নয়াদিল্লি: নমিবিয়া থেকে বায়ুসেনার কপ্টারে ভারতে আনা হয়েছে আটটি চিতা (Cheetahs)। এগুলির মধ্যে পাঁচটি মহিলা এবং তিনটি পুরুষ। মধ্যপ্রদেশের কুনো জাতীয় অভয়ারণ্যে (Kuno National Park) রাখা হবে চিতাগুলিকে। নিজের ৭২তম জন্মদিনে খাঁচা খুলে চিতাগুলিকে অরণ্যে ছেড়ে দেবেন স্বয়ং প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদী (Narendra Modi)।

৭০ বছর আগে চিতাদের বিলুপ্ত ঘোষণা করা হয়েছিল এ দেশে। ঠিক সাত দশক পরে, ‘প্রজেক্ট চিতা’ (Project Cheetah) নামের পরিকল্পনার মাধ্যমে তাদের আবার অরণ্যে ছেড়ে দেওয়া হচ্ছে।

প্রজেক্ট চিতা কী

‘প্রজেক্ট চিতা’ হল ভারত সরকারের একটি সুদূরপ্রসারী প্রকল্প। এর লক্ষ্য ভারতে চিতার ঐতিহাসিক প্রজাতিকে পুনঃপ্রতিষ্ঠা করা। এই প্রকল্পটি ভারতে মেটাপপুলেশনের বিকাশের লক্ষ্যে তৈরি করা হয়েছে। যা চিতাকে একটি শীর্ষ শিকারি হিসাবে তার কার্যকরী ভূমিকা পালন করতে এবং নিজের ঐতিহাসিক পরিসরের মধ্যে সংখ্যা বৃদ্ধির সুযোগ করে দিচ্ছে। এর ফলে চিতার বিশ্বব্যাপী সংরক্ষণ প্রচেষ্টাতেও অবদান রাখবে ভারত।

কেন্দ্রীয় সরকার জানিয়েছে, ইন্টারন্যাশনাল ইউনিয়ন ফর কনজারভেশন অব নেচার (IUCN) নির্দেশিকা অনুযায়ী, বন্য প্রজাতি বিশেষ করে চিতার পুনঃপ্রবর্তন করা হচ্ছে। ভারতের বন্যপ্রাণী এবং এর আবাসস্থলকে পুনরুজ্জীবিত করা এবং বৈচিত্র্য আনাই এই প্রকল্পের প্রকৃত উদ্দেশ্য।

হিন্দুস্তান টাইমস-এর রিপোর্ট অনুযায়ী, ভারতে একটি উপযুক্ত আবাসস্থলে আফ্রিকান চিতার পুনঃপ্রবর্তনের অনুমোদন দেয় সুপ্রিম কোর্ট। সেটা ২০২০ সালের জানুয়ারির ঘটনা। কংগ্রেস নেতৃত্বাধীন ইউপিএ-২ সরকারের পরিবেশমন্ত্রী জয়রাম রমেশের উদ্যোগ প্রায় ১০ বছর পর এটা সম্ভব হয়েছিল। ২০০৯ সালেই চিতা ফিরিয়ে আনার ওই প্রকল্পটিকে এক দশক সময়কাল স্থগিত রেখেছিল সুপ্রিম কোর্ট।

এই প্রকল্পের সুবিধা

দীর্ঘ সময় ধরে বিশেষজ্ঞ, পরিবেশ, বন ও জলবায়ু পরিবর্তন মন্ত্রকের আধিকারিক এবং রাজ্য সরকারের প্রতিনিধিরা এ ব্যাপারে একাধিক বৈঠক করেন। চিতা ফিরিয়ে আনার সম্ভাবনা খতিয়ে দেখার জন্য বেশ কয়েকটি সমীক্ষাও চালানো হয়।

১৯৫২ সালে ভারত থেকে বিলুপ্ত ঘোষণা করা হয়েছিল চিতাকে। কুনো ন্যাশনাল পার্কে যে আটটি চিতাকে ছেড়ে দেওয়া হবে, এই বছরের শুরুতে স্বাক্ষরিত একটি মউ-এর অধীনে নমিবিয়া থেকে আনা হয়েছে।

কেন্দ্র বলেছে, “চিতা ভারতে উন্মুক্ত বন ও তৃণভূমির বাস্তুতন্ত্র পুনরুদ্ধারে সাহায্য করবে। জীববৈচিত্র্য সংরক্ষণেও সাহায্য করবে এই প্রকল্প। জল নিরাপত্তা, কার্বন সিকোয়েস্টেশন এবং মাটির আর্দ্রতা সংরক্ষণের মতো বাস্তুতন্ত্রের পরিষেবাগুলি আরও উন্নত হবে। এতে সমাজের ব্যাপকভাবে উপকৃত হওয়ার সম্ভাবনা রয়েছে। শুধু তাই নয়, ইকো-উন্নয়ন এবং ইকোট্যুরিজমের মাধ্যমে স্থানীয় কর্মসংস্থানেরও সুযোগ মিলবে”।

খবরের সব আপডেট পড়ুন খবর অনলাইনে। লাইক করুন আমাদের ফেসবুক পেজ। সাবস্ক্রাইব করুন আমাদের ইউটিউব চ্যানেল

বিজ্ঞাপন