ওয়েবডেস্ক: নাগরিকত্ব (সংশোধনী) বিল মঙ্গলবার রাজ্যসভায় পেশ হওয়ার কথা থাকলেও তা হয়নি। কিন্তু এই বিলের প্রতিবাদে সারা দিনই প্রতিবাদ বিক্ষোভে শামিল হয়েছে উত্তরপূর্বের বিভিন্ন সংগঠন। বুধবার যদি বিলটি পাশ হয়ে যায়, তা হলে এই প্রতিবাদের মাত্রা যে চরম আকার ধারণ করবে তা বলাই বাহুল্য।

কোথাও স্বাধীনতার ডাক, কোথাও নগ্ন প্রতিবাদ, কোথাও কুশপুতুল দাহ, এ রকম ভাবে প্রতিবাদ দেখানো হল কেন্দ্রের বিরুদ্ধে।

‘মণিপুর পিপল এগেন্সট সিটিজেনশিপ আমেন্ডমেন্ট অ্যাক্ট’ — ৭০টি সংগঠনকে এক ছাতার তলায় নিয়ে এসে তৈরি এই বৃহত্তর সংগঠনটি মঙ্গলবারকে ‘ডুমস্‌ডে’ হিসেবে আখ্যা দিয়েছে।

ত্রিপুরার সিপাহিজলা জেলার জাম্পুইলা বাজারে প্রবল বিক্ষোভ দেখিয়েছে বিভিন্ন আদিবাসী সংগঠন এবং আঞ্চলিক রাজনৈতিক দলের নেতৃত্ব।

বিলের বিরোধিতা করছেন ত্রিপুরার বর্তমান রাজা প্রদ্যোতমাণিক্য দেববর্মন। তিনি বলেন, “এই বিল পাশ হয়ে গেলে দেশের যে কী সাংঘাতিক ক্ষতি হবে, সেটা এখনও বুখতে পারছেন না মোদী। আমি আশা করব, খুব তাড়াতাড়ি, নিজের ভুল বুঝতে পারবেন তিনি।”

তাঁর আরও মন্তব্য, “বিলটি পাশ হয়ে গেলে আমাদের অঞ্চলের ছবিটা পুরোপুরি বদলে যাবে।”

তবে প্রতিবাদের ধরন আরও তীব্র অসম, মণিপুরের কিছু অংশ এবং মিজোরামে। এক দিকে অসম এবং মণিপুরে নগ্ন প্রতিবাদ দেখানো হয়েছে, অন্য দিকে ইতিমধ্যেই ‘স্বাধীন সার্বভৌম মিজোরাম’ ঘোষণা করে দিয়েছেন যুগ্ম কোঅরডিনেশন কমিটি।

‘হেলো স্বাধীন মিজোরাম,’ ‘হেলো নতুন খ্রিস্টান দেশ’ এই রকম পোস্টার নিয়ে মঙ্গলবার আইজলের রাস্তায় বিক্ষোভে শামিল হয়েছিলেন হাজার হাজার মানুষ। প্রতিবাদীদের মধ্যে অধিকাংশই যুব সম্প্রদায়ের।

আরও পড়ুন ‘স্বাগত চিন, বিদায় ভারত!’ কেন ভারত বিরোধী আন্দোলনে শামিল মিজোরামের যুবসম্প্রদায়?

ইয়ং মিজো অ্যাসোসিয়েশনের সাধারণ সম্পাদক লালমাছুয়ানা বলেন, “আমরা স্বাধীন দেশ চাই, কারণ আমাদের কথা কেউ শোনে না। এই বিলের এত প্রতিবাদ করছি আমরা। অথচ বিজেপি নেতৃত্বাধীন এনডিএ সেই বিক্ষোভকেই পাত্তাই দিচ্ছে না।”

যদিও এখনও পর্যন্ত এই বিলের ব্যাপারে নিজেদের অবস্থান বদলের কোনো ইঙ্গিত নেই বিজেপির তরফে। বরং প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদী মনে করিয়ে দিয়েছেন, বাংলাদেশ, পাকিস্তানের সংখ্যালঘুদের সাহায্য করা তাঁর কর্তব্যের মধ্যে পড়ে।

এই প্রসঙ্গেই প্রদ্যোত দেববর্মা বলেন, “আমরা ভারতের কথা বলি। যে পাকিস্তান, বাংলাদেশের কথা বলছে, সে কী ভাবে নিজেকে দেশভক্ত বলে দাবি করে।” উল্লেখ্য, দেববর্মা ত্রিপুরা কংগ্রেসের কার্যনির্বাহী সভাপতিও।

এই বিলের প্রতিবাদে রবিবার থেকেই জ্বলে উঠেছে মণিপুর। সোমবার রাত থেকেই মোবাইল পরিষেবা বন্ধ করে দেওয়া হয়েছে। গ্রেটার ইম্ফল অঞ্চলে কারফিউও জারি করা হয়েছে।

আরও পড়ুন বিভিন্ন ছাত্র সংগঠনের ডাকে সাড়া, প্রজাতন্ত্র দিবসে ফাঁকা মাঠ মিজোরামে

সব মিলিয়ে এই বিলকে কেন্দ্র করে বিজেপি যে প্রবল চাপে সেটা বলাই যায়। বিলটি পাশ হলে প্রতিবাদের আগুন কোথায় পৌঁছোবে, সেটাই এখন ভেবে পাওয়া যাচ্ছে না।

একটি উত্তর ত্যাগ

Please enter your comment!
Please enter your name here