প্রথম মহিলা রাষ্ট্রপতি প্রতিভা পাতিল, নির্বাচনে প্রতিদ্বন্দ্বিতা করে কোনো বারই পরাজিত হননি

আধুনিক যুগের এই ভারতে মহিলারা কী করতে পারেন, সেটাই দেখিয়েছিলেন দ্বাদশতম রাষ্ট্রপতি।

0

ভারতের প্রথম মহিলা রাষ্ট্রপতি। ২০০৭ সালের ২৫ জুলাই রাষ্ট্রপতি পদে শপথ নেন প্রতিভা পাতিল (Pratibha Patil)। দেশের অগ্রগতির সঙ্গেই আমরা সমতার দিকে কতটা এগিয়েছি, তা প্রমাণ করে সাংবিধানিক শীর্ষপদে তাঁর আসীন হওয়ার ঘটনা। আধুনিক যুগের এই ভারতে মহিলারা কী করতে পারেন, সেটাই দেখিয়েছিলেন দ্বাদশতম রাষ্ট্রপতি।

যে মেয়েরা জীবনে বড়ো হওয়ার স্বপ্ন দেখে তাদের জন্য প্রতিভা পাতিল প্রকৃতপক্ষে এমন একজন, যিনি হাতে মশাল নিয়ে পথ দেখিয়েছিলেন। কারণ, তিনি এমন একটি পথে পাঁচ বছর সফর করেছেন, যেখানে যাওয়ার সাহস এবং সংকল্প অতীতে আর কারও মধ্যেই প্রতিফলিত হয়নি। বাধা অতিক্রম করে তিনি যে দৃষ্টান্ত তৈরি করে দিলেন, দেশের নতুন রাষ্ট্রপতি দ্রৌপদী মুর্মু ছুঁয়ে ফেললেন সেই মাইলফলক।

আইনী পেশা থেকে রাজনীতিতে

১৯৩৪ সালের ১৯ ডিসেম্বর মহারাষ্ট্রের জলগাঁওতে জন্ম প্রতিভার। পড়াশোনা সেখানেই। স্কুল শিক্ষা সমাপ্ত করে ভর্তি হন জলগাঁওয়ের মুলজি জেঠা কলেজে। রাষ্ট্রবিজ্ঞান এবং অর্থনীতিতে স্নাতকোত্তর। তবে শুধু এগুলোই নয়, মুম্বইয়ের সরকারি কলেজ থেকে আইনে স্নাতক হন। কলেজে পড়ার সময় খেলাধুলোয় তাঁর পারফরম্যান্স ছিল নজরকাড়া। বিশেষ করে টেবিল টেনিসে। অসংখ্য টুর্নামেন্টে অংশ নিয়েছেন, পেয়েছেন একাধিক শিরোপা।

মহারাষ্ট্রের জলগাঁও জেলা আদালতে আইনজীবী হিসেবে কর্মজীবন শুরু। পাশাপাশি রাজনীতির সঙ্গেও জড়িয়ে ছিলেন ওতপ্রোত ভাবে। মাত্র ২৭ বছর বয়সে মহারাষ্ট্র বিধানসভায় প্রবেশ। প্রথম বার জলগাঁও বিধানসভা থেকে প্রতিদ্বন্দ্বিতা করে বিজয়ী। সেই থেকে পর পর চার বার বিধায়ক হন। কেন্দ্র বদল হলেও ১৯৬৭ থেকে ১৯৮৫ সাল পর্যন্ত তিনি বিধায়ক ছিলেন।

এর পরে, তিনি ১৯৮৫-৯০ সাল পর্যন্ত রাজ্যসভায় সাংসদ হিসাবে দায়িত্ব পালন করেন। পরে ১৯৯১ সালের সাধারণ নির্বাচনে অমরাবতী কেন্দ্র থেকে লোকসভার সাংসদ হিসাবে নির্বাচিত হন। এ ছাড়াও, ১৯৮৮-৯০ সাল পর্যন্ত মহারাষ্ট্র প্রদেশ কংগ্রেস কমিটির সভানেত্রীও ছিলেন।

পরাজিত না হওয়ার রেকর্ড

দীর্ঘ রাজনৈতিক জীবনে প্রতিদ্বন্দ্বিতা করেছেন অনেক নির্বাচনে। কিন্তু কোনো বারই তিনি পরাজিত হননি। এটাই প্রাক্তন রাষ্ট্রপতির এক অন্যতম রেকর্ড।

মহারাষ্ট্রের বিধায়ক হিসেবে দায়িত্ব পালন করেছেন একাধিক দফতরে। ১৯৬৭-৭২ পর্যন্ত জনস্বাস্থ্য, পর্যটন, আবাসনমন্ত্রী। ১৯৭২-৭৪ পর্যন্ত সমাজকল্যাণমন্ত্রী। ১৯৭৪-৭৫ পর্যন্ত জনস্বাস্থ্য, সমাজকল্যাণমন্ত্রী ছিলেন। ১৯৭৫-৭৬ পর্যন্ত ছিলেন পুনর্বাসন ও সংস্কৃতিমন্ত্রী। ১৯৭৬-৭৭ পর্যন্ত শিক্ষামন্ত্রী, ১৯৮২-৮৩ পর্যন্ত নগরোন্নয়ন ও আবাসনমন্ত্রী। ১৯৮৩-৮৫ পর্যন্ত গণবণ্টন ও সমাজকল্যাণমন্ত্রী ছিলেন প্রতিভা। আবার ১৭৭৯ সালের জুলাই মাস থেকে ১৯৮০ সালের ফেব্রুয়ারি পর্যন্ত মহারাষ্ট্র বিধানসভার বিরোধী দলনেত্রীও ছিলেন তিনি।

১৯৮৬-৮৮ পর্যন্ত ছিলেন রাজ্যসভার ডেপুটি চেয়ারপার্সন। এর মধ্যে ১৯৮৭ সালের ২৫ জুলাই থেকে ২ সেপ্টেম্বর রাজ্যসভার চেয়ারপার্সনের দায়িত্ব সামলান। ওই সময় ড. আর ভেঙ্কটরমন ভারতের রাষ্ট্রপতি নির্বাচিত হন। লোকসভায় হাউস কমিটির চেয়ারপার্সনও হন তিনি।

আন্তর্জাতিক ফোরামে প্রতিনিধিত্ব

বিভিন্ন আন্তর্জাতিক ফোরামে ভারতের প্রতিনিধিত্ব করেছেন প্রতিভা। যেগুলির মধ্যে রয়েছে নাইরোবি এবং পুয়ের্তো রিকোতে সামাজিক কল্যাণ বিষয়ক আন্তর্জাতিক সম্মেলন। ১৯৮৫ সালে, বুলগেরিয়ায় কংগ্রেস প্রতিনিধি দলের সদস্য ছিলেন তিনি। অস্ট্রিয়ায় ‘মহিলাদের অবস্থা’ বিষয়ক সম্মেলনে ভারতীয় প্রতিনিধিদলের নেতৃত্ব দেন এবং ১৯৯৫ সালের সেপ্টেম্বরে চিনের বেজিং-এ বিশ্ব মহিলা সম্মেলনে ভারতের হয়ে প্রতিনিধিত্ব করেন।

আরও পড়তে পারেন:

দেশের প্রথম পূর্ণ সময়ের মহিলা অর্থমন্ত্রী, নির্মলা সীতারমনের লক্ষ্য এবং প্রতিবন্ধকতা

প্রয়াত প্রধানমন্ত্রী ইন্দিরা গান্ধীর গুরুত্বপূর্ণ কিছু সিদ্ধান্ত, যার রেশ অব্যাহত এখনও

সুষমা স্বরাজ: ভারতের ‘সব চেয়ে ভালোবাসার রাজনীতিবিদ’

খবরের সব আপডেট পড়ুন খবর অনলাইনে। লাইক করুন আমাদের ফেসবুক পেজ। সাবস্ক্রাইব করুন আমাদের ইউটিউব চ্যানেল

বিজ্ঞাপন