গো-ভক্তির নামে খুন বরদাস্ত করব না, গো-রক্ষকদের হুঁশিয়ারি দিলেন মোদী

0
390

আমদাবাদ: এত কড়া ভাষায় স্বঘোষিত গো-রক্ষকদের বোধহয় কখনও হুঁশিয়ারি দেননি তিনি। সারা দেশ যখন গো-রক্ষকদের অত্যাচারে ব্যতিব্যস্ত তখনই নিজের নীরবতা ভাঙলেন প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদী। দেশ জুড়ে গরুকে কেন্দ্র করে যে হিংসাত্মক ঘটনা ঘটছে তার নিন্দা করে মোদী বললেন, গো-ভক্তির নামে মানুষ খুন তিনি বরদাস্ত করেন না। এটা মহাত্মা গান্ধীও অনুমোদন করতেন না।

বৃহস্পতিবার আমদাবাদে সবরমতী আশ্রমের শতবর্ষ এবং মহাত্মা গান্ধীর গুরু শ্রীমদ রাজচন্দ্রজির ১৫০তম জন্মবার্ষিকী উপলক্ষে আয়োজিত এক অনুষ্ঠানে প্রধানমন্ত্রী বলেন, অন্যের বিরুদ্ধে হিংসা ছড়ানো মহাত্মা গান্ধীর আদর্শের পরিপন্থী। প্রকৃত গো-রক্ষক বলতে কী বোঝায় তা তিনিই দেখাতে পারতেন। তিনি এই হিংসা অনুমোদন করতেন না।

প্রধানমন্ত্রী বলেন, “আসুন, আমরা এক সাথে কাজ করি। আমরা মহাত্মা গান্ধীর স্বপ্নের ভারত তৈরি করি। আমাদের স্বাধীনতা সংগ্রামীরা যে ভারতের জন্য গর্ববোধ করতেন, আসুন সেই ভারত গড়ি।”

সবরমতী আশ্রমে চরকা কাটছেন প্রধানমন্ত্রী

“আমাদের এই রাষ্ট্রে নিজের হাতে আইন তুলে নেওয়ার অধিকার কারও নেই”, সে কথা মনে করিয়ে দিয়ে মোদী বলেন, “আমাদের জীবনধারণের পন্থাই হল অহিংসা। গো-ভক্তির নামে মানুষ খুন কখনওই মেনে নেওয়া যায় না।”

মোদী বলেন, হিংসার পথে কখনও কোনো সমস্যার সমাধান করা যায় না। মহাত্মা গান্ধী ও বিনোবা ভাবেকে যাঁরা শ্রদ্ধা করেন তাঁরা কখনওই গো-রক্ষার নামে অন্যের ক্ষতি অনুমোদন করবেন না।

মহাত্মা গান্ধীর গুরু শ্রীমদ রাজচন্দ্রজির ১৫০তম জন্মবার্ষিকী উপলক্ষে সবরমতী আশ্রমে গিয়েছিলেন মোদী

কিছু দিন আগে দাদাদের সঙ্গে ঈদের বাজার সেরে ট্রেনে দিল্লি থেকে হরিয়ানার গ্রামে ফেরার সময় ১৬ বছরের জুনেইদ গণপিটুনিতে প্রাণ হারায়। জুনেইদ-হত্যা সহ এ ধরনের নানা ঘটনার প্রতিবাদে বুধবার দেশ জুড়ে বিভিন্ন শহরে হাজার হাজার মানুষ রাস্তায় নামেন। প্রতিবাদের নাম ছিল ‘নট ইন মাই নেম’।

এই মর্মান্তিক ঘটনার পরেও প্রধানমন্ত্রী ও তাঁর মন্ত্রীরা কেন নীরব, এই প্রশ্ন তুলে দেশ জুড়ে যখন সমালোচনার ঝড় বইছে, ঠিক সেই সময়েই গো-রক্ষকদের হুঁশিয়ারি দিয়ে সমালোচকদের মুখ বন্ধ করলেন প্রধানমন্ত্রী। কিন্তু এতেও কি কেন্দ্রীয় সরকারের নিষ্ক্রিয়তা নিয়ে সংশয় কাটল? বিজেপির সঙ্গী শিবসেনা বলেছে, প্রধানমন্ত্রী এর আগেও এমন কথা বলেছেন। শুধু কথায় চিঁড়ে ভেজে না। এ ধরনের দুষ্কৃতীদের বিরুদ্ধে ব্যবস্থা নেওয়ার ব্যাপারে কেন্দ্রের তরফে সদিচ্ছার অভাব আছে। শিবসেনা মুখপাত্র মনীষা কায়ান্ডে বলেছে, “বিজেপি ক্ষমতায় আসার পর থেকেই এ ধরনের ঘটনা বেড়েছে। যারা এ ধরনের ঘটনায় ইন্ধন জোগাচ্ছে, তারা বিজেপির।”

সংখ্যালঘুরা আতঙ্কিত নন, বললেন নকভি। 

জুনেইদ-হত্যার পরিপ্রেক্ষিতে বৃহস্পতিবার আরেক কেন্দ্রীয় মন্ত্রী মুখ খুলেছেন। তাঁর ধারণা, সংখ্যালঘু সম্প্রদায়ের মানুষ বলেই তিনি তাঁদের মনের কথা পড়তে পারেন। তাই বলে দিলেন, সংখ্যালঘুদের পিটিয়ে মারার খবর যতই আসুক, তাঁদের মনে এ নিয়ে কোনো আতঙ্ক বা নিরাপত্তাহীনতার পরিবেশ নেই। তাঁর মতে, কেন্দ্রের ‘উন্নয়নের কর্মসূচি’ বানচাল করতে কিছু শক্তি ‘ধ্বংসের কর্মসূচি’ নিয়ে চলছে। যারা এই কাজ করছে তাদের বিরুদ্ধে ব্যবস্থা নেওয়া হচ্ছে।

এই মন্তব্য সংখ্যালঘু ও সংসদ বিষয়ক কেন্দ্রীয় প্রতিমন্ত্রী মুখতার আব্বাস নকভির। বৃহস্পতিবার কেন্দ্রীয় ওয়াকফ কাউন্সিলের ৭৬তম বৈঠকের পর সংখ্যালঘুদের নিগ্রহ প্রসঙ্গে কথা বলছিলেন তিনি। তিনি বলেন, পিটিয়ে মারার কোনো ঘটনাকেই কোনো ভাবেই সমর্থন করা যায় না। যারা এই সব ঘটনা ঘটাচ্ছে, তাদের বিরুদ্ধে যথাযথ ব্যবস্থা নেওয়া হবে। যতই চেষ্টা হোক, সরকার উন্নয়নের পথে থাকতে বদ্ধপরিকর।

“সংখ্যালঘুরা ভয় বা নিরাপত্তাহীনতায় ভুগছেন বলে আমার মনে হয় না। ছোটো, বড়ো যে ঘটনাই ঘটুক, ফৌজদারি ষড়যন্ত্র হোক না হোক, কোনো ভাবেই তা সমর্থন করা যায় না। আইন অনুযায়ী এদের বিরুদ্ধে ব্যবস্থা নেওয়া উচিত” – বলেন নকভি।

আরও পড়ুন: ২০১০-এর পর গো-হিংসায় নিহতদের ৮৬% মুসলিম, মোদী-জমানাতেই ৯৭% ঘটনা

উল্লেখ্য, অতি সম্প্রতি এক সমীক্ষায় জানা গিয়েছে, ২০১০-এর পরে ভারতে গো-রাজনীতি নিয়ে যতগুলো হিংসাত্মক ঘটনা ঘটেছে, তার ৯৭ শতাংশই ঘটেছে মোদী জমানায় এবং সেই সব ঘটনায় নিহতদের ৮৬ শতাংশই মুসলিম।

 

এক ক্লিকে মনের মানুষ,খবর অনলাইন পাত্রপাত্রীর খোঁজ

মতামত দিন

Please enter your comment!
Please enter your name here