padmavati

ওয়েবডেস্ক: প্রযোজকরা ইতিমধ্যেই পিছিয়ে দিয়েছেন ছবি মুক্তির তারিখ। সেন্সর বোর্ডের না-মঞ্জুরিই তার কারণ বলে রটে গিয়েছে খবর। তার পরেও ‘পদ্মাবতী’ নিয়ে বিতর্ক কমছে না এক তিলও! বরং যত সময় এগোচ্ছে, ভারতের এক একটি প্রদেশের মুখ্যমন্ত্রীরা রুখে দাঁড়াচ্ছেন ছবি মুক্তির বিরুদ্ধে। সোমবার যেমন স্পষ্টতই ছবির মুক্তি রুখে দেওয়ার আর্জি জানালেন মধ্যপ্রদেশের মুখ্যমন্ত্রী শিবরাজ সিং চৌহান। তাঁর বক্তব্যকে সমর্থন করে একই দাবি তুললেন পঞ্জাবের কংগ্রেসি মুখ্যমন্ত্রী অমরিন্দর সিং-ও।

জানা গিয়েছে, সোমবার নিজের সরকারি বাসভবনে পদ্মাবতীর মুক্তি-বিরোধীদের সঙ্গে একটি বৈঠক করেন চৌহান। তাঁদের বক্তব্য মন দিয়ে শোনেন। তার পরে সংবাদমাধ্যমের সামনে মুখ খোলেন তিনি। জানান, “যদি ছবি থেকে আপত্তিকর দৃশ্যগুলো বাদ দেওয়া না হয়, তবে মধ্যপ্রদেশে ছবিটিকে মুক্তি পেতে দেব না। রানি পদ্মিনীর আত্মোৎসর্গের কথা আমরা ছোটোবেলা থেকেই জেনে এসেছি। সেই ইতিহাসের এতটুকু বিকৃতিও সহ্য করা হবে না!”

মধ্যপ্রদেশের মুখ্যমন্ত্রীর এই বক্তব্যের পরেই সংবাদমাধ্যমের কাছে বিবৃতি দেন পঞ্জাবের মুখ্যমন্ত্রী অমরিন্দর সিং। দ্ব্যর্থহীন ভাষায় তিনি জানান, “ইতিহাসের বিকৃতিকে কেউই সহ্য করবে না। বিরোধীরা যা করছে, বেশ করছে! আমি ওঁদের পূর্ণ সমর্থন জানাচ্ছি।“ এই তো ছিল মধ্যপ্রদেশ আর পঞ্জাবের অবস্থা। উত্তরপ্রদেশেও ছবিটা একই! সেখানকার উপ-মুখ্যমন্ত্রী কেশব প্রসাদ মৌর্যর বয়ান থেকে জানা গিয়েছে, আপত্তিকর দৃশ্য বাদ না দিলে ছবি মুক্তি পাবে না উত্তরপ্রদেশে।

ও দিকে, রাজস্থানের চিতোরগড়ের সাংসদ এস পি সুরেশ ছবি মুক্তি রদের আর্জি জানিয়ে চিঠি পাঠিয়েছেন জম্মু এবং কাশ্মীরের মুখ্যমন্ত্রী মেহবুবা মুফতিকে। সেই চিঠিতে তিনি লিখেছেন, “ভালো করে সব দিক বিবেচনা করে, ছবিটা দেখেই তবেই মুক্তির প্রশ্নে রাজি হবেন।“ পাশাপাশি, ন্যাশনাল কনফারেন্সের মন্ত্রিদলও একই বক্তব্যে চিঠি দিয়েছেন মুফতিকে।

এক এক করে সব রাজ্যের মুখ্যমন্ত্রী বেঁকে বসলেও পশ্চিমবঙ্গের ছবি কিন্তু একেবারেই আলাদা। ‘পদ্মাবতী’ নিয়ে এই প্রতিবাদের তীব্র নিন্দা করেছেন মুখ্যমন্ত্রী মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়। টুইট করে তিনি জানিয়েছেন, “পদ্মাবতীর মুক্তি নিয়ে এই যে জলঘোলা চলছে তা শুধু দুর্ভাগ্যজনকই নয়, একই সঙ্গে তা একটি বিশেষ রাজনৈতিক দলের আমাদের স্বাধীনতায় হস্তক্ষেপেরও প্রয়াস। আমরা এই পরিস্থিতির তীব্র নিন্দা করছি। চলচ্চিত্রজগতের সবার এ বার সঙ্ঘবদ্ধ হয়ে ঘটনার বিরুদ্ধে মুখ খোলা দরকার!”

এরই মধ্যে সেন্সর বোর্ডও সম্ভাব্য সব উপায়ে বিরোধিতা করে চলেছে ‘পদ্মাবতী’ নির্মাতাদের। নথিপত্রের অসম্পূর্ণতা সংক্রান্ত ব্যাপারটি নিয়ে কাজ এগোচ্ছে অত্যন্ত মন্থর গতিতে। জানা গিয়েছে, সেই কাগজপত্রের সমস্যা যাতে তাড়াতাড়ি সমাধান হয়, সেই মর্মে বোর্ডকে অনুরোধ জানিয়েছিলেন ছবির প্রযোজকরা। কিন্তু সেই আবেদনে সেন্সর বোর্ড কান দেওয়ার প্রয়োজনই বোধ করেনি!

মন্তব্য করুন

Please enter your comment!
Please enter your name here