খবরঅনলাইন ডেস্ক: অসম এবং বিহার আগে থেকেই বন্যায় কবলিত ছিল। এ বার মহারাষ্ট্র আর কর্নাটকেও পরিস্থিতি খারাপ হতে শুরু করল। গত ২৪ ঘণ্টায় রেকর্ড বৃষ্টি হয়েছে এই দুই রাজ্যে। এর পাশাপাশি কেরলেও পরিস্থিতি খারাপ হওয়ার আশঙ্কা রয়েছে।

বিপর্যস্ত মহারাষ্ট্র

গত ৪৮ ঘণ্টায় চরম প্রবল বৃষ্টিতে ভেসেছে মুম্বই। সোমবার রাত থেকে বৃহস্পতিবার সকাল পর্যন্ত বাণিজ্যনগরীতে বৃষ্টি হয়েছে প্রায় ছ’শো মিলিমিটার। এর মধ্যে গত ২৪ ঘণ্টাতেই বৃষ্টি হয়েছে ৩৩১ মিলিমিটার। গত ৪৬ বছরে মুম্বইয়ে আগস্ট মাসে এটাই দৈনিক সর্বোচ্চ বৃষ্টি।

এই প্রবল বৃষ্টির জেরে বিপর্যয় হয়ে পড়ে মুম্বই। বৃষ্টির সঙ্গী ছিল ১০৭ কিলোমিটার বেগে ঝোড়ো হাওয়া। ফলে একাধিক জায়গায় ভেঙে পড়ে গাছ। শহরের বেশির ভাগ অঞ্চলই জলের তলায় চলে যায়।

বুধবার সন্ধ্যার পর জলের তোড়ে আটকে যায় দু’টি লোকাল ট্রেন। ঘটনাটি ঘটে মসজিদ স্টেশনে। দু’টি ট্রেনে আটকে পড়েন প্রায় দেড়শো জন। তবে বুধবার রাতের দিকে সবাইকে নিরাপদে উদ্ধার করে আনে এনডিআরএফ।

https://twitter.com/anandmahindra/status/1291248988725772288?ref_src=twsrc%5Etfw%7Ctwcamp%5Etweetembed%7Ctwterm%5E1291248988725772288%7Ctwgr%5E&ref_url=https%3A%2F%2Fwww.ndtv.com%2Foffbeat%2Fmumbai-rain-dramatic-videos-show-the-impact-of-heavy-rainfall-strong-winds-in-mumbai-2275126

তবে মুম্বইয়ের থেকেও পরিস্থিতি আরও অনেকটাই খারাপ মহারাষ্ট্রের বাকি অংশে। গত ২৪ ঘণ্টায় রাজ্যের একাধিক জায়গায় গড়ে তিনশো থেকে চারশো মিলিমিটার বৃষ্টি হয়েছে। এর মধ্যে সিন্ধুদুর্গ জেলার একটি শহরে বৃষ্টি হয়েছে ৭১০ মিলিমিটার।

রাজ্যে এনডিআরএফের ১৬টি দল মোতায়েন করা হয়েছে। এর মধ্যে পাঁচটি দল রয়েছে মুম্বইয়ে। কোলাপুরে চারটে, সাংলিতে দু’টো এবং সাতারা, ঠানে, পালঘর, রায়গড়, জেলায় একটি করে দল মোতায়েন করা হয়েছে।

কোলাপুর আর সাংলি জেলায় বিপদসীমার ওপর দিয়ে বইছে কৃষ্ণা, পঞ্চগঙ্গা ও বর্না নদী। মুম্বই এবং সংলগ্ন অঞ্চলে বৃষ্টির দাপট কিছুটা কমলেও মধ্য মহারাষ্ট্র আর মরাঠাওয়াড় অঞ্চলে বৃষ্টি এখনও চলতে থাকবে। ফলে সেই সব অঞ্চলে বন্যা পরিস্থিতির অবনতি হতে পারে।

কর্নাটকে রেকর্ড বৃষ্টি

উত্তর থেকে দক্ষিণ, প্রবল বৃষ্টিতে বিপর্যস্ত কর্নাটক। এর মধ্যে সব থেকে খারাপ অবস্থা উপকূল কর্নাটকের তিন জেলার।

গত ২৪ ঘণ্টায় কুর্গ জেলার বাগমণ্ডলায় বৃষ্টি হয়েছে ৫০০ মিলিমিটার। এ ছাড়া একাধিক জায়গায় গড়ে তিনশো থেকে চারশো মিলিমিটার বৃষ্টি হয়েছে।

প্রবল বৃষ্টির ফলে একাধিক নদীর জল ক্রমশ বাড়ছে। এর ফলে উত্তর কন্নড় জেলায় বিশাল একটি জলাধারের সব গেট খুলে দিয়েছে কর্নাটক সরকার। রাজ্যে কোভিড পরিস্থিতিও যথেষ্ট উদ্বেগজনক। স্বয়ং মুখ্যমন্ত্রী বিএস ইয়েদিউরাপ্পাই আক্রান্ত। তিনি হাসপাতাল থেকেই গোটা পরিস্থিতির ওপরে নজর রাখছেন।

পাহাড়ি জেলা কুর্গ আবার ধসে বিপর্যস্ত হয়ে পড়েছে। এখনও পর্যন্ত কোনো হতাহতের খবর না মিললেও জায়গায় জায়গায় বন্ধ হয়ে গিয়েছে রাস্তা।

আগামী কয়েক দিন আরও প্রবল বৃষ্টির আশঙ্কা রয়েছে। ফলে পরিস্থিতির আরও অবনতি হতে পারে বলেই আশঙ্কা করা হচ্ছে।

কেরলেও পরিস্থিতি খারাপের পথে

প্রবল বৃষ্টির কবলে পড়েছে কেরলও। গত ২৪ ঘণ্টায় অতিরিক্ত বৃষ্টি হয়েছে কোঝিকোড়, ওয়েনাড় আর ইদুকি জেলায়। মুতুরিপুঝা নদী দু’ কুল ভাসানোয় প্লাবিত হয়েছে শৈল শহর মুন্নারও। তবে কেরলের পরিস্থিতি আরও ভয়াবহ হতে পারে বলে আশঙ্কা করা হচ্ছে।

আবহাওয়া দফতরের পূর্বাভাস আসন্ন সপ্তাহান্তে উল্লিখিত তিন জেলার পাশাপাশি উত্তর আর মধ্য কেরলের আরও বিস্তীর্ণ অঞ্চলে ভয়াবহ বৃষ্টি হতে পারে। ইদুকি জেলায় প্রবল বৃষ্টি মানেই সমতলের জেলাগুলির আবার বন্যার কবলে পড়ার আশঙ্কা রয়েছে।

তবে সব রকম ভাবে প্রস্তুতি নিয়ে রেখেছে কেরল সরকার। ইতিমধ্যে রাজ্যের বিভিন্ন জায়গায় মত ৬৩০০টি ত্রাণশিবির খোলা হয়েছে। নিচু এলাকাগুলি থেকে আগেভাগেই সাধারণ মানুষকে ত্রাণশিবিরে সরিয়ে নিয়ে যাওয়া শুরু হয়েছে। এনডিআরএফের চারটে দলকে এখনই তৈরি থাকতে বলা হয়েছে।

বিহার-অসমে বন্যা পরিস্থিতির উন্নতি

গত কয়েক দিন ধরে উল্লেখযোগ্য বৃষ্টি না হওয়ায় বিহার আর অসমে বন্যা পরিস্থিতির উন্নতি হচ্ছে ধীরে ধীরে।

বিহারে এখনও পর্যন্ত ১৬টি জেলা বন্যায় কবলিত। দুর্গত ৬৬ লক্ষেরও বেশি। মৃত্যু হয়েছে ১৯ জনের। ১২ হাজারের কিছু বেশ মানুষকে ত্রাণশিবিরে নিয়ে যাওয়া হয়েছে।

বুধবার হেলিকপ্টারে বন্যাকবলিত জেলাগুলি পরিদর্শন করেন মুখ্যমন্ত্রী নীতীশ কুমার। দ্বারভাঙা জেলায় একটি ত্রাণশিবির আরও একটি কমিউনিটি রান্নাঘরও পরিদর্শন করেন তিনি।

অন্য দিকে অসমের পরিস্থিতির উন্নতি হওয়ায় গত ২৪ ঘণ্টায় কোনো উদ্ধারকাজ চালাতে হয়নি প্রশাসনকে। গত ২৪ ঘণ্টায় কারও মৃত্যুও হয়নি। রাজ্যে বর্তমানে বন্যাকবলিত ২ লক্ষের কিছু বেশি মানুষ। মৃতের সংখ্যা ১১০।

তবে বন্যা পরিস্থিতির উন্নতি হলেও আগামী দিনে পরিস্থিতি অবনতি হওয়ার আশঙ্কা যে ষোলো আনা তা বলাই বাহুল্য।

dailyhunt

খবরের সব আপডেট পড়ুন খবর অনলাইনে। লাইক করুন আমাদের ফেসবুক পেজ। সাবস্ক্রাইব করুন আমাদের ইউটিউব চ্যানেল

বিজ্ঞাপন