ধর্ষণের শিকার হয়ে কি মেডিক্যাল বোর্ডের অনুমতি ছাড়াই গর্ভপাত করানো সম্ভব?

0
Pregnancy
প্রতীকী ছবি

চেন্নাই: ২০ সপ্তাহ সময় অতিক্রান্ত না-হলে ধর্ষণের শিকার কোনো মহিলা মেডিক্যাল বোর্ড অথবা বিচার বিভাগের দ্বারস্থ না-হয়েও গর্ভপাত করাতে পারবেন। একটি মামলার শুনানিতে এমনই নির্দেশ দিল মাদ্রাজ হাইকোর্ট।

এ বিষয়ে দায়ের হওয়া একটি ফৌজদারি মামলা নিষ্পত্তিতে মাদ্রাজ হাইকোর্টের বিচারপতি এন আনন্দ ভেঙ্কটেশ বলেন, “ধর্ষণের শিকার হয়ে ২০ সপ্তাহ অতিক্রান্ত না-হলে গর্ভপাতের জন্য মেডিক্যাল বোর্ড বা বিচার বিভাগের দ্বারস্থ হওয়ার কোনো প্রয়োজন নেই”।

Loading videos...

তিনি বলেন, “মেডিক্যাল টার্মিনেশন অব প্রেগন্যান্সি অ্যাক্ট, ১৯৭১-এর ৩ নম্বর ধারা অনুযায়ী এ ক্ষেত্রে গর্ভপাত করানো সম্ভব। এর জন্য ধর্ষণের শিকার হওয়া মহিলাকে আদালতের দরজায় ঘোরার কোনো দরকার নেই”।

আবেদনকারী, একটি মেয়ে, যিনি নভেথ আহমেদ নামে এক জনের ধর্ষণের শিকার হয়ে অন্ত‌ঃসত্ত্বা হয়ে যান। এর আগেই স্থানীয় পুলিশের কাছ থেকে ওই মামলার তদন্তভার সিআইডির হাতে তুলে দেওয়ার দাবি জানিয়েছিলেন। ধর্ষণকারী তার কু-কুর্মের দৃশ্য ক্যামেরাবন্দি করে ওই মেয়েটিকে দিনের পর দিন ব্ল্যাকমেল করেছে।

মেয়েটি দাবি করেন, রাজ্য সরকার পরিচালিত ইনস্টিটিউট অফ অবস্টেট্রিকস অ্যান্ড গাইনেকোলজি-তে তাঁকে গর্ভপাত করানোর অনুমতি দেওয়া হোক। ধর্ষণকারীর বিরুদ্ধে অভিযোগ দায়েরের পর তিনি পুলিশের কাছে গর্ভপাতের অনুমতিও চেয়েছিলেন।

কিন্তু পুলিশ এ ব্যাপারে কোনো পদক্ষেপ নেয়নি। নিরুপায় হয়ে মেয়েটি নিজেই ওই ইনস্টিটিউটে ভরতি হয়ে যান। সেখানে চিকিৎসকেরা প্রাথমিক ভাবে গর্ভপাত করাতে রাজি হয়ে যান। কিন্তু পরে পুলিশ এবং আইনকানুন-সহ পরবর্তীকালে ফরেনসিক পরীক্ষার কারণ দর্শিয়ে তাঁরা অরাজি হন।

এর পরই মেয়েটি হাইকোর্টে আবেদন দাখিল করেন। সেখানে তাঁকে নির্দেশ দেওয়া হয় গর্ভাবস্থার পরীক্ষা করাতে। আদালতের নির্দেশ মতোই তাঁর সংশ্লিষ্ট পরীক্ষা হয় কস্তুরবা গান্ধী হাসপাতালে। জানা যায়, মেয়েটি ৮-১০ সপ্তাহের অন্ত‌ঃসত্ত্বা।

শুধুমাত্র মেডিক্যাল বোর্ডের অনুমতি সাপেক্ষে গর্ভপাত করানো সম্ভব জানিয়ে, হাসপাতাল এবং ইনস্টিটিউট রাজীব গান্ধী গভর্নমেন্ট হাসপাতালের ডিনের উদ্দেশে চিঠি লেখে।

তবে আদালত রাজীব গান্ধী গভর্নমেন্ট হাসপাতালকে নির্দেশ দেয়, মেয়েটির গর্ভপাত করানো হোক। একই সঙ্গে ডিএনএ টেস্টের জন্য নমুনা তুলে দেওয়া হোক ফরেনসিক ল্যাবের হাতে।

একই সঙ্গে মাদ্রাজ হাইকোর্ট জানায়, ২০ সপ্তাহের অধিক সময় অতিক্রান্ত হওয়ার পরেও এ ধরনের ঘটনায় গর্ভপাত করানো সম্ভব, যদি নিগৃহিতার জীবন সংশয় দেখা দেয়। তবে ফৌজদারি মামলার সঙ্গে জড়িত কোনো ক্ষেত্রে গর্ভপাত করা হলে এর সঙ্গে সংশ্লিষ্ট ডিএনএ নমুনা ফরেনসিক ল্যাবের হাতে তুলে দিতে হবে।

LEAVE A REPLY

Please enter your comment!
Please enter your name here

This site uses Akismet to reduce spam. Learn how your comment data is processed.