বিলাসপুর: ২১ বছরের এক ছাত্রী ধর্ষণের অভিযোগে অভিযুক্ত হলেন রাজস্থানের স্বঘোষিত ধর্মগুরু ফলহারি বাবা। বাবার এক শিষ্যর মেয়ে তাঁর বিরুদ্ধে ধর্ষণের অভিযোগ দায়ের করেছেন বিলাসপুর থানায়।

গত ১১ সেপ্টেম্বর ছত্তীসগঢ়ের বিলাসপুরের মহিলা থানায় ৭০ বছরের স্বামী কুশলেন্দ্র প্রপন্নচারি ফলহারি মহারাজের বিরুদ্ধে একটি ধর্ষণের অভিযোগ দায়ের হয়। বিলাসপুরের অতিরিক্ত পুলিশ সুপারিডেন্ট অর্চনা ঝা জানিয়েছেন, রাজস্থানের আলোয়ারে বাবার মধুসূদন আশ্রমে গত ৭ আগস্ট এই ঘটনা ঘটে।

পুলিশ আধিকারিক জানিয়েছেন, ছত্তীসগঢ়ের বিলাসপুরের বাসিন্দা ওই অভিযোগকারীর বাবা-মা সাত বছর ধরে ফলহারি বাবার শিষ্য। তাঁরা আশ্রমে নিয়মিত অর্থও দানা করতেন। আইনের ছাত্রী ওই মেয়েটি ফলহারি বাবার সুপারিশে দিল্লিতে এক সিনিয়ার আইনজীবীর কাছে শিক্ষানবীশ হিসাবে কাজ করার সুযোগ পান। মাসে তিন হাজার টাকা করে স্টাইপেন্ডও পেত। প্রথম বার স্টাইপেন্ড পাওয়ার পর তাঁর বাবা-মা বলেন বাবার আশ্রমে সেই অর্থ দান করতে।

সেই মতো রাখিবন্ধনের দিন বাবার আশ্রমে যান মেয়েটি। গ্রহণ লেগেছে বলে ফলহারি বাবা মেয়েটিকে আশ্রমে থেকে যেতে বলেন এবং তিনি থেকেও যান।

আরও পড়ুন : ডেরার ব্যাঙ্ক অ্যাকাউন্টে কত টাকা আছে জানেন 

পুলিশ আধিকারিক জানিয়েছেন, সন্ধে সাতটা নাগাদ বাবা তাঁকে তাঁর ঘরে ডাকেন এবং যৌন হেনস্থা করেন বলে অভিযোগ। এই ঘটনার পর বাবা তাঁকে হুমকি দিয়ে বলেন ঘটনার কথা কাউকে না বলতে, বললে তার ক্ষতি হতে পারে বলেও হুমকি দেন বাবা।

পুলিশ জানিয়েছে, প্রথম দিকে ভয়ে মেয়েটি চুপ করেছিলেন। পরে ‘রাম রহিম’ গ্রেফতার হওয়ায় তিনি মনে সাহস পান। পরের মাসে মেয়েটি দিল্লি থেকে বাড়ি এসে তাঁর বাবা-মাকে গোটা ঘটনা খুলে বলেন। এর পরই  থানায় গিয়ে ফলহারি বাবার বিরুদ্ধে অভিযোগ দায়ের করেন মেয়েটি। ভারতীয় দণ্ডবিধির ৩৭৬ (ধর্ষণ) এবং ৫০৬ (অপরাধমূলক উদ্দেশ্য) ধারায় অভিযোগ দায়ের হয়েছে।

জেলাশাসকের সামনে অভিযোগকারীর বয়ান রেকর্ড করা হয়েছে। পুলিশ আলোয়ারে বাবার আশ্রমে তাঁকে খুঁজতে গেলে জানতে পারে একটি বেসরকারি হাসপাতালে বাবার চিকিৎসা চলছে। পুলিশ জানিয়েছে, তাঁর বিরুদ্ধে অভিযোগ দায়ের হয়েছে শুনে বাবা অন্ত্রের সমস্যা নিয়ে হাসপাতালে ভর্তি হয়ে যান। চিকিৎসকের অনুমতি নিয়ে তাঁকে হাসপাতালেই জেরা করবে পুলিশ।

কেন বাবার নাম ‘ফলহারি বাবা’?

কারণ তিনি সারা দিন ফল খেয়ে থাকেন তাই তাঁর নাম ফলহারি বাবা। বিভিন্ন রাজনৈতিক নেতাদের সঙ্গেও বিভিন্ন সময় তাঁর ছবি দেখা গিয়েছে।

ছবি : ইউটিউব

উত্তর দিন

আপনার মন্তব্য দিন !
আপনার নাম লিখুন