rajasthan couple daughter

ঢোলপুর: কন্যাভ্রূণ হত্যা এই রাজ্যে একটা সামাজিক সমস্যা। শিশুপুত্রের চাহিদায় বারবার শিশুকন্যাকে জন্ম দেওয়ার উদাহরণও রয়েছে। কিন্তু এই গল্পটা অন্য রকম। শিশুকন্যার চাহিদায় সাত পুত্রকে জন্ম দিয়েছেন সুখদেবী। কিন্তু নবরাত্রিতে মুখ ফিরিয়ে নেয়নি মা দুর্গা।

রাজস্থানের গরিব কৃষক লীলাধর খুশহওয়া এবং তাঁর স্ত্রী সুখদেবী বারবার একটা কন্যাসন্তানের জন্য হাপিত্যেশ করতেন। কন্যার আশায় সাত পুত্রের জন্ম দিয়েছেন সুখদেবী। কিন্তু গত সপ্তাহেই তাদের বাড়িতে বয়ে যায় এক রাশ খুশির হাওয়া। সুখদেবীর কথায়, নবরাত্রিতে স্বয়ং মা দুর্গা তাঁদের বাড়িতে এসেছেন।

রাস্তায় পরিত্যক্ত একটি শিশুকন্যাকে কুড়িয়ে ঘরে এনেছিলেন খুশহওয়া পরিবার। দু’দিন আগেই সপ্তম শিশুপুত্রের জন্ম দিয়েছেন সুখদেবী। দু’জনকে এক সঙ্গে স্তন্যপান করাচ্ছেন সুখদেবী। ভেবেছিলেন এই সাত সন্তানের মতোই, এই মেয়েকে মানুষ করতে কোনো ত্রুটি রাখবেন না তিনি। হয়তো আরও বেশি যত্ন করবেন। কিন্তু এই আশায় বাধা হয়ে দাঁড়িয়েছে রাজ্য সরকার। শিশুকন্যাটিকে ফিরিয়ে না দিলে তাঁদের বিরুদ্ধে আইনি কার্যকলাপ শুরু করা হবে বলেও হুমকি দেওয়া হচ্ছে।

ঢোলপুরের শিশুরক্ষা কমিটির (সিডব্লিউসি) সদস্য নরেশ শর্মা বলেন, “আইন মোতাবেক দত্তক নিতে হয়। এ ভাবে রাস্তা থেকে কাউকে কুড়িয়ে এনে ঘরে রাখা যায় না।” কমিটির চেয়ারম্যান বীজেন্দ্র পরমর পুলিশকে নির্দেশ দিয়েছেন খুশহওয়া পরিবারের থেকে ওই শিশুকন্যাকে উদ্ধার করে নিয়ে আসা হয়। তাঁর কথায়, “শিশুটিকে তাঁর বেআইনি বাবা-মায়ের কাছ থেকে উদ্ধার করার জন্য নির্দেশ দেওয়া হয়েছে।”

সরকারের এই পদক্ষেপে স্থম্ভিত সুখদেবী। তাঁর কথায়, “নবরাত্রিতে মা দুর্গা আমাদের ঘরে এসেছেন। আমরা ওকে ছাড়তে পারব না।” এক দিনে যখন কেন্দ্র ‘বেটি বাঁচাও বেটি পড়াও’ নিয়ে সরব, তখন সিডব্লিউসির এই ভূমিকায় হতভম্ব এই পরিবারটি। সিডব্লিউসিকে পালটা দেওয়ার জন্য আইনের দারস্থ হওয়ার চিন্তাভাবনা করছেন দেড় একর জমির মালিক খুশহওয়া।

আরও পড়ুন রাজস্থানের গ্রামে কন্যাসন্তান জন্মালে ১১১টি চারাগাছ রোপণ

সরকারি আধিকারিকদের দাবি, যদি সত্যিই ওই শিশুকন্যাকে চান তাঁরা, তা হলে আপাতত সিডব্লিউসির হাতে তার দায়িত্ব দিয়ে, দু’মাস পর আইনানুগ ভাবে দত্তক নেওয়ার জন্য আবেদন জানান তাঁরা। কিন্তু আবেদন জানালেই কি তাকে পাওয়া যাবে? কারণ তখন তো ওই শিশুটিকে নেওয়ার আরও অনেক দাবিদার থাকতে পারে।

নরেশ শর্মার মতে, পরিত্যক্ত হওয়ার পর প্রথম দু’মাস বেশ কিছু কাজ থাকে। প্রথমে পুলিশ শিশুটির জন্মদাত্রী মায়ের খোঁজ করে। শিশুটি অসুস্থ থাকলে, তার চিকিৎসা ব্যবস্থা করা হয়। এর পর সেন্ট্রাল অ্যাডপশন রিসোর্স অথোরিটিকে (কারা) খবর দেওয়া হয়, তার পর দত্তক নেওয়ার যাবতীয় কাজকর্ম শুরু করা হয়।

দেশের আইনব্যবস্থার ওপরে আস্থাই রেখেছেন খুশহওয়া দম্পতি, কিন্তু তার থেকেই বেশি আস্থা রেখেছেন ভগবানের ওপরে। তাঁদের আশা নবরাত্রিতে মা দুর্গা তাঁদের ঘর থেকে চলে যাবেন না।

উত্তর দিন

আপনার মন্তব্য দিন !
আপনার নাম লিখুন