নতুন রাষ্ট্রপতি রামনাথ কোবিন্দ বর্ধমানের জামাই,অবাক লাগছে ?

0

নিজস্ব প্রতিনিধি, বর্ধমান: সদ্য প্রাক্তন রাষ্ট্রপতি প্রণব মুখোপাধ্যায় তো বীরভূমের বাঙালি। কিন্তু তাঁর পদে যিনি বসলেন, সেই রামনাথ কোবিন্দেরও রয়েছে পশ্চিমবঙ্গের সঙ্গে আত্মীয়তার সম্পর্ক।

বর্ধমানে আসলেই ডাল আলুপোস্ত দিয়ে ভাত খেতে খুবই পছন্দ করতেন রাষ্ট্রপতি রামনাথ কোবিন্দ। পারিবারিক সুত্রে বর্ধমান শহরের জামাই নতুন রাষ্ট্রপতি রামনাথ কোবিন্দ। দু’বার বড়ো শ্যালক  ওমপ্রকাশ কোলির বাড়িতেও এসেছেন তিনি। শেষ বার আসেন ২০০১ সালে, সেবার কলকাতায় বিচারপতিদের একটি সন্মেলনে যোগ দিতে এসেছিলেন। তখন তিনি রাজ্যসভার সাংসদ। কিন্তু চূড়ান্ত গোপনীয়তা বজায় রেখেই বর্ধমানের আত্মীয়র বাড়িতে আসেন বর্তমান রাষ্ট্রপতি। রাষ্ট্রপতির স্ত্রী সবিতা কোবিন্দের বড়ো দাদা ওম প্রকাশ কোবিন্দ। প্রায় তিরিশ বছর আগে দিল্লি ছেড়ে ব্যবসায়িক সুত্রে বর্ধমান শহরের বিসি রোডে একটি ভাড়া বাড়িতেই বসবাস শুরু করেন। তারপর থেকে পশ্চিমবঙ্গের বাসিন্দা হয়ে রয়েছেন ওমপ্রকাশ বাবুর পরিবার। তবে বর্ধমানের আসার ২০ বছর পর মৃত্যু হয় ওম প্রকাশবাবুর। তার পর থেকে ওম প্রকাশবাবুর স্ত্রী গঙ্গা কোলি অভাবের সঙ্গে লড়াই করেই বড়ো করে তোলেন দুই ছেলে তরুণ কোলি ও বরুণ কোলিকে।  বাকি পরিবার দিল্লিতে থাকলেও বঙ্গবাসী হিসেবেই থাকতে চান গঙ্গাদেবী। তাই আর ফিরে যাননি। তবে আত্মায় আত্মায় সম্পর্কই ধরে রেখেছে তাদের আত্মীয়তা। তরুণ ও বরুণবাবু এখন স্বাবলম্বী। কিন্তু রাষ্ট্রপতির আত্মীয় বলে কোনোরকমের উচ্চাকাঙ্ক্ষা নেই তাঁদের। একদম মধ্যবিত্ত সাদাসিধে জীবন যাপন। ছোট্ট গলির মধ্যে দিয়েই ধুকতে হয় রংচটা একতলা ঘরে।  প্রভাবশালী হওয়ার ইচ্ছেও নেই, তাই প্রথমে সংবাদ মাধ্যমের সাথে কথা বলতেও সংকোচ বোধ করেন। তবে বেশি কিছু বলতে চাননি পরিবারের কেউই। ছোট্ট ঘরে বসে রাষ্ট্রপতির শপথ বাক্য পাঠ অনুষ্ঠান দেখতে দেখতেই গঙ্গা  কোলি জানান,অত্যন্ত সাদাসিধে তাদের জামাই। খুবই সরল কথাবার্তা। শেষ ২০০১ সালে এই বাড়িতেই এসেছিলেন। সঙ্গে সবিতাদেবীও ছিলেন। তাঁর হাতে রাঁধা ডাল, আলু পোস্ত ও শুক্ত খেয়ে খুব প্রশংসাও করে গিয়েছিলেন। তার পর আর আসা হয়নি তাঁদের। তবে ফোনে যোগাযোগ রেখেছেন। ছেলেদের ব্যবসার জন্য আর্থিক সাহায্যও করেছিলেন।

তরুণ ও বরুণবাবু বর্তমানে বর্ধমানে একটি ইমিটেশনের দোকান চালান, ব্যবসায়িক সুত্রে মাঝে মাঝে দিল্লি যান। ২ বছর আগে গিয়ে দেখাও করে এসেছিলেন পিসি ও পিসেমশাইয়ের সঙ্গে। রাষ্ট্রপতি হওয়ার পর ফোন করে  শুভেচ্ছাও জানিয়েছেন।  রাষ্ট্রপতি পিসেমশাইয়ের কাছে কোনো কিছুই চাওয়ার নেই তাঁদের। শুধু আশা ভারতবর্ষকে যেন আরও ভালো করে তোলেন।

খবরের সব আপডেট পড়ুন খবর অনলাইনে। লাইক করুন আমাদের ফেসবুক পেজ। সাবস্ক্রাইব করুন আমাদের ইউটিউব চ্যানেল

বিজ্ঞাপন

1 COMMENT

  1. দেশ কে আরও এগিয়ে নিয়ে নাও। সবাই হাত বাড়িয়ে দাও।