akbar road rahul

নয়াদিল্লি: দলের নতুন সভাপতি আসছেন, তাই আগাপাশতলা বদলে যাচ্ছে সব কিছুই। যিনি আসছেন তিনি এবং যেখানে আসছেন সেই জায়গাটিও।

নয়াদিল্লির সাউথ ব্লকে আকবর রোডে কিছুটা এগোলেই ২৪ নম্বর বাড়িটাতে এখন চলছে যুদ্ধকালীন প্রস্তুতি। বাড়িতে যে নতুন এবং বিশেষ কেউ আসছেন তা টের পাওয়া যাচ্ছে এক পলকেই। রঙের মিস্ত্রি, রাজমিস্ত্রি বা ছুতোর মিস্ত্রি- কারো খামতি নেই এখানে। এক দণ্ড জিরিয়ে নেওয়ারও সময় নেই, বললেও ভুল হয় না। হাতে আর মাত্র কয়েকটা দিন। আগামী মাসেই জাতীয় কংগ্রেসের সহ-সভাপতি থেকে প্রমোশন নিয়ে সভাপতির চেয়ারে বসছেন রাহুল গান্ধী।

প্রায় ২০ বছর ধরে এখানে বিশেষ কাজে অথবা অবসর মিললে আসতেন সোনিয়া গান্ধী। ফলে বাড়িটার খোলনলচে যে-কে-সেই রয়ে গিয়েছে প্রায় দু’দশক ধরে। রাহুলের আগমন-বার্তায় এবার হচ্ছে আমূল পরিবর্তন। আদ্যিকালের অপ্রয়োজনীয় আসবাবপত্রকে বিদায় জানানো হয়েছে চিরতরে। ঢোকার মুখে বড় গেটটিকে এবার আরও বেশি প্রসারিত করেছেন কংগ্রেসের দিল্লি ম্যানেজাররা। কারণ তাঁদের নয়া কৌশল, রাহুল মায়ের মতো নন, ঠাকুরমা বা বাবার মতো আরও বেশি করে সময় দেবেন এই পার্টি অফিসে। বর্ষীয়ান কংগ্রেস নেতৃত্বের কথায়, ইন্দিরা অথবা রাজীব এই অফিস থেকেই জনসংযোগের কাজটা নিপুণ হাতে সারতেন। তাঁদের অবর্তমানে এই বাড়িটা একটা সাধারণ গেস্টহাউজে পরিণত হতে বসেছিল। কারণ মাঝারি মাপের নেতা-নেত্রীদের আনাগোনা লেগে থাকলেও দল চালাতে বাড়িটাকে সেভাবে ব্যবহার করতেন না সোনিয়া।

বাড়ির ভিতরেই নতুন করে তৈরি হচ্ছে সংবাদ মাধ্যমের জন্য পৃথক ভাবে বসার ব্যবস্থা। যেখানে বসে সংবাদ মাধ্যমের মুখোমুখি হতে দেখা যাবে কংগ্রেসের তরুণ সভাপতিকে। এছাড়া থাকছে রাহুলের তৈরি ইয়াং ব্রিগেডের জন্য নির্দিষ্ট কক্ষ। যেখান থেকে সোস্যাল মিডিয়ার কাজকর্ম পরিচালনা করা হবে।

গত কয়েক দশকে এই বাড়িতে এত বড় পরিবর্তন শেষ কবে হয়েছে মনে করতে পারছেন না বাড়ির পুরোনো দারোয়ানও। নয়-নয় করে তিনিও তো এই বাড়িতে কাটিয়ে দিলেন বেশ কয়েক দশক। তবে কি তাঁকেও ফেলা হবে বাতিলের তালিকায় ? –না। রাহুল নিজে মুখে বলেছেন তাঁর ঠাঁই পাকা।

মন্তব্য করুন

Please enter your comment!
Please enter your name here