modi

নয়াদিল্লি: আর ‘ভিআইপি’ নয়, এখন থেকে ‘ইপিআই’, অর্থাৎ ‘এভরি পার্সন ইম্পর্ট্যান্ট’। এই নয়া শব্দবন্ধের আবিষ্কার প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদীর। প্রধানমন্ত্রী  বলেছেন, মানুষের মন থেকে ‘ভিআইপি’ ধ্যানধারণা সরিয়ে ফেলতে হবে। আর ‘ভিআইপি’ নয়, এখন থেকে মাথার মধ্যে ঢুকিয়ে নিন ‘ইপিআই’। সব মানুষ সমান গুরুত্বপূর্ণ। দেশের ১২৫ কোটি লোকের সমান মর্যাদা, সমান গুরুত্ব। সোমবার থেকে ‘ভিআইপি’ গাড়ির লালবাতি স্মৃতি হয়ে যাচ্ছে। ঠিক তার এক দিন আগে রবিবার প্রধানমন্ত্রী তাঁর মাসিক ‘মন কি বাত’ অনুষ্ঠানে এ কথাই বলেন।

প্রধানমন্ত্রী বলেন, “মন্ত্রী ও অন্যদের গাড়ি থেকে লালবাতি সরিয়ে নেওয়া সংক্রান্ত সিদ্ধান্ত নেওয়ার আগে আমার ধারণা ছিল না, ‘ভিআইপি’ সংস্কৃতি নিয়ে সাধারণের মনে এত ঘৃণা সঞ্চিত আছে।” তিনি বলেন, এই লালবাতি ‘ভিআইপি’ সংস্কৃতির একটা প্রতীক। এটা যাঁরা ব্যবহার করেন, তাঁদের মনের মধ্যে একেবারে গেঁথে গিয়েছে।

প্রধানমন্ত্রী বলেন, “অভিজ্ঞতা থেকে দেখা গিয়েছে, লালবাতিটা গাড়ির মাথায় লাগানো হয় বটে, কিন্তু আস্তে আস্তে সেটা যাঁরা ব্যবহার করেন তাঁদের মাথায় ঢুকে যায় এবং শেষ পর্যন্ত একটা ‘ভিআইপি’ মানসিকতা তৈরি হয়ে যায়। লালবাতিটা গেল বটে, কিন্তু এটা কেউ দাবি করতে পারবে না যে তাঁর মধ্য থেকে ‘ভিআইপি’ মানসিকতা দূর হয়েছে। লালবাতি নিষিদ্ধ করা একটা প্রশাসনিক সিদ্ধান্ত। কিন্তু মন থেকে ‘ভিআইপি’ মানসিকতা দূর করার চেষ্টা চালিয়ে যেতে হবে। সবাই মিলে এক সঙ্গে এই চেষ্টা করলে এই মানসিকতা দূর হবে।”

প্রধানমন্ত্রী বলেন, তাঁর সরকারের ‘নতুন ভারত’ ধ্যানধারণার মূল মন্ত্রই হল ‘ভিআইপি’ নয়, গুরুত্ব বাড়ুক ‘ইপিআই’-এর। “যখন আমি ‘ভিআইপি’-এর বদলে, ‘ইপিআই’-এর কথা বলি, তার অর্থ পরিষ্কার – প্রতিটি মানুষ সমান গুরুত্বপূর্ণ। প্রতিটি মানুষের দাম আছে, গুরুত্ব আছে। আমরা যদি দেশের ১২৫ কোটি নাগরিকের গুরুত্ব স্বীকার করে নিই, তা হলে ভাবুন, আমাদের স্বপ্নগুলো পূরণের জন্য কত বেশি শক্তি আমাদের হবে। আমাদের সবাইকে এক সঙ্গে এটা করতে হবে।”

মন্তব্য করুন

Please enter your comment!
Please enter your name here