Ramgarh Chinese Cemetry

ওয়েবডেস্ক: সত্যের খাতিরে স্বীকার করতেই হয়, বর্তমানে দুই দেশের মধ্যে সম্পর্কটা খুব একটা ভালো জায়গায় অবস্থান করছে না। ক্রমশ বাড়ছে চিন ও ভারতের অভ্যন্তরীণ মনোমালিন্য। সেই জায়গায় দাঁড়িয়ে কলকাতায় চিনা কনসাল মা ঝানউ যখন ঘোষণা করেন যে ঝাড়খণ্ডের চিনা গোরস্থানকে ঢেলে সাজতে অর্থ ও শ্রম ব্যয় করবে চিন, তখন তা পরিণত হয় সৌহার্দ্যের বার্তায়।

Ramgarh Chinese Cemetry

জানা গিয়েছে, সম্প্রতি ঝাড়খণ্ডের রামগড়ের সুপ্রাচীন চিনা গোরস্থান পরিদর্শনে মা ঝানউ-র নেতৃত্বে পাঁচ সদস্যের একটি দল আসে। সেখানে তাঁরা শ্রদ্ধাজ্ঞাপন করেন দ্বিতীয় বিশ্বযুদ্ধে নিহত চিনা সৈনিকদের স্মৃতির উদ্দেশে। “যদিও শনিবার পৌঁছোনোর কথা ছিল দলটির, তবুও কাউকে কিছু খবর না দিয়ে শুক্রবারেই এসে পড়েন তাঁরা”, জানানো হয়েছে রামগড়ের ডেপুটি কমিশনার রাজেশ্বরী বি-র তরফে।

দেশের আর পাঁচটা গোরস্থানের চেয়ে রামগড়ের এই চিনা গোরস্থান ইতিহাস-মাহাত্ম্যে তো বটেই, পাশাপাশি আয়তন আর প্রশান্তির নিরিখেও অনেকটাই আলাদা। দ্বিতীয় বিশ্বযুদ্ধে জাপানের সঙ্গে যুদ্ধে নিহত হয়েছিলেন যে চিনা সৈন্যরা, তাঁরা মৃত্যুর পরে স্থান পেয়েছিলেন এখানেই। প্রায় ৮ একর জায়গা নিয়ে গড়ে ওঠা, প্রায় অরণ্যের মতো ঘন গাছপালার সৌন্দর্যে ঘেরা এই গোরস্থানে রয়েছে প্রায় ৬৬৭ জন চিনা সেনার অন্তিম শয়ান-স্মারক। ১৯৪৪ সালের ডিসেম্বরে সেন চেং টুং কুও শহিদদের সম্মানে এই গোরস্থানটি নির্মাণ করেন।

Ramgarh Chinese Cemetry

তার পর শতাব্দী গড়িয়ে গিয়েছে সময়ের খাতে। মৌনতাই ক্রমশ মুখর হয়ে উঠেছে রামগড়ের এই সমাধিভূমিতে। যা কি না এ বার ভাঙতে চলেছে। গোরস্থান পরিদর্শন করে প্রতিশ্রুতি দিয়েছেন কলকাতার চিনা কনসাল মা ঝানউ, চিনের উদ্যোগে এই গোরস্থানের নব সৌন্দর্যায়ন হবে। বিশ্বের অন্যতম এক পর্যটন কেন্দ্রে একে রূপান্তরিত করতেই বদ্ধপরিকর এখন চিন।

একটি উত্তর ত্যাগ

আপনার মন্তব্য দিন !
আপনার নাম লিখুন