রোহতক : ভীত ডেরাপ্রধান সাচা সৌদা গুরমিত রাম রহিম সিং জেলের মধ্যে চিৎকার করে কাঁদছেন, বললেন রোহতক জেল থেকে সদ্য জামিনে মুক্তি পাওয়া দলিত কর্মী স্বদেশ কিরাদ।

রামরহিমকে যখন থেকে রোহতকের জেলে আনা হয়েছে তখন থেকেই তিনি তেমন কিছু খাচ্ছেও না বলে দাবি কিরাদের। ডেরাপ্রধানের জন্য কড়া পাহারার ব্যবস্থা হয়েছে জেলে। তার পাশেই ছিলেন কিরাদ। তিনি বলেন, প্রতি রাতেই তিনি ডেরাপ্রধানকে কাঁদতে শুনেছেন। বলতে শুনেছেন, “আমার কী ভুল? আমি কী করেছি?” এই জাতীয় কথা। তিনি দাবি করেন, ডেরাপ্রধান ভয় পাচ্ছেন। আর রক্ষীদের কাছে তাঁকে আটকে না রাখার অনুরোধ করতেও শুনেছেন।

কিরাদ বলেন, স্বাচ্ছন্দ্যের জীবনযাপনে অভ্যস্ত রাম রহিম। তাই জেলেও বোতলের বিশুদ্ধ জল চেয়েছেন তিনি। তাঁকে জেলের ক্যান্টিন থেকে বিশুদ্ধ জলের বোতলই দেওয়া হয়েছে। তিনি জেলের খাবারও খাচ্ছেন না। তাঁকে ফল খেতে দেওয়া হচ্ছে। যদিও রায়ের দিনই কারা সুপারিন্টেনডেন্ট সুনীল সঙ্গোয়ান বলেন, রামরহিমকে ব্যক্তিগত পোশাক পরতে দেওয়া হবে না, তিনি জেলের ভেতরে কেপরি আর টি-শার্ট পরছেন।

আরও পড়ুন : লুকআউট নোটিশ জারি ডেরাপ্রধানের দত্তক কন্যা হানিপ্রীত সিং-এর নামে

কিরাদ আরও বলেন, রামরহিমকে এখানে নিয়ে আসার পর কারাগারে নজরদারি এত বাড়ানো হয়েছে, যে বাকি বন্দিদের মনে হচ্ছে তারা জেলের মধ্যে আরও একটা জেলে রয়েছে। বন্দিদের সব রকম অধিকার বাতিল করা হয়েছে। এরা প্রতি দিন ফোনে ৫ মিনিট করে পরিবারের সঙ্গে কথা বলার সুযোগ পেত, সে দিনের পর থেকে তা আর হয় না। বাড়ির লোকেদের সঙ্গে দেখা করারও সুযোগ পাচ্ছে না। নিজেদের মামলার শুনানিতে পর্যন্ত যেতে পাচ্ছে না। কিরাদের জামিন আগেই হয়ে গিয়েছিল। কিন্তু তাঁকেও এই তালগোলের মধ্যে কিছু দিন কাটাতে হল।

উল্লেখ্য, গত সপ্তাহে ডেরাপ্রধান দোষী সাব্যস্ত হওয়ার পর, পাঁচকুলা আর সিরসায় তাঁর অনুগামীরা তাণ্ডব শুরু করে। তাতে নিহত হন ৩৮ জন। ক্ষতি হয় কোটি টাকার সরকারি সম্পত্তি। আদালত ডেরাপ্রধানকে ১৫ বছরের পুরোনো দু’টি ধর্ষণ মামলায় দোষী হিসেবে ২০ বছরের কারাবাস দেয় ও ৩০ লক্ষ টাকা জরিমানা করে।

মন্তব্য করুন

Please enter your comment!
Please enter your name here