স্বাধীনতা দিবসের প্রাক্কালে রাষ্ট্রপতি রামনাথ কোবিন্দের জাতির উদ্দেশে ভাষণ

0

ওয়েবডেস্ক: ৭৪তম স্বাধীনতা দিবসের (74th Independence day) প্রাক্কালে শুক্রবার সন্ধ্যায় জাতির উদ্দেশে রাষ্ট্রপতি রামনাথ কোবিন্দের (Ramnath Kovind) ভাষণে উঠে এল করোনা মহামারি থেকে শুরু করে প্রধানমন্ত্রী গরিবকল্যাণ যোজনা, গালওয়ান সংঘর্ষ, এমনকী রামমন্দির প্রসঙ্গও।

তিনি বলেন, “৭৪তম স্বাধীনতা দিবসের প্রাক্কালে দেশে এবং বিদেশে বসবাসরত সকল মানুষকে শুভেচ্ছা জানাতে পেরে আমি আনন্দিত হই। ১৫ আগস্ট আমাদের উদযাপনে অংশ নিয়ে তেরঙা ওড়ানোর উত্তেজনায় মন ভরে যায়”।

এর পরই একে একে তাঁর ভাষণে উঠে আসে সমসাময়িক ঘটনাবলি এবং সেগুলির বিশ্লেষণ।

লাদাখের গলওয়ান উপত্যকায় চিনা সেনা অতর্কিত হামলা প্রসঙ্গে তিনি বলেন, “গলওয়ানে ভারতীয় সেনা বীরত্বের পরিচয় দিয়েছেন। সারা দেশ তাঁদের স্যালুট জানায়। আমাদের সেনারা নিজেদের জীবন দিয়ে সীমান্ত সুরক্ষা করেছেন। আমরা শান্তি রক্ষায় বিশ্বাসী, তবে আগ্রাসী আচরণের পাল্টা জবাবও আমরা দিতে জানি”।

করোনা মহামারি প্রসঙ্গে তিনি বলেন, “কোভিড-১৯-এর বিরুদ্ধে আমাদের চিকিৎসক, নার্স এবং অন্যান্য স্বাস্থ্যকর্মীদের কাছে দেশ ঋণী। দুর্ভাগ্যজনক ভাবে তাঁদের কেউ কেউ মহামারিতে প্রাণ পর্যন্ত হারিয়েছেন। তাঁরা দেশের মানুষের কাছে নায়ক”।

অযোধ্যার বিতর্কিত জমিতে সুপ্রিম কোর্টের নির্দেশে রামমন্দির নির্মাণের ভিত্তিপ্রস্তর স্থাপন প্রসঙ্গে রাষ্ট্রপতি বলেন, “দিন দশেক আগে রামমন্দিরের ভিত্তিপ্রস্তর স্থাপিত হয়েছে। এই অনুভূতি গৌরবের। এর জন্য দেশের মানুষ দীর্ঘদিন ধরে ধৈর্য্যের সঙ্গে অপেক্ষা করেছেন। প্রত্যেকেই দেশের বিচার ব্যবস্থার প্রতি আস্থা রেখেছেন”।

তিনি বলেন, “এ বছরের স্বাধীনতা দিবস উদ্‌যাপন অন্যান্য বারের মতো করে হবে না। কারণ একটাই, করোনা মহামারি। সারা বিশ্ব এই মারণ ভাইরাসের শিকার। কেন্দ্রীয় সরকার পরিস্থিতি মোকাবিলায় কার্যকরী পদক্ষেপ নিয়েছে”।

তাঁর কথায়, “প্রধানমন্ত্রী গরিবকল্যাণ যোজনার মাধ্যমে কয়েক কোটি কাজ হারানো অভিবাসী শ্রমিকের পাশে দাঁড়িয়েছে। অন্য দিকে ৮০ কোটি মানুষকে নিশ্চিত খাদ্যশস্য সরবরাহ করছে”।

কেন্দ্রের নতুন শিক্ষানীতির ভূয়সী প্রশংসা করে রাষ্ট্রপতি বলেন, “কেন্দ্রীয় সরকার ন্য়াশনাল এডুকেশন পলিসি ঘোষণা করেছে। আমি নিশ্চিত, নতুন এই নীতি কার্যকর হলে পুরো শিক্ষাব্যবস্থার আমূল পরিবর্তন হবে। নতুন ভারত গঠনের চ্যালেঞ্জ মোকাবিলায় সহায়ক ভূমিকা নেবে এই নীতি। এই নীতির আওতায় প্রত্যেকটি শিশু তার নিজের মাতৃভাষায় শিক্ষাগ্রহণ করতে পারবে, অন্যদিকে শিক্ষার মানেরও উন্নতি হবে”।

পশ্চিমবঙ্গ ও ওড়িশায় ঘূর্ণিঝড় উম্পুনে ক্ষতির কথাও উল্লেখ করে তিনি বলেন, “২০২০ সালে যেমন আমরা অসংখ্য বিপর্যয়ের মুখোমুখি হচ্ছি, তেমনই শিক্ষাও নিচ্ছি ভবিষ্যতের জন্যে। আমি আত্মবিশ্বাসী, সংহতি এবং সম্প্রীতির মাধ্যমেই আমরা নিজেদের এগিয়ে নিয়ে যাব”।

খবরের সব আপডেট পড়ুন খবর অনলাইনে। লাইক করুন আমাদের ফেসবুক পেজ। সাবস্ক্রাইব করুন আমাদের ইউটিউব চ্যানেল

বিজ্ঞাপন