narendra modi independence day speech
লালকেল্লা মোদী। ছবি: এএনআই টুইটার

নয়াদিল্লি: গত চার বছরে তাঁর আমলে দেশ কতটা সাফল্যের পথ দেখেছে, স্বাধীনতা দিবসে লালকেল্লা থেকে সেই খতিয়ানই তুলে ধরলেন প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদী। সেই কথা বলতে গিয়ে তিনি বলেন, “ভারত আগে ছিল ঘুমন্ত হাতি, কিন্তু এখন সেই হাতিই জেগেছে এবং দৌড়োচ্ছে।” ২০১৯-এর লোকসভা নির্বাচনের কথা মাথায় রেখেই সম্ভবত এই পথে হাঁটলেন মোদী।

বুধবার সকাল সাড়ে সাতটায় লালকেল্লা থেকে বক্তব্য শুরু করেন প্রধানমন্ত্রী। সব ভারতবাসীকে স্বাধীনতা দিবসের শুভেচ্ছো জানিয়ে আপাতত প্রধানমন্ত্রী হিসেবে নিজের শেষ স্বধীনতা দিবসের ভাষণ শুরু করেন মোদী।

প্রথমেই আদিবাসী সম্প্রদায়ের এবং মহিলাদের অবদানের কথা তুলে ধরেন মোদী। তিনি বলেন, “দেশের মেয়েরা দেশকে সম্মান এনে দিয়েছেন। তেমনই মাউন্ট এভারেস্টের চূড়ায় পৌঁছে জাতীয় পতাকা উত্তোলন করেছেন আদিবাসী যুবকেরা।”

আরও পড়ুন এনসিআর নিয়ে অমিত শাহকে এমন আক্রমণ আগে করেননি মমতা

আন্তর্জাতিক শক্তি হিসেবে ক্রমশ নিজের নাম তৈরি করছে ভারত। এর পেছনে দেশের স্বাধীনতা সংগ্রামী এবং দেশের সেনাবাহিনীর অবদানের কথা তুলে ধরেন প্রধানমন্ত্রী।

এ বছর দেশের বিভিন্ন প্রান্তে বন্যার ফলে অসংখ্য মানুষ প্রাণ হারিয়েছেন। তাঁদের সবার প্রতি সমাবেদনা জানান প্রধানমন্ত্রী। অন্য দিকে সমাজের পিছিয়ে পড়া মানুষদের ‘সাংবিধানিক নিরাপত্তা’ দেওয়ার কথাও বলেন মোদী। বিআর আম্বেডকরের অবদানের কথা মনে করিয়ে দিয়ে তিনি বলেন, “সংসদের এ বছরের বাদল অধিবেশন সামাজিক ন্যায়বিচারের জন্য উৎসর্গ করা হয়েছিল। ওবিসিদের জন্য আলাদা একটা কমিশন তৈরি হয়েছে। এটা একটা উল্লেখযোগ্য সাফল্য।”

আরও পড়ুন কী ছিল মহারানির ঘোষণাপত্রে? কতটাই বা মানা হয়েছিল?

তবে এ দিন বক্তব্যে মাঝেমধ্যেই পুরোনো সরকারের ‘ব্যর্থতা’ এবং নিজের আমলের ‘সাফল্য’-এর কথা বলতে ভোলেননি মোদী। তিনি বলেন, “২০১৩ সালে যে হারে দেশ এগোচ্ছিল সেই হার এখন অনেকটাই বেড়েছে। শৌচাগারের কথায় ধরে নিন। ২০১৩-এ যে গতিতে শৌচাগার তৈরি হচ্ছিল, সেই গতি থাকলে এখন দেশের অর্ধেক জায়গাতেও শৌচাগার তৈরি হত না।” তিনি বলেন, “আমরা যে সাফল্য পেয়েছি তার জন্য খুবই গর্বিত। কিন্তু যখন দেখব কোন জায়গা থেকে আমরা উঠেছি, তখন বুঝব দেশ ঠিক কতখানি এগিয়েছে।” এখানেই ঘুমন্ত হাতির জেগে ওঠার প্রসঙ্গ টেনে আনেন মোদী।

ভারতের আর্থিক বৃদ্ধি অতীতের সমস্ত রেকর্ড ভেঙে দেবেও বলে লালকেল্লা থেকে দাবি করেন মোদী। তাঁর আমলে স্বচ্ছতা অভিযানে কতটা সাফল্য এসেছে, একটা পরিসংখ্যানে সেটা বোঝাতে চেষ্টা করেন প্রধানমন্ত্রী। হু-এর একটি তথ্যকে হাতিয়ার করে তিনি বলেন, “গত মাসে হু বলেছে স্বচ্ছতা অভিযানের জন্য ভারতে ৩ লক্ষ শিশুকে বাঁচানো গিয়েছে।”

আরও পড়ুন নাগরিকপঞ্জির চূড়ান্ত তালিকায় ঢুকে যেতে পারে বাদ পড়া অর্ধেক নামই: সূত্র

স্বাস্থ্যখাতে আরও উন্নতির জন্য আয়ুষ্মান ভারত নামের একটি প্রকল্পেরও সূচনা করেন মোদী। এই প্রকল্পের হাত ধরে ৫০ কোটি ভারতবাসী লাভবান হবেন বলেও দাবি করেন প্রধানমন্ত্রী।

কালো টাকার কারবারিরা কোনো ভাবেই ছাড় পাবে না বলেও জানান মোদী। সেই সঙ্গে প্রকৃত করদাতাদের ধন্যবাদ জানান মোদী। তিনি বলেন, “প্রকৃত করদাতাদের জন্যই আজ গরিব মানুষরা খেতে পাচ্ছে।”

অবসরপ্রাপ্ত সেনাদের পেনশনের দাবিতেও নিজের আমলের সাফল্যের কথা বলেন মোদী। তিনি বলেন, “সেনাদের ওয়ান ম্যান, ওয়ান পেনশনের বিষয়টি বহু দিন ধরেই পড়েছিল। আমরা এ নিয়ে সিদ্ধান্ত নিতে পেরেছি। দেশের স্বার্থে আমরা ‌যে কোনো সিদ্ধান্ত নেব।”

আরও পড়ুন স্মরণ করি মাতঙ্গিনী হাজরার আত্মবলিদানের সেই দিনটি

মহিলাদের কথা বলতে গিয়ে ধর্ষণ এবং তিন তালাকের প্রসঙ্গ নিয়ে আসেন প্রধানমন্ত্রী। মধ্যপ্রদেশের একটি ঘটনা, যেখানে এক ধর্ষকের ফাঁসির সাজা হয়েছে, সেই উদাহরণ দিয়ে মোদী বলেন, আইনের হাত থেকে কোনো ধর্ষক পার পাবে না। পাশাপাশি তিন তালাক ইস্যুতে মুসলিম মহিলাদের পাশে দাঁড়ানোর কথাও বলেন মোদী। এই প্রসঙ্গে বিরোধীদের দিকে আঙুল তুলে মোদী বলেন, “আমরা তিন তালাক প্রথা দূর করতে চাইছি। কিন্তু এমন অনেক মানুষ রয়েছে যারা এই প্রথাকে দূরে সরাতে চাইছে না।”

এ ছাড়াও উত্তর-পূর্বের সঙ্গে দিল্লির দূরত্ব অনেক কমে গিয়েছে বলেও দাবি করেন মোদী। সেই সঙ্গে তিনি বলেন, ত্রিপুরা এবং মেঘালয় এখন আফস্পা (আর্মড ফোর্সেস স্পেশাল পাওয়ার অ্যাক্ট) মুক্ত। উত্তর-পূর্বের অধিকাংশ অঞ্চলে শান্তি ফিরেছে বলেও দাবি করেন তিনি।

একটি উত্তর ত্যাগ

আপনার মন্তব্য দিন !
আপনার নাম লিখুন