শুক্রবার থেকে রাজধানী, শতাব্দী ও দুরন্ত এক্সপ্রেসের ভাড়া বিমানের ধাঁচে হতে চলেছে। অর্থাৎ চাহিদা যেমন বাড়বে, ট্রেনের ভাড়াও সেই অনুপাতে বাড়বে। রেলের পরিভাষায় একে বলা হয় ‘সার্জ প্রাইসিং’।

বুধবার রেল মন্ত্রকের পক্ষ থেকে এক প্রেস বিবৃতিতে জানানো হয়েছে, শুরুতে ১০ শতাংশ আসন স্বাভাবিক ভাড়ায় বিক্রি করা হবে। তার পর প্রতি ১০ শতাংশ আসনের জন্য ১০ শতাংশ হারে ভাড়া বাড়বে। এ ভাবে চাহিদার উপর নির্ভর করে সর্বোচ্চ ৫০ শতাংশ বেশি ভাড়া নেওয়া হবে। এ ধরনের ভাড়ার কাঠামো শুধুমাত্র চেয়ার কার, থ্রি এসি এবং টু এসির ক্ষেত্রে প্রযোজ্য হবে। চেয়ার কার ও টু এসির ক্ষেত্রে সর্বোচ্চ ৫০ শতাংশ এবং থ্রি এসির ক্ষেত্রে সর্বোচ্চ ৪০ শতাংশ বেশি ভাড়া নেওয়া হবে। ফার্স্ট এসি ও একজিকিউটিভ শ্রেণির ক্ষেত্রে বর্তমান ভাড়ার কোনো পরিবর্তন হবে না। উল্লেখ্য, ভারতীয় রেলে বর্তমানে ৪২টি  রাজধানী, ৪৬টি শতাব্দী এবং ৫৪টি দুরন্ত এক্সপ্রেস ট্রেন চলে।    

যাত্রীদের ন্যূনতম পরিষেবা দেওয়ার ব্যাপারে যে রেলের বিরুদ্ধে প্রায়শই ভূরি ভূরি অভিযোগ ওঠে, টাকার অভাবে যারা অনেক প্রয়োজনীয় প্রকল্প বাস্তবায়িত করতে পারে না, যে রেল সময় মেনে ট্রেন চালানোর দায়িত্ব পালন করতে গিয়ে রীতিমতো হিমশিম খায়, যে রেল ব্যবস্থায় অনুন্নত সিগন্যালিং-এর  জন্য কলকাতার শিয়ালদহ বিভাগের যাত্রীদের নিত্য দুর্ভোগে পড়তে হয়, সেই রেলকে প্রধানমন্ত্রীর সাধের বুলেট ট্রেন চালু করতে গিয়ে হাজার হাজার কোটি টাকার বোঝা ঘাড়ে নিতে হয়েছে। সেই স্বপ্নের প্রকল্প চালু হলে কত শতাংশ ভারতবাসী তাতে উপকৃত হবেন এবং সেই সোনার হরিণ পুষতে গিয়ে রেলকে কত টাকা গুনাগার দিতে হবে সেই প্রশ্ন না তোলাই ভালো।

সত্যি কথা বলতে কী, টাকার অভাবে ধুঁকছে ভারতীয় রেল। অর্থনীতির নিয়ম মেনে রেলের ভাড়ার যে স্বাভাবিক বৃদ্ধি হওয়া উচিত ছিল, জনমোহিনী বাজেট করতে গিয়ে নরেন্দ্র মোদীর পূর্ববর্তী সময়ে দীর্ঘদিন সেই বৃদ্ধি হয়নি। ফলে ভারতীয় রেলের আর্থিক অবস্থা হয়ে উঠেছে সঙ্গিন। রেলের সেই ‘মা ভবানীর ভাঁড়’ ভরার দায়িত্ব বর্তেছে সুরেশ প্রভুর উপরে। মোদী জমানায় রেলমন্ত্রী পদে আসীন হয়ে প্রভু নানা অছিলায় ট্রেনের ভাড়া বাড়িয়ে চলেছেন। প্রথমে শতাব্দীর চেয়েও বেশি ভাড়ায় গতিমান এক্সপ্রেস চালু করা হল। এ নাকি সেমি বুলেট ট্রেন। কেমন সেই সেমি বুলেট ট্রেন ? গতিমান চালু হওয়ার পর এই খবরঅনলাইনেই হিসেব করে দেখানো হয়েছিল, দিল্লি-আগরা পথে ২৮ বছর আগে চালু হওয়া শতাব্দী এক্সপ্রেসের চেয়ে গতিমান মাত্র কয়েক মিনিট সময় কম নেয় এবং এই গোনাগুনতি কয়েক মিনিটের সুবিধা পেতে যাত্রীদের প্রায় ৫০ শতাংশ বেশি ভাড়া গুনতে হয় গতিমানে।

এর পর রেল আনছে ‘তেজস’ ট্রেন। তাতে নাকি অনেক উন্নত পরিষেবা দেওয়া হবে, যে পরিষেবা বিজ্ঞানের অগ্রগতির সঙ্গে তাল রেখে স্বাভাবিক ভাবেই আসা উচিত। যাই হোক, সেই উন্নত পরিষেবার নামে তেজসে ভাড়া হবে শতাব্দীর চেয়ে ২০-২৫ শতাংশ বেশি।

এখন ভারতীয় রেল বলতে শুরু করেছে, ট্রেনের ভাড়ায় তারা নাকি যাত্রীদের অনেক ভর্তুকি দেয়। সেই ভর্তুকি এখন সবাই পাবেন না। যা ভাড়া হওয়া উচিত সেই ভাড়াই নেওয়া হবে। এবং যাঁরা ভর্তুকি পাওয়ার যোগ্য বলে বিবেচিত হবেন তাঁদের ভর্তুকির টাকা জমা পড়বে ব্যাঙ্কে। এই প্রস্তাব অবশ্য এখনও কার্যকর হয়নি।

এরই মধ্যে ঘুরপথে ভাড়া বাড়ানোর সর্বশেষ নজিরটি স্থাপন করল প্রভুর রেল। এবং তা হল রাজধানী, শতাব্দী ও দুরন্ত এক্সপ্রেসে ভাড়া বিমানের ধাঁচে করে দেওয়া। আর এতে করে দালালরাজের রমরমা যে বাড়বে না, তার গ্যারান্টি কি ভারতীয় রেল দিতে পারবে ?

মন্তব্য করুন

Please enter your comment!
Please enter your name here