মহারাষ্ট্রে জারি ৩৫৬ ধারা, বিতর্ক তুঙ্গে

0
Ramnath Kovind
ফাইল ছবি

ওয়েবডেস্ক: রাষ্ট্রপতি রামনাথ কোবিন্দ মহারাষ্ট্রে রাষ্ট্রপতি শাসন চেয়ে রাজ্যপাল ভগৎ সিং কোশিয়ারির প্রস্তাবে অনুমোদন দিলেন। এর পর মঙ্গলবার সন্ধ্যা ৬টা থেকেই মহারাষ্ট্রে জারি হল রাষ্ট্রপতি শাসন।

গত ২১ অক্টোবর মহারাষ্ট্রের বিধানসভা ভোটের পর ফলাফল ঘোষণা হয় ২৪ অক্টোবর। তার পর থেকে টানা ১৯ দিন সরকার গঠন নিয়ে চলে টানাপোড়েন। জোট বেঁধে ভোটে লড়াই করা বিজেপি এবং শিবসেনার মধ্যে মুখ্যমন্ত্রিত্বের দাবি নিয়ে বিরোধের জেরে সরকার গঠনে সমর্থ হয়নি দু’দলই। মাঝে উঠে এসেছিল একাধিক সম্ভাবনা। এমনকী এ দিনই রাত সাড়ে ৮টা পর্যন্ত সময় দেওয়া হয় এনসিপিকে। কিন্তু সেই সময়সীমা শেষ হওয়ার অনেক আগে সকাল সাড়ে ১১টার সময় রাজ্যপাল রাষ্ট্রপতি শাসনের সুপারিশ করেন।

কেন্দ্রীয় মন্ত্রিসভায় তড়িঘড়ি রাজ্যপালের সুপারিশে অনুমোদন মিলে যায়। এ দিনই ব্রিকস সম্মেলনে যোগ দিয়ে ব্রাজিল যাচ্ছেন প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদী। দেশ ছাড়ার আগেই তিনি মহারাষ্ট্রে রাষ্ট্রপতি শাসনে সবুজ সংকেত দিয়ে দেন। সেই প্রস্তাব রাষ্ট্রপতির কাছে গেলে রামনাথ কোবিন্দও তাতে স্বাক্ষর করেন। স্বাভাবিক ভাবেই তড়িঘড়ি রাষ্ট্রপতি শাসন জারি নিয়ে উঠে আসছে একাধিক প্রশ্ন।

সেই সমস্ত প্রশ্নের উত্তর পেতেই সুপ্রিম কোর্টে আবেদন জানিয়েছে উদ্ধব ঠাকরের শিবসেনা। দিনভর শিবসেনা, এনসিপি-কংগ্রেস এবং বিজেপি নেতৃত্ব পৃথক ভাবে দফায় দফায় বৈঠকে বসেন। কিন্তু তারই মাঝে ৩৫৬ ধারা জারি হয়ে যায় মহারাষ্ট্রে।

পুরো ঘটনায় প্রাক্তন কেন্দ্রীয় মন্ত্রী যশবন্ত সিনহা মহারাষ্ট্রের রাজ্যপালের সমালোচনা করে বললেন, “রাজ্যে রাষ্ট্রপতি শাসনের প্রস্তাব দেওয়ার ক্ষেত্রে মহারাষ্ট্রের রাজ্যপাল সত্যিই কেন্দ্রের ‘এজেন্ট’ হিসাবে কাজ করেছেন। তিন দলের এখনই মতানৈক্যের বাইরে আসা উচিত, তাদের মতপার্থক্য মিটিয়ে সরকার গঠন করতে হবে”।

তবে রাজনৈতিক মহলের মতে, শিবসেনার মুখ্যমন্ত্রীপদের লোভ, বিজেপির একরোখা মনোভাব এবং কংগ্রেস-এনসিপি নেতৃত্বের সিদ্ধান্তহীনতার জেরেই রাষ্ট্রপতি শাসন দেখতে হল মহারাষ্ট্রকে।

LEAVE A REPLY

Please enter your comment!
Please enter your name here

This site uses Akismet to reduce spam. Learn how your comment data is processed.