জার্মানি যাচ্ছেন প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদী, তার আগেই মনোনয়ন জমা করবেন বিজেপির রাষ্ট্রপতি পদপ্রার্থী

0
প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদী। প্রতীকী

নয়াদিল্লি: ভারতের আসন্ন রাষ্ট্রপতি নির্বাচনের জন্য ১৪ সদস্যের প্রচার পরিচালনা কমিটি গঠন করল কেন্দ্রের শাসক দল বিজেপি। শুক্রবার জানা যায়, ওই কমিটির আহ্বায়ক হিসাবে রয়েছেন কেন্দ্রীয় জলসম্পদমন্ত্রী গজেন্দ্র সিংহ শেখাওয়াত।

২৬ জুনের মধ্যেই মনোনয়ন!

আগামী ১৮ জুলাই রাষ্ট্রপতি নির্বাচন। তবে বিজেপি নেতৃত্বাধীন কেন্দ্রের ক্ষমতাসীন জোট এনডিএ এখনও প্রার্থী ঘোষণা করেনি। এমনকী বিরোধী দলগুলির জোটের তরফেও প্রার্থী ঘোষণা করা হয়নি।

তবে জি৭ শীর্ষ সম্মেলনে অংশগ্রহণের জন্য প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদির জার্মানি যাওয়ার আগেই বিজেপি আগামী সপ্তাহে নিজের প্রার্থী ঘোষণা করতে পারে বলে জানা গিয়েছে। দলীয় সূত্রে খবর, আগামী ২৬ জুনের মধ্যে এনডিএ প্রার্থীর মনোনয়ন দাখিলের সময়েও তিনি উপস্থিত থাকবেন বলে আশা করা হচ্ছে। মনোনয়নের শেষ তারিখ ২৯ জুন।

বিজেপির প্রচার কমিটি

আগামী ১৮ জুলাই রাষ্ট্রপতি নির্বাচনের পর ভোটগণনা ২১ জুলাই। ২৪ জুলাই শেষ হচ্ছে বর্তমান রাষ্ট্রপতি রামনাথ কোবিন্দের কার্যকাল। নির্বাচন কমিশন জানিয়েছে, ২৫ জুলাই শপথ নেবেন ভারতের নতুন রাষ্ট্রপতি।

স্বাভাবিক ভাবেই নিজের পছন্দের প্রার্থীকে জিতিয়ে আনতে চেষ্টায় ফাঁকফোঁকর রাখার কথা নয় বিজেপি-র। সেই লক্ষ্যেই যে প্রচার কমিটি গঠন করা হয়েছে, সেখানে রয়েছেন মন্ত্রী, দলের শীর্ষ নেতৃত্ব। তাঁরা এনডিএ প্রার্থীর জন্য সমর্থন আদায়ে দেশ জুড়ে প্রচার চালাবেন।

কেন্দ্রীয় জলসম্পদমন্ত্রী গজেন্দ্র সিংহ শেখাওয়াতের নেতৃত্বাধীন ওই কমিটি-তে রয়েছেন কেন্দ্রীয় মন্ত্রী জি কিসান রেড্ডি, অশ্বিনী বৈষ্ণব, সর্বানন্দ সোনোয়াল, অর্জুন মেঘওয়াল এবং ভারতী পওয়ার।

দলের একটি বিবৃতিতে বলা হয়েছে, কমিটির যুগ্ম-আহ্বায়ক হিসেবে রয়েছেন বিজেপির সাধারণ সম্পাদক বিনোদ তাওড়ে এবং সিটি রবি। সদস্য হিসেবে নাম রয়েছে তরুণ চুগ, ডি কে অরুণা, ঋতুরাজ সিনহা, ভি শ্রীনবাসন, সম্বিত পাত্র এবং রাজদীপ রায়েরও।

প্রার্থী হওয়ার দৌড়ে এগিয়ে যাঁরা

জল্পনায় উঠে আসা নামগুলির মধ্যে রয়েছে প্রাক্তন রাজ্যপাল দ্রৌপদী মুর্মু (ঝাড়খণ্ড), দায়িত্বরত রাজ্যপাল আরিফ মহম্মদ খান (কেরল), আনন্দীবেন পটেল (উত্তরপ্রদেশ), অনুসূয়া উইকে (ছত্তীসগঢ়), থাওয়ার চাঁদ গহলৌত (কর্নাটক) এবং প্রতিরক্ষামন্ত্রী রাজনাথ সিংহ।

এই দৌড়ে এগিয়ে রয়েছেন দ্রৌপদী মুর্মু। কারণ তিনি একটি আদিবাসী সম্প্রদায়ের মহিলা প্রতিনিধি। ঝাড়খণ্ডের প্রথম রাজ্যপাল, যিনি পাঁচ বছরের মেয়াদ পূর্ণ করেছিলেন। অন্য দিকে, এসটি সম্প্রদায়ের প্রতিনিধি হিসেবে অনুসূয়া উইকের নামও ভাসছে জল্পনায়।

গুরুত্বপূর্ণ কারণে দৌড়ে রয়েছেন আরিফ মহম্মদ খান। বিশেষ করে সাম্প্রতিক কিছু ঘটনায় মুসলিম সম্প্রদায়ের কাছে বিজেপির ভাবমূর্তিতে নেতিবাচক প্রভাব পড়ায় তাঁকেই মনোনীত করা হতে পারে। এ ব্যাপারে দলের একটি সূত্রের দাবি, দ্রৌপদী মুর্মুকে ভারতের প্রথম আদিবাসী মহিলা রাষ্ট্রপতি করা হলে উপরাষ্ট্রপতি হিসেবে বেছে নেওয়া হতে পারে আরিফ মহম্মদ খানকে। যা আসন্ন নির্বাচনগুলিতে তাৎপর্যপূর্ণ ভূমিকা নিতে পারে।

তবে এ সবই জল্পনা-কল্পনার বিষয়। এমনও দেখা যেতে পারে, বিজেপি এমন কাউকে প্রার্থী করল, যা শুধু সাধারণ মানুষ নয়, রাজনৈতিক বিশ্লেষকদেরও অবাক করে দিতে পারে। এমনিতে অপ্রত্যাশিত রাজনৈতিক সিদ্ধান্ত নেওয়ার জন্য যথেষ্ট পরিচিত নরেন্দ্র মোদী-অমিত শাহ জুটি।

অর্ধেকের কিছু কম ভোট এনডিএ-র

রাষ্ট্রপতি নির্বাচিত হন সংসদের ৭৭৬ সদস্য (রাজ্যসভা ও লোকসভার সদস্য) এবং বিধানসভার ৪,০৩৩ জন সদস্যদের ভোটের মাধ্যমে। মোট ৪,৮০৯টি ভোট দেওয়া হয়। বিভিন্ন রাজ্যের বিধায়কদের ভোটের মিলিত মূল্য হল ৫৪৩২৩১ এবং সাংসদদের ভোট মূল্য ৫৪৩২০০, দুইয়ে মিলে মোট ১০৮৬৪৩১।

তবে কেন্দ্রের ক্ষমতাসীন বিজেপি নেতৃত্বাধীন এনডিএ-র কাছে রয়েছে মোট ভোটের অর্ধেকের কিছু কম অর্থাৎ ৫,২৬,৪২০টি ভোট। ওয়াকিবহাল মহলের মতে, এর জন্য ওয়াইএসআর কংগ্রেস এবং বিজু জনতা দলের সহযোগিতা প্রয়োজন।

যদিও এই দুই আঞ্চলিক দল এ বিষয়ে এখনও কোনো ইঙ্গিত দেয়নি। ইতিমধ্যেই দিল্লিতে এসে প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদীর সঙ্গে সাক্ষাৎ করেন দুই দলের শীর্ষ নেতৃত্ব। ২০১৭ সালের রাষ্ট্রপতি নির্বাচনে দু’টি দলই ভোট দিয়েছিল তৎকালীন রাষ্ট্রপতি পদপ্রার্থী রামনাথ কোবিন্দকে।

এ বারে নিজের পছন্দের প্রার্থীকে জেতাতে প্রায় ১৩ হাজার ভোট কম পড়ছে বিজেপির। অন্য দিকে, বিজেডি এবং ওয়াইএসআর কংগ্রেসের কাছে রয়েছে যথাক্রমে ৩১ হাজার এবং ৪৩ হাজার ভোট। এমন পরিস্থিতিতে এই দুই দল কী অবস্থান নেয়, তার উপরই নির্ভর করছে অনেক কিছুই। তবে ওয়াকিবহাল মহলের ধারণা, এখনও পর্যন্ত বিরোধী জোটের থেকে ভালো অবস্থানে রয়েছে কেন্দ্রের শাসক জোট।

বিজেপি-র হাতে কত ভোট?

রাষ্ট্রপতি নির্বাচনে সাংসদ এবং বিধায়কদের ভোটের মূল্য পৃথক। বর্তমানে এনডিএ-তে বিধায়ক এবং সাংসদদের ভোট মূল্য যথাক্রমে ২.১৭ লক্ষ এবং ৩.০৯ লক্ষ। এর মধ্যে অধিকাংশটাই বিজেপির। বিজেপির বিধায়ক এবং সাংসদদের ভোট মূল্য যথাক্রমে ১.৮৫ লক্ষ এবং ২.৭৪ লক্ষ।

মনোনীত সাংসদ এবং আইন পরিষদের সদস্যদের ভোট দেওয়ার অনুমতি নেই রাষ্ট্রপতি নির্বাচনে। প্রত্যেক নির্বাচককে একটি একক হস্তান্তরযোগ্য ভোট দেওয়ার অনুমতি দেওয়া হয় এবং গোপন ব্যালটের মাধ্যমে ভোটগ্রহণ করা হয়। যেহেতু রাষ্ট্রপতি নির্বাচনে দলত্যাগ বিরোধী আইন প্রযোজ্য নয়, তাই এ ব্যাপারে দলের লাইন মেনে চলতে বাধ্য নন নির্বাচকরা।

আরও পড়তে পারেন:

পশ্চিমবঙ্গেও অগ্নিপথ বিতর্কের আঁচ, ঠাকুরনগরে দীর্ঘক্ষণ রেল অবরোধ

অগ্নিপথ-উত্তেজনা কমার নাম নেই, বিহারে জম্মু তাওয়াই এক্সপ্রেসে আগুন বিক্ষোভকারীদের

অসুস্থ সনিয়াকে দেখতে গভীর রাতে দিল্লির হাসপাতালে রাহুল গান্ধী

টাকা নেই, দিল্লির দ্বারস্থ পশ্চিমবঙ্গ বিজেপি

প্রবল বৃষ্টির জেরে একাধিক নদীতে জলস্ফীতি, উত্তরবঙ্গে বন্যা পরিস্থিতি

খবরের সব আপডেট পড়ুন খবর অনলাইনে। লাইক করুন আমাদের ফেসবুক পেজ। সাবস্ক্রাইব করুন আমাদের ইউটিউব চ্যানেল

বিজ্ঞাপন