twin

ওয়েবডেস্ক: একমাত্র ছেলে প্রথমেশের ব্রেন টিউমারের খবরটা যখন পান, স্বাভাবিক ভাবেই ভেঙে পড়েছিলেন পুণের রাজশ্রী পাটিল। এখন যদিও তাঁর আনন্দ আর বাধ মানছে না।

জানা গিয়েছে, ২০১০ সালে প্রথমেশ যখন স্নাতকোত্তর স্তরের পড়াশোনার জন্য জার্মানি যান, তখনই তাঁর ব্রেন টিউমার ধরা পড়ে। “ঘটনায় স্বাভাবিক ভাবেই আমাদের পরিবার ভেঙে পড়ে। ডাক্তাররা আর দেরি না করে কেমো থেরাপি ও রেডিয়েশন শুরু করার পরামর্শ দেন। সেই সময়েই ডাক্তারদের পরামর্শ মেনে ওর শুক্রাণু সঞ্চয় করে রাখা হয়। যাতে কেমো থেরাপির প্রভাবে ও সন্তান উৎপাদনে অসমর্থ না হয়ে পড়ে”, জানিয়েছেন রাজশ্রী।

যদিও প্রথমেশকে বাঁচিয়ে রাখা যায়নি। জার্মানিতে চিকিৎসা চলাকালীন কনভালশন শুরু হয় এবং তার পর মুম্বইতে নিয়ে এলে জানা যায়- প্রথমেশের মাথার ভিতরে আবার একটা টিউমার জন্ম নিয়েছে এবং সেটা বেড়েই চলেছে। ‘২০১৬ সালের সেপ্টেম্বরে আমাদের সব প্রচেষ্টা ব্যর্থ করে প্রথমেশ চলে যায়’, জানিয়েছেন রাজশ্রী।

এর পর আর দেরি না করে জার্মানির শুক্রাণু ব্যাঙ্ক থেকে ছেলের শুক্রাণু মুম্বইতে আনান মা। যোগাযোগ করেন সহ্যাদ্রি হাসপাতালের সঙ্গে। এবং তার পর খোঁজ করা হয় এক সারোগেট মা। সেই পর্ব সমাপ্ত হলে শুরু হয় প্রথমেশের সন্তান পৃথিবীতে আনার পালা।

জানা গিয়েছে, চিকিৎসকরা আইভিএফ পদ্ধতির মাধ্যমে প্রথমেশের শুক্রাণু এবং ওই সারোগেট মায়ের ডিম্বাণু নিয়ে তৈরি করেন ভ্রুণ। তার পর তা প্রতিস্থাপন করা হয় মায়ের গর্ভে। এবং যথা সময়ে দুটি যমজ সন্তানের জন্ম দেন ওই সারোগেট মা।

রাজশ্রী জানিয়েছেন, ওই দুই যমজ সন্তান সুস্থ আছে। প্রথমেশ না থাকলেও ছেলের তরফে এ ভাবে নাতি আর নাতনি পেয়ে আনন্দ ফিরে পেয়েছে পাটিল পরিবার।

মন্তব্য করুন

Please enter your comment!
Please enter your name here