dalit bharat bandh

ওয়েবডেস্ক: তফশিলি জাতি ও উপজাতিদের নিরাপত্তায় ‘এসসি/এসটি (প্রিভেনশন অব অ্যাট্রসিটিস) আইন’ লঘু করে দেওয়ার অভি‌যোগে সোমবার ভারত বনধের ডাক দিয়েছিল দেশের বেশ কয়েকটি দলিত সংগঠন। সেই বন্ধের প্রভাবে সোমবার সকাল থেকে অশান্ত হয়ে উঠল ভারতের বেশ কিছু রাজ্য। সব থেকে অশান্ত ছিল মধ্যপ্রদেশ। সেখানে পুলিশের সঙ্গে সংঘর্ষে ছ’ জনের মৃত্যু হয়েছে সে রাজ্যে। উত্তরপ্রদেশে দু’ জন এবং রাজস্থান একজন বিক্ষোভকারীর মৃত্যু হয়েছে।

এ দিকে ‘এসসি/এসটি (প্রিভেনশন অব অ্যাট্রসিটিস) আইন’ নিয়ে সুপ্রিম কোর্টের সাম্প্রতিক রায় পুনর্বিবেচনা করার জন্য কেন্দ্রীয় সরকারের তরফ থেকে একটি রিভিউ আবেদন শীর্ষ আদালতে পেশ করা হয়েছে।

এই ভারত বন্‌ধে ভারতের কোথায় কী রকম প্রভাব পড়েছে দেখে নিন –

মধ্যপ্রদেশ

দলিতদের বিক্ষোভে অগ্নিগর্ভ হয়ে উঠেছে মধ্যপ্রদেশ। গোটা রাজ্যে মৃত্যু হয়েছে ৬ জন বিক্ষোভকারীর। রাজ্যের মোরেনায় পুলিশের সঙ্গে সংঘর্ষে একজন বিক্ষোভকারীর মৃত্যু হয়েছে। আহত ১২। অন্য দিকে ভিন্দে পাথরবৃষ্টিতে দু’ জনের মৃত্যু হয়েছে। গ্বালিয়রে মৃত্যু হয়েছে তিন জনের। বিভিন্ন জায়গায় জারি হয়েছে কারফিউ। ভিন্দ এবং গ্বালিয়রেও পুলিশ-বিক্ষোভকারী সংঘর্ষে আহত অনেকে।

পঞ্জাব

অশান্তির আশঙ্কায় রবিবার বিকেলের পর থেকে ইন্টারনেট পরিষেবা বন্ধ করে দেওয়া হয়েছে। পঞ্জাব সরকারের অনুরোধে এ দিন দশম এবং দ্বাদশ শ্রেণির পরীক্ষা বন্ধ রাখে সিবিএসই। ট্রেন অবরোধ হয়েছে পাটিয়ালায়। অমৃতসর এবং জলন্ধরে বন্‌ধ সর্বাত্মক। বন্ধ রয়েছে দোকানপাট এবং শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানগুলি। অবরোধ হচ্ছে কাপুরথালা, হোশিয়ারপুরে।

ওড়িশা

ওড়িশার বিভিন্ন জায়গাতেও বিক্ষোভ দেখানো হচ্ছে। সম্বলপুরে রেল অবরোধ করে কয়েকটি দলিত সংগঠন।

বিহার

রেল অবরোধ হয়েছে রাজ্যের ফোর্বসগঞ্জে। বিভিন্ন জায়গায় পথ অবরোধ করেছে দলিত সংগঠনগুলি। ভীম আর্মির অবরোধের ফলে পটনা, গয়া, জেহানাবাদ, ভাগলপুরে আটকে পড়েছে প্রচুর ট্রেন।

ঝাড়খণ্ড

বন্‌ধ প্রায় সর্বাত্মক। জামশেদপুরে একটি ট্রাকে অগ্নিসংযোগের ঘটনা ঘটেছে। রাঁচিতে পুলিশের সঙ্গে সংঘর্ষে আহত হয়েছে অনেক বিক্ষোভকারী।

রাজস্থান

বিভিন্ন জায়গায় পথ অবরোধ হয়েছে। সব থেকে বেশি অশান্তি ছড়িয়েছে বাড়মেরে। গাড়ি এবং দোকানপাটে ভাঙচুর চালিয়েছেন বিক্ষোভকারীরা। আলোয়ারে এক দোকানি বিক্ষোভকারীদের ওপরে গুলি চালানোয় আহত হয়েছেন অনেকে। দোকানিকে গ্রেফতারের দাবিতে বিক্ষোভ দেখানো হয়। আলোয়ারে এক বিক্ষোভকারীর মৃত্যু হয়েছে। অজমেরে পুলিশের লাঠিচার্জে আহত বেশ কয়েক জন বিক্ষোভকারী। বিভিন্ন জায়গায় ১৪৪ ধারা জারি করা হয়েছে। বন্ধ রয়েছে ইন্টারনেট পরিষেবা।

কেরল

বন্‌ধ সর্বাত্মক। বন্ধ রয়েছে অফিস কাছারি, শিক্ষা প্রতিষ্ঠান, দোকানপাট। চলছে না সরকারি বাসও।

উত্তরপ্রদেশ

পথ অবরোধ হয়েছে আগরায়। মেরঠে বিভিন্ন দোকানপাটে ভাঙচুর চালানো হয়েছে। গাড়িতে ভাঙচুর চালানো হয়েছে রাজ্যের বিভিন্ন জায়গায়। নামানো হয়েছে র‍্যাফ। মেরঠে ও মুজফফরনগরে এক জন করে বিক্ষোভকারীর মৃত্যু হয়েছে।

দিল্লি 

দিল্লির বিভিন্ন জায়গাতেও এদিন বিক্ষোভ দেখায় বিভিন্ন দলিত সংগঠন। কনট প্লেসে রাস্তা অবরোধ করা হয়। অন্যদিকে ফরিদাবাদে বিক্ষোভকারীদের ছোড়া ইটের ঘায়ে আহত হয়েছেন দু’জন পুলিশকর্মী।

গুজরাত

বিভিন্ন জায়গায় বিক্ষোভ, ভাঙচুরের ঘটনা ঘটেছে। রাজকোটে একটি শপিং মল বন্ধ করতে বাধ্য করান বন্‌ধ সমর্থকরা। গুজরাত পরিবহণের বাসেও আগুন লাগানোর ঘটনা ঘটেছে।

এ দিকে এই বিক্ষোভে দলিতদের পাশেই দাঁড়িয়েছেন রাহুল গান্ধী। টুইট করে তিনি লিখেছেন, “অধিকার রক্ষার দাবিতে দলিত ভাইবোনেরা যে ভাবে রাস্তায় নেমেছেন, আমরা সেটাকে সম্মান জানাই।”

এ দিনের এই ঘটনাগুলির জন্য কেন্দ্রকেই দায়ী করেছে কংগ্রেস। কংগ্রেস নেতা গুলাব নবি আজাদ বলেন, “এই ঘটনার জন্য সুপ্রিম কোর্ট নয়, দায়ী কেন্দ্র। কেন্দ্র ঠিকঠাক দলিতদের দাবি আদালতে পেশ করতে পারেনি বলেই তো মামলা দুর্বল হয়ে যায়।”

যে নির্দেশিকার বিরুদ্ধে এ দিন বিক্ষোভ দেখাচ্ছে দলিত সংগঠনগুলি, সেটার পুনর্বিবেচনা করার জন্য সুপ্রিম কোর্টে আবেদন করা হয়েছে বলে জানিয়েছেন স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী রাজনাথ সিংহ। শান্তি ফিরিয়ে আনার জন্য বিক্ষোভকারীদের কাছে আবেদন করেছেন তিনি।

উত্তর দিন

আপনার মন্তব্য দিন !
আপনার নাম লিখুন