জয়পুর: রাজস্থানের পরবর্তী মুখ্যমন্ত্রী হিসেবে কংগ্রেস হাইকমান্ডের পছন্দ হিসাবে দেখা সচিন পাইলট (Sachin Pilot)। কিন্তু তাঁর মুখ্যমন্ত্রীর কুর্সিতে পৌঁছানোর পথ ততটা মসৃণ নাও হতে পারে।

রাজস্থানের পরবর্তী মুখ্যমন্ত্রী কে

মুখ্যমন্ত্রী অশোক গহলৌতের (Ashok Gehlot) পর পরবর্তী মুখ্যমন্ত্রী কে, তা নিয়েই জোর লড়াই চলছে রাজস্থান কংগ্রেসে। শোনা যাচ্ছে, এ ব্যাপারে বৈঠকে বসছে কংগ্রেসের পরিষদীয় দল। কিন্তু তার আগেই শান্তি ধারিওয়ালের বাড়িতে একটি বৈঠক করছে গহলৌত শিবির। যেখানে রয়েছেন চার গুরুত্বপূর্ণ মন্ত্রীও। ওই বৈঠকের পরই পরবর্তী মুখ্যমন্ত্রীর নাম ঘোষণা হতে পারে বলে জল্পনা।

এরই মধ্যে রাজ্যের মন্ত্রী গোবিদ রাম মেঘওয়ালের জোরালো ইঙ্গিত, “অশোক গহলৌতেরই মুখ্যমন্ত্রী থাকা উচিত”। কারণ, দু’টি দায়িত্ব গহলৌত ভালো ভাবে সামলাতে পারবেন বলে তিনি মনে করছেন। সব মিলিয়ে পাইলটকে আটকাতে সবরকমের চাপের কৌশল রাখছে গহলৌত শিবির।

সূত্রের খবর, কেন্দ্রীয় নেতা কেসি বেণুগোপাল এবং রাজ্যের ইনচার্জ অজয় ​​মাকেনের উপস্থিতি বৈঠকে বসছে কংগ্রেসের পরিষদীয় দল। ওই বৈঠকের পর দলের অন্তর্বর্তী সভানেত্রী সোনিয়া গান্ধী পরবর্তী মুখ্যমন্ত্রীর নাম ঘোষণা করবেন।

কেন সরছেন অশোক গহলৌত

জাতীয় কংগ্রেসের সভাপতি নির্বাচনের আগেই রাজস্থানের মুখ্যমন্ত্রীর পদ ছাড়তে পারেন গহলৌত। স্বয়ং সোনিয়া গান্ধীর অনুমতিতেই সভাপতি নির্বাচনে প্রতিদ্বন্দ্বিতা করতে চলেছেন তিনি। ‘এক ব্যক্তি এক পদ নীতি’ বাস্তবায়নের ওপর জোর দিয়েছে কংগ্রেস। ফলে দলের সভাপতি নির্বাচিত হলে মুখ্য়মন্ত্রী পদ ছাড়তে হবে তাঁকে। কিন্তু মুখ্যমন্ত্রী পদে তাঁরই ‘অনুগত’ কাউকে বসানো হোক, এমন দাবিতে অনড় গহলৌত শিবির।

কী চাইছেন গহলৌত শিবির

কংগ্রেসের দলীয় সূত্রে জানা যায়, পাইলটের মুখ্যমন্ত্রিত্বের বিরোধিতা করেছেন স্বয়ং গহলৌত। রাজস্থানের বিধায়কদের একাংশ পাইলটকে রাজ্যের পরবর্তী মুখ্যমন্ত্রী হিসেবে দাবি জানালেও অনেকেও তা অস্বীকার করেছে। যদিও জয়সলমীর থেকে গহলৌত জানিয়েছেন, দলীয় হাইকমান্ডের সিদ্ধান্তেই তাঁরা আস্থা রাখেন। হাইকম্যান্ড যে সময়োপযোগী সিদ্ধান্ত নিতে চলেছে, সেটা খুব শীঘ্রই জানা যাবে বলে দাবি করেন তিনি।

ইতিমধ্যেই সোনিয়া গান্ধীর সঙ্গে দেখা করে রাজস্থান প্রদেশ কংগ্রেসের হালহকিকত তুলে ধরেছেন অজয়। সম্প্রতি পশ্চিমের এই রাজ্যে কংগ্রেস পরিষদীয় দলের দু’টি বৈঠক হয়েছে। এর মধ্য়ে শেষ বৈঠকটি হয় গত ২০ সেপ্টেম্বর। কিন্তু এখনও পর্যন্ত কোনো স্থির সিদ্ধান্তে পৌঁছাতে পারেনি দল। কারণ একটাই, সচিন-ফ্যাক্টর।

গহলৌত-পাইলট দ্বন্দ্বের পরিণতি

রাজনৈতিক মহলের মতে, রাজস্থানে সরকারের চাবিকাঠি রয়েছে ১৩ জন নির্দল বিধায়কের হাতে। এঁদের মধ্যে ১২ জনই রয়েছে গহলৌতের সঙ্গে। ২০০ আসনের রাজস্থান বিধানসভায় কংগ্রেসের বিধায়ক সংখ্যা ১০০। সেই সঙ্গে মায়াবতীর বহুজন সমাজ পার্টির ছ’জন বিধায়কও রয়েছেন, যাঁরা কংগ্রেস শিবিরে ভিড়েছেন। এই পরিস্থিতিতে বিধানসভায় সংখ্যাগরিষ্ঠতা ধরে রাখতে ১০১ জন বিধায়কের প্রয়োজন। দ্বন্দ্ব চরম আকার নিলে সেটা কংগ্রেসের একার পক্ষে সামাল দেওয়া সম্ভব নাও হতে পারে। সেই জায়গায় নির্দলদের সমর্থন সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ। সে ক্ষেত্রে গহলৌত শিবিরেরই পাল্লা ভারী!

খবর অনলাইনে আরও পড়ুন:

বিদেশে চাকরির টোপ! অপহরণ করে মুক্তিপণ আদায়, কলকাতা থেকে উদ্ধার ভিন রাজ্যের ১৮ যুবক

অনেকে রাজস্থান বিধানসভা ভোটে কংগ্রেসের জয়ের অন্যতম কারিগর হিসেবে তুলে ধরেন পাইলটকে। মুখ্যমন্ত্রীপদের প্রতি তাঁর টানও যথেষ্ট। শোনা যায়, রাহুল গান্ধীর পরামর্শেই গহলৌতের ডেপুটি হিসেবে কাজ করতে রাজি হয়েছিলেন তিনি। বছর দুয়েক আগেও বিদ্রোহ ঘোষণা করেছিলেন। ১৮ জন বিধায়ককে সঙ্গে নিয়ে পৌঁছে গিয়েছিলেন দিল্লিতে। পরে রাহুল এবং প্রিয়ঙ্কার সঙ্গে বৈঠকে পর বরফ গলেছিল। এ ভাবেই গহলৌত বনাম পাইলটের প্রতিদ্বন্দ্বিতার জেরে একাধিক বার প্রকাশ্যে চলে এসেছে কংগ্রেসের অন্তর্দ্বন্দ্ব। তাই পাইলট রাজস্থানের মুখ্যমন্ত্রী হলে বহু দ্বন্দ্বের পরিণতি কী হতে পারে, তা নিয়েও যথেষ্ট সংশয় রয়েছে।

dailyhunt

খবরের সব আপডেট পড়ুন খবর অনলাইনে। লাইক করুন আমাদের ফেসবুক পেজ। সাবস্ক্রাইব করুন আমাদের ইউটিউব চ্যানেল

বিজ্ঞাপন