মাত্রাতিরিক্ত জঙ্গল কেটে ফেলার জন্যই ভারতে বর্ষাকালে বৃষ্টির পরিমাণ ক্রমশ কমছে। এই ব্যাপারে সমীক্ষা করে রিপোর্ট প্রকাশ করেছে পরিবেশ বিষয়ক অনলাইন পত্রিকা ‘নেচারডটকম’।

সমীক্ষায় জানানো হয়েছে বেশ কয়েক দশক ধরে নির্মম ভাবে জঙ্গল কেটে ফেলা হচ্ছে। এর ফলে ক্রমশ দুর্বল হয়ে পড়ছে বর্ষা। মুম্বই আইআইটির সিভিল ইঞ্জিনিয়ারিং বিভাগের অধ্যাপক এবং সমীক্ষকদলের অন্যতম সদস্য সুবিমল ঘোষের কথায়, “বায়ুমণ্ডলের অনেকগুলো কারণ যেমন আছে তেমনই স্থানীয় কিছু কারণের ওপরও নির্ভরশীল বর্ষা। এই স্থানীয় কারণগুলি আমাদের হাতে। যেভাবে জঙ্গল কেটে চাষযোগ্য জমি বানিয়ে ফেলা হচ্ছে সেটা বর্ষার জন্য যথেষ্ট উদ্বেগের। আমরা একে নিয়ন্ত্রণ করতে পারি”। সুবিমলবাবু বলেন, গত দু’তিন দশকে উত্তর ভারত আর উত্তর-পূর্ব ভারত, এই দুটি প্রান্তে আশঙ্কাজনকভাবে কমছে বৃষ্টির পরিমাণ। উল্লেখ্য, এই বছর বর্ষায় এখনও পর্যন্ত স্বাভাবিক বৃষ্টির প্রায় ৪০ শতাংশ কম বৃষ্টি হয়েছে উত্তর-পূর্ব ভারতে। চেরাপুঞ্জি তার চিরাচরিত বৃষ্টিপাত প্রায় দেখেনি বললেই চলে।

সুবিমলবাবু বলেন, যে প্রক্রিয়ায় জলীয় বাষ্প মাটি আর গাছের মাধ্যমে বায়ুমণ্ডলে যায় তাকে বলে ‘ইভোট্রান্সপিরেশন’। জঙ্গল কেটে ফেলার ফলে ক্রমশ কমছে এই ‘ইভোট্রান্সপিরেশন’।   সমীক্ষায় সুবিমলবাবু আর তাঁর সহকর্মীরা দেখেন ১৯৮০ থেকে ১৯৯০ আর ২০০০ থেকে ২০১০, এই সময়ে জঙ্গল যেমন কমেছে, তেমনই তাল মিলিয়ে কমেছে বৃষ্টির পরিমাণ। তাঁর কথায়, “জঙ্গল কেটে যদি চাষের জমি বানানো হয় তাহলে কমে যায় ‘পাতা-এলাকা সূচক’ (লিফ এরিয়া ইনডেক্স)। এছাড়াও জঙ্গলে বড়ো গাছ থাকার ফলে শিকড় গভীর হয়। এই বড়ো শিকড়ের ফলে গাছগুলি মাটির বাষ্প শুষে নিতে সক্ষম হয়। চাষের জমিতে থাকে ছোটো গাছ, এর শিকড়ও অগভীর। এর ফলে তারা মাটির বাষ্প শুষে নিতে অক্ষম। গভীর শিকড়ে ‘ইভোট্রান্সপিরেশন’ অনেক বেশি হয়”। উলটোটা হয় অগভীর শিকড়ের ক্ষেত্রে।  বৃষ্টির পরিমাণ এই ‘ইভোট্রান্সপিরেশন’-এর ওপর নির্ভরশীল। যত কম ‘ইভোট্রান্সপিরেশন’ তত কম বৃষ্টি।

কিন্তু পশ্চিমঘাটে জঙ্গল কাটা হলেও ওখানে বৃষ্টির পরিমাণ সেভাবে কমেনি। এর ব্যাখ্যায় সুবিমলবাবু বলেছেন, উত্তর আর উত্তর-পূর্ব ভারতে রয়েছে হিমালয়। হিমালয়ের বৃষ্টিপাতটা প্রায় পুরোটাই এই ‘ইভোট্রান্সপিরেশন’-এর ওপর নির্ভরশীল। অন্যদিকে পশ্চিমঘাটে রয়েছে আরব সাগর। ওইদিকে বৃষ্টি নামানোর মূল অনুঘটক আরব সাগরের জলীয় বাষ্প। এখানে বৃষ্টি ‘ইভোট্রান্সপিরেশন’-এর ওপর নির্ভরশীল নয়। তাই এখানে বৃষ্টি হয় স্বাভাবিক ভাবেই।         

মন্তব্য করুন

Please enter your comment!
Please enter your name here