A.G. Perarivalan

ওয়েবডেস্ক: রাজীব গান্ধী হত্যা মামলায় সাজাপ্রাপ্তদের মুক্তির বিষয়টি তামিলনাড়ুর রাজ্যপালের কাছেই ফেরত পাঠাল সুপ্রিম কোর্ট। বৃহস্পতিবারের শুনানিতে সুপ্রিম কোর্ট জানায়, হত্যাকারীদের মুক্তির বিষয়ে শেষ সিদ্ধান্ত নিতে পারেন এক মাত্র তামিলনাড়ুর রাজ্যপাল। এ ব্যাপারে সর্বোচ্চ আদালত হস্তক্ষেপ করতে চায় না।

১৯৯১ সালে রাজীব গান্ধী হত্যামামলায় সাজাপ্রাপ্ত এ জি পেরারিভালান সুপ্রিম কোর্টে মুক্তি চেয়ে আবেদন জানিয়েছিলেন। এ দিন বিচারপতি রঞ্জন গগৈ, নবীন সিনহা এবং কে এম জোসেফের বেঞ্চ সেই আবেদন ফিরিয়ে দেয়।

গত ১০ আগস্ট কেন্দ্র জানায়, তামিলনাড়ু সরকারের তরফে সাজাপ্রাপ্তদের মুক্তির বিষয়টি তাদের পক্ষে কার্যকর করা সম্ভব নয়। ওই নারকীয় ঘটনার সঙ্গে সঙ্গে জড়িয়ে থাকতে পারে আন্তর্জাতিক প্রভাব।

অন্য দিকে গত ২০ আগস্ট ৪৭ বছর বয়স্ক পেরারিভালান সুপ্রিম কোর্টে জানান, ২০১৫ সালের ৩০ ডিসেম্বর তিনি তামিলনাড়ুর রাজ্যপালের কাছে মুক্তির আবেদন বিবেচনা করে দেখার অনুরোধ জানিয়েছিলেন। কিন্তু কোনো ব্যবস্থা নেওয়া হয়নি।

পেরারিভালানের বিরুদ্ধে অভিযোগ, তিনি ২১ মে, ১৯৯১ একটি ৯ ভোল্টের ব্যাটারি সরবরাহ করেছিলেন। যেটি ব্যবহার করে রাজীব গান্ধী-সহ ১৪ জনকে হত্যা করা হয়। ওই বেল্ট বম্ব ব্যবহার করে আত্মঘাতী বিস্ফোরণ ঘটানো হয়। ধারণা করা হয়, এ দেশে কোনো উচ্চ সারির রাজনৈতিক ব্যক্তিত্বকে হত্যা করতে সেই প্রথম আত্মঘাতী বেল্ট বম্বের ব্যবহার হয়েছিল।

পেরারিভালানের দাবি, যাবজ্জীবন সাজাপ্রাপ্তের সর্বাধিক সাজার মেয়াদ হতে পারে ২০ বছর। কিন্তু তিনি প্রায় ২৪ বছর কাটিয়ে দিয়েছেন জেলে। ফলে তাঁর আবেদন বিবেচনাযোগ্য বলেই তুলে ধরেছেন তিনি। পাশাপাশি তাঁর অভিযোগ, ওই ঘটনায় ব্যবহৃত আরডিএক্স প্রস্তুতকারী মূলচক্রী এখনও কোনো শাস্তি পায়নি। তাঁর বিরুদ্ধে তদন্ত চললেও তাঁকে আটক করতে পারেনি পুলিশ।

উল্লেখ্য, ২০১৪ সালে হত্যাকাণ্ডে সাজাপ্রাপ্ত তিন জনের শাস্তি হালকা করে সুপ্রিম কোর্ট। মৃত্যুদণ্ডের পরিবর্তে তাদের যাবজ্জীবন কারাদণ্ড দেওয়া হয়।  এর পর ২০১৫ সালে সাজাপ্রাপ্ত ৭ জনের মুক্তির দাবিতে সুপ্রিম কোর্টের শরণাপন্ন হয় তামিলনাড়ু সরকার। শুনানি শুরু হওয়ার পর কেন্দ্রীয় সরকারের মত জানতে চায় সর্বোচ্চ আদালত। কেন্দ্রের তরফে নিহত প্রধানমন্ত্রীর হত্যাকারীদের রেহাইয়ে আপত্তি জানানো হয়।


আরও পড়ুন: সমাজকর্মী গ্রেফতার: গৃহবন্দির মেয়াদ বাড়িয়ে পুণে পুলিশকে ভর্ৎসনা করল সুপ্রিম কোর্ট

এর পর ২ মার্চ, ২০১৬-য় ফের সুপ্রিম কোর্টের কাছে সাজাপ্রাপ্তদের মুক্তি চেয়ে আবেদন জানায় তামিলনাড়ু সরকার। তবে এ দিনের শুনানিতে সুপ্রিম কোর্ট বিষয়টিকে সে রাজ্যের রাজ্যপালের কাছে ঠেলে দেওয়া মুক্তির বিষয়টি আরও জটিল হল বলেই ধরে নিচ্ছেন আবেদনকারীরা।

উত্তর দিন

আপনার মন্তব্য দিন !
আপনার নাম লিখুন