rahul gandhi in loksabha

নয়াদিল্লি: “দেশের সেনাবাহিনী যখন চিনা আগ্রাসন ঠেকানোর জন্য ডোকলামে নজরদারি রেখে যাচ্ছে তখন বিনা কারণেই চিনে প্রেসিডেন্ট শি জিনপিং-এর সঙ্গে দেখা করতে যাচ্ছেন প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদী। চিনা আগ্রাসন আটকে আমাদের সেনারা যেটা করেছে, সেটা আমাদের প্রধানমন্ত্রী কখনোই করতে পারতেন না। উনি সেনাকে ঠকিয়েছেন। চাষিরা কৃষিঋণ মকুবের জন্য বারবার দরবার করছেন, উনি চাষিদেরও ঠকিয়েছেন।” এ ভাবেই লোকসভায় সরকারের বিরুদ্ধে তীব্র আক্রমণে গেলেন কংগ্রেস সভাপতি রাহুল গান্ধী।

অনাস্থা নিয়ে এ দিন সকাল থেকেই বিতর্ক চলছে লোকসভায়। বিতর্ক চলাকালীনই বক্তব্য রাখেন কংগ্রেস সভাপতি। শুরু থেকেই কেন্দ্রের বিরুদ্ধে তীব্র তোপ দাগেন তিনি।

দেশের সাধারণ মানুষ, কৃষক, আদিবাসী, দলিতরা এখন জুমলা আক্রমণের শিকার বলে মন্তব্য করেন রাহুল। রাহুলের কথায়, “যখন দেখবেন, প্রথমে আপনি খুব উত্তেজিত, আনন্দিত। কিছু দিন পর সরকারের কাজে আপনি আঘাত পাবেন, তারও কিছু দিন পরে আপনি যখন দুঃখ করবেন, বুঝবেন আপনি জুমলা আক্রমণের শিকার হয়েছেন।”

বেকারত্বের সমস্যা নিয়েই সরকারকে তীব্র তোপ দাগেন তিনি। রাহুলের কথায়, “প্রধানমন্ত্রী দাবি করেন দু’কোটি যুবককে তিনি চাকরি দিয়েছেন। কিন্তু সত্যি হল মাত্র চার লক্ষ মানুষ চাকরি পেয়েছেন। একদিনে চিন যখন দিনে ৫০ হাজার কর্মসংস্থান হয়, ভারতে তখন সংখ্যাটা মাত্র ৪০০।” জিএসটি, বিমুদ্রাকরণ নিয়েই সরকারকে ছেড়ে কথা বলেননি রাহুল।

রাহুলের অভিযোগ প্রধানমন্ত্রী শুধুমাত্র ধনী ব্যবসায়ীদের সঙ্গে যোগাযোগ রেখে চলেন, ক্ষুদ্র ব্যবসায়ীদের কথা ভাবেনই না। তাঁর কথায়, “আপনি তো শুধু ধনী ব্যবসায়ীদের সঙ্গে কথা বলেন। যারা ক্ষুদ্র এবং মাঝারি ব্যবসায়ী, আপনার আমলে তাঁরা সর্বস্বান্ত হয়েছে।” গরিবদের জন্য প্রধানমন্ত্রী কিছুই করেন না বলে অভিযোগ রাহুলের।

রাহুলের আক্রমণ থেকে বাদ যায়নি অমিত শাহ-জয় শাহ ইস্যুও। তিনি বলেন, “প্রধানমন্ত্রী নিজেকে দেশের চৌকিদার বলে দাবি করেন। কিন্তু যখন জয় শাহ নিজের ব্যবসাকে ১৬ হাজার গুণ বাড়িয়ে নেয়, তখন তিনি চুপ থাকেন।” রাহুলের কথায়, মোদী এখন ‘চৌকিদার’ থেকে ‘ভোগীদার’ হয়ে গিয়েছেন, অর্থাৎ দুর্নীতিতে হাত রয়েছে তাঁর।

রাফালে জেট নিয়ে গত কয়েক দিনে শাসকদলের আক্রমণের মুখে পড়েছেন সনিয়া গান্ধী। এই ব্যাপারেও এ দিন খোলসা করেন রাহুল। রাহুলের দাবি, ফরাসি প্রেসিডেন্টের কথাতে বোঝা গিয়েছে শাসকদল সম্পূর্ণ মিথ্যে কথা বলছে। রাফালে নিয়ে কোনো দুর্নীতিই হয়নি। পরে অবশ্য সেটা প্রমাণ করে একটি টুইট করেন কংগ্রেসের মুখাপাত্র রনদীপ সুরজেওয়ালা।

এর পাশাপাশি নারী নিরাপত্তা নিয়েও সরকারকে তীব্র আক্রমণ করেন রাহুল। তিনি বলেন, “বিশ্বব্যাপী এই ধারণা তৈরি হয়েছে যে ভারত তাঁর মহিলাদের রক্ষা করতে পারে না। ভারতের ইতিহাসে এটা প্রথম। অথচ প্রধানমন্ত্রী এই ব্যাপারে একটাও কথা বলেন না।” রাহুল আরও বলেন, “দলিত এবং সংখ্যালঘুদের ওপরে আক্রমণ হচ্ছে। অথচ প্রধানমন্ত্রী চুপ থাকেন আর তাঁর মন্ত্রী অভিযুক্তদের গলায় মালা পরান।”