‘লিভ-ইনে থাকা মহিলারা রক্ষিতার সমান,’ বিতর্কিত মন্তব্য রাজস্থানের মানবাধিকার কমিশনের

0

জয়পুর: আবার বিতর্কিত মন্তব্য মহেশ চন্দ্র শর্মার। ‘ময়ূরের চোখের জলের সাহায্যে ময়ূরীর গর্ভসঞ্চার’-এর পর এ বার তাঁর পর্যবেক্ষণ ‘লিভ-ইন করা মহিলাদের রক্ষিতা হিসেবে গণ্য করা উচিত!’ এই সম্পর্ক নিষিদ্ধ ঘোষণার করারও দাবি জানান তিনি।

২০১৭ সালে ময়ূর-ময়ূরী নিয়ে যখন বিতর্কিত মন্তব্য তিনি করেছিলেন, তখন তিনি ছিলেন রাজস্থান হাইকোর্টের বিচারক। অবসরের পর এখন তিনি রাজস্থানের মানবাধিকার কমিশনের বেঞ্চে বিচারপতি হিসেবে রয়েছেন। পদ বদল হলেও, নিজের মানসিকতা যে এতটুকু বদলায়নি, সেটাই দেখিয়ে দিলেন মহেশ।

Loading videos...

তাঁর নেতৃত্বাধীন কমিশনের বেঞ্চের মত, লিভ-ইনের মতো সম্পর্ককে নিষিদ্ধ করতে কেন্দ্র এবং রাজ্য সরকারকে আরও তৎপর হবে হবে।

বুধবার একটি রায়ে মানবাধিকার কমিশনের বেঞ্চ জানায়, “বিয়ের মতো সম্পর্ক’ শব্দগুচ্ছের অর্থ ২০০৫ সালের গার্হস্থ্য নারী নির্যাতন দমন আইনে দেওয়া হয়নি। বেঞ্চের মতে, কোনো বিবাহিত পুরুষ শুধুমাত্র যৌন বাসনা পরিপূর্ণ করতে অথবা পরিচারিকা হিসেবে নিয়োগ করার কারণেই অন্য কোনো মহিলার সঙ্গে বসবাস করতে পারেন।” তাঁর আরও মন্তব্য, “আমাদের দেশে আদালতে এই ধরনের প্রচুর মামলা আসে বলেই বিষয়টি পরিষ্কার করা দরকার এবং কড়া সিদ্ধান্ত নেওয়াও প্রয়োজন”।

আরও পড়ুন হুহু করে বাড়ছে পঞ্জাবের বাজি কারখানায় মৃতের সংখ্যা

সামাজিক এবং আনুষ্ঠানিক ভাবে এই সম্পর্ককে কী ভাবে নিষিদ্ধ করা যায়, সেটা খতিয়ে দেখার কথা বলেছে কমিশন। এই সম্পর্কে জড়িত মহিলাদের প্রয়োজনে আইনি পরামর্শ দেওয়ার কথাও বলা হয়েছে। রায়ের শেষে মন্তব্য করা হয়েছে, “রক্ষিতার জীবন মহিলাদের পক্ষে কখনোই গৌরবজনক হতে পারে না।”

কমিশনের এই রায়ের পরেই ক্ষোভে ফেটে পড়েছেন মানবাধিকার কর্মীরা। এই রায়ের বিরুদ্ধে রাজস্থান হাইকোর্টে যাওয়ার কথা বলেছেন মানবাধিকার কর্মী কবিতা শ্রীবাস্তব। তাঁর কথায়, “এই ধরনের পশ্চাৎমুখী নির্দেশিকার বিরুদ্ধে আমাদের সরব হতেই হবে।”

উল্লেখ্য, ২০১৭ সালে রাজস্থান হাইকোর্টের বিচারক হিসেবে রায় দিতে গিয়ে তিনি বলেছিলেন, “ময়ূর ব্রহ্মচারীর জীবনধারণ করে। ওর পক্ষে ময়ূরীর সঙ্গে যৌনসংগম করা সম্ভব নয়। ময়ূরের চোখের জলের সাহায্যে ময়ূরীর গর্ভসঞ্চার হয়।”

LEAVE A REPLY

Please enter your comment!
Please enter your name here

This site uses Akismet to reduce spam. Learn how your comment data is processed.