকসভা ভোটে জাতীয় কংগ্রেসের হাল ফেরাতে আলোচনা চালিয়ে যাচ্ছেন পিকে। কিন্তু লুইজিনহোর কথায় মান্যতা দিতে হলে ধরে নিতে হয়, উলটো দিকে কংগ্রেসের ঘর ভাঙছেন সেই তিনি-ই! এক দিকে তিনি কংগ্রেসের উচ্চ নেতৃত্বের কাছে যাচ্ছেন, আবার দলের নেতাদের তৃণমূলে ঠেলে দিচ্ছেন, তাঁর টিম আই-প্যাক তো একই কাজ করে চলেছে?

লুইজিনহো আরও বলেন, “কংগ্রেস ছেড়ে দেওয়ার সিদ্ধান্ত নেওয়া আমার কাছে ছিল খুবই কঠিন কাজ। কিন্তু শেষমেশ নিতেই হল। গোয়ার স্বার্থে, দেশের স্বার্থে বিজেপি-কে পরাজিত করতে হলে এ ছাড়া আর অন্য কোনো বিকল্প ছিল না আমার সামনে। তবে এখনও আমি আই-প্যাকের সদস্যদের দিকে তাকিয়ে রয়েছি। কারণ, তারা শুধু বাংলা নন, দেশের বিভিন্ন প্রান্ত থেকেই এসেছেন”।

বৃহস্পতিবার একটি সাংবাদিক বৈঠকে লুইজিনহো বলেন, “২০২২-এর গোয়া বিধানসভা ভোটে প্রত্যেকটা আসনেই প্রার্থী দেবে তৃণমূল। কোনো জোট ছাড়াই ৪০টি আসনে প্রার্থী দেওয়া হবে। আমরা একাই লড়ব”। তিনি আরও বলেন, “হাতে সময় খুবই কম। তবুও তৃণমূলের পক্ষে গোয়ার আসন্ন নির্বাচনে জয়লাভ করা সম্ভব। বিজেপির উপর ক্ষুব্ধ গোয়ার মানুষ। এখানেও মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়ের মতো এক নেত্রীর প্রয়োজন রয়েছে, এক মাত্র তিনিই বিজেপির বিরুদ্ধে রুখে দাঁড়াতে পারেন”।

আরও পড়ুন: জোট ছাড়াই সব আসনে লড়বে তৃণমূল, গোয়া যাবেন মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়

খবরের সব আপডেট পড়ুন খবর অনলাইনে। লাইক করুন আমাদের ফেসবুক পেজ। সাবস্ক্রাইব করুন আমাদের ইউটিউব চ্যানেল

বিজ্ঞাপন