ওয়েবডেস্ক: মঙ্গলবারই লোকসভা ভোটে জোট-জটে ইতি টানতে দলের সর্বভারতীয় সভাপতি রাহুল গান্ধীকে চিঠি পাঠিয়েছিলেন প্রদেশ কংগ্রেস সভাপতি সোমেন মিত্র। ওই দিনই রাত ১০টা নাগাদ দিল্লি থেকে জরুরি ভিত্তিতে ফোন আসে বলে জানা গিয়েছে সোমেনবাবুর কাছে। বলা হয়েছে, রাত পোহালেই যেন দিল্লিতে তিনি দরবার করেন। কংগ্রেসের কেন্দ্রীয় নেতত্ব সূত্রে খবর, বুধবার দুপুর ৩টে নাগাদ তাঁর সঙ্গে জরুরি বৈঠকে বসছেন রাহুল।

মঙ্গলবার দলের সর্বভারতীয় সভাপতি রাহুলকে পত্র মারফত আসন বণ্টন নিয়ে প্রদেশের মনোভাব জানিয়ে দিয়েছেন সোমেনবাবু।

গত সোমবারই দিল্লিতে কেন্দ্রীয় কমিটির বৈঠকে পশ্চিমবঙ্গে বামফ্রন্ট-কংগ্রেস জোট নিয়ে তুমূল আলোচনা হয়। অবশেষে কেন্দ্রীয় কমিটি স্থির করে, রায়গঞ্জ, মুর্শিদাবাদ আসন নিয়ে কোনও দর কষাকষিতেই যাবে না বামফ্রন্ট। তেমনই কংগ্রেসের জেতা ৪টি আসনেও কোনও প্রার্থী দেবে না তারা। অর্থাৎ আপাতত ৬টি আসনে জোটবদ্ধ ভাবে লড়ার পরিকল্পনা নিয়ে এগোতে চাইছে সিপিএম।

অন্য দিকে সোমেনবাবু রাহুলকে যে চিঠি দিয়েছেন সে সম্পর্কে বিশদে কিছু না জানালেও সূত্রের খবর, চিঠির মূল বক্তব্য হল সিপিএমের প্রস্তাব অনুযায়ী তাঁরা মুর্শিদাবাদ, রায়গঞ্জের মতো আসন ছেড়ে দিতে রাজি নন। অবস্থানের পক্ষে পরিসংখ্যান-সহ ব্যাখ্যাও দিয়েছেন সোমেন। তিনি সংবাদ সংস্থা পিটিআইকে বলেছেন,”নিজে যা পর্যালোচনা করেছি, তার ভিত্তিতেই চিঠি লিখেছি৷ সভাপতি হিসেবে রাহুলজি যে সিদ্ধান্ত নেবেন সেটাই শিরোধার্য”।

[ আরও পড়ুন: প্রাথমিকে শিক্ষক নিয়োগে সুপ্রিম কোর্টের স্থিতাবস্থার নির্দেশ ]

কিন্তু প্রশ্ন থেকেই যাচ্ছে রায়গঞ্জ, মুর্শিদাবাদ আসন নিয়ে। সিপিএমের যুক্তি মেনে যদি এই দুটো আসনই কংগ্রেসকে ছেড়ে দিতে হয়, তা হলে দলের কর্মী-সমর্থক মহলে সঠিক বার্তা না-ও যেতে পারে। তবে একটি ছেড়ে একটি হাতে রাখার কৌশলও নেওয়া হতে পার। কিন্তু সিপিএম যে ভাবে এই আসন দু-টি নিয়ে আগাম বার্তা দিয়ে রেখেছে, তার পরে কি আর আগামী ৮ তারিখের বৈঠকে সিদ্ধান্ত বদল করবে? তবে আর যাই হোক, জোটের বৃহত্তর স্বার্থে রাহুল যদি প্রদেশ নেতৃত্বকে ত্যাগ স্বীকারে বাধ্য় করেন, তখন অবশ্য তাঁর সিদ্ধান্ত মেনে নেওয়া ছাড়া গত্যন্তর নেই প্রদেশ কংগ্রেসের।

খবরের সব আপডেট পড়ুন খবর অনলাইনে। লাইক করুন আমাদের ফেসবুক পেজ। সাবস্ক্রাইব করুন আমাদের ইউটিউব চ্যানেল

বিজ্ঞাপন