প্রয়াগরাজ: বেপরোয়া ভাবে গাড়ি চালানো আর ওভার স্পিডিং কি এক বিষয়? এই দুই বিষয়ের মধ্যে বিভাজন টেনে পথ দুর্ঘটনায় মৃত এক যুবকের পরিবারকে দেওয়া ক্ষতিপূরণের পরিমাণ বাড়ানোর নির্দেশ দিয়েছে এলাহাবাদ হাইকোর্ট। মঙ্গলবার একটি মামলার শুনানিতে উচ্চ আদালত বলে, বেপরোয়া গাড়ি চালানো সবসময় অতিরিক্ত গতির সঙ্গে সমান নয়।

বিচারপতি সুনীতা আগরওয়াল এবং বিচারপতি কৃষাণ পহলের সমন্বয়ে গঠিত বেঞ্চ এক চিকিৎসক অনুপকুমার ভট্টাচার্য (যিনি মামলার বিচারাধীন থাকাকালীন মারা যান) এবং লীনা ভট্টাচার্যের দায়ের করা আবেদন মঞ্জুর করে। আবেদনে তাঁরা জানিয়েছিলেন, একটি বেপরোয়া গতির ট্রাক তাঁদের ছেলের জীবন কেড়ে নিয়েছে। যেহেতু ট্রাকটির বিমা করানো ছিল, তাই বিমা সংস্থা ক্ষতিপূরণ দিতে বাধ্য।

গতি অতিরিক্ত ছিল না, দাবি বিমা সংস্থার

বিমা সংস্থার আইনজীবীর যুক্তি ছিল, দুর্ঘটনার পরে ২-৩ কিমি পর্যন্ত ট্রাকটিকে ধাওয়া করা হয়েছিল বলে জানিয়েছেন প্রত্যক্ষদর্শী। ট্রাকটি ৫০ কিমি প্রতি ঘণ্টায় ছুটছিল, ফলে সেটাকে অতিরিক্ত গতি বলা যায় না বা চালক যে তাড়াহুড়ো করে গাড়ি চালাচ্ছিলেন, সেটাও প্রমাণ হয় না।

তবে হাইকোর্ট এই যুক্তি প্রত্যাখান করে। বিচারপতি জানান, বেপরোয়া ভাবে গাড়ি চালানো মানেই যে সব সময় গাড়ির অতিরিক্ত গতি থাকবে, তেমনটা নয়।

এর আগে মোটর অ্যাকসিডেন্ট ট্রাইব্যুনাল রায়ের তারিখ থেকে ৮ শতাংশ সুদ-সহ ২,৩০,৪০০ টাকা ক্ষতিপূরণের নির্দেশ দিয়েছিল। তবে মৃতের বাবা-মায়ের দুর্দশার কথা বিবেচনা করে সেই ক্ষতিপূরণ বাড়িয়ে ৩৩,৫০,০০০ টাকা করে দেয় হাইকোর্ট। আদালতের পর্যবেক্ষণে বলা হয়, “যে দুর্ঘটনা একটি শিশুকে মৃত্যুর দিকে ঠেলে দেয়, তা মৃতের পিতামাতা এবং পরিবারের জন্য বড়ো ধাক্কা এবং যন্ত্রণার কারণ হয়ে দাঁড়ায়। একজন পিতামাতার জন্য সবচেয়ে বড়ো যন্ত্রণা হল তাঁদের জীবদ্দশায় নিজেদের সন্তানকে হারানো।”

আদালত বলেছে, “আমরা শুধুমাত্র মৃতের মায়ের (যেহেতু বাবা প্রয়াত) যন্ত্রণা এবং বেদনা কল্পনা করতে পারি। তিনি নিজের একমাত্র পুত্রকে হারিয়েছেন। স্বামীকেও হারিয়েছেন। ভয়ঙ্কর প্রতিকূলতার সঙ্গে লড়ছেন তিনি। আগামী দিনগুলোতে তাঁকে একাকী লড়াই করতে হবে”। ট্রাইবুনাল বলেছিল, রায়ের দিন থেকে ৮ শতাংশ সুদের হার যুক্ত হবে, সেটাকে সংশোধন করে হাইকোর্ট বলে এই গণনা হবে মামলা দাখিলের দিন থেকেই।

মামলার উৎস

দুর্ঘটনাটি ২০০৪ সালের। ওই বছরের ২০ জুলাই দিল্লি-বরেলি হাইওয়ে দিয়ে যাওয়ার সময় একটি ট্রাক ধাক্কা মারে আবেদনকারীদের ছেলে অভিষেককে। হাসপাতালে নিয়ে যাওয়ার পথেই মৃত্যু হয় তার।

২০০৪ সালের ডিসেম্বরে, মৃতের বাবা-মা মোটর ভেহিকল আইনের ১৬১ ধারার অধীনে ক্ষতিপূরণ চেয়ে মোটর অ্যাকসিডেন্ট ক্লেমস ট্রাইব্যুনালে একটি পিটিশন দাখিল করেন। হিট-অ্যান্ড-রানের ক্ষেত্রে ক্ষতিপূরণ দিয়ে থাকে ট্রাইব্যুনাল।

আরও পড়তে পারেন:

আগের বৃহস্পতিবারের তুলনায় ১৫ শতাংশ কম সংক্রমণ ভারতে, তবে মৃত্যু বাড়ল কেরলের কারণে

আচমকা মেঘের আগমনে বাড়ল সর্বনিম্ন তাপমাত্রা, তবে রবিবার-সোমবার শীতের দাপট বাড়ার সম্ভাবনা

উদ্ধবকে ফোন করলেন সনিয়া, আরও কাছাকাছি আসার ইঙ্গিত দুই দলের

বড়োদিন থেকে নতুন বছরের প্রথম দিন পর্যন্ত ছাড় দিয়ে কোভিডবিধির মেয়াদ আরও বাড়াল পশ্চিমবঙ্গ সরকার

ইউনেস্কোর হেরিটেজ তকমা পেল কলকাতার দুর্গোৎসব

খবরের সব আপডেট পড়ুন খবর অনলাইনে। লাইক করুন আমাদের ফেসবুক পেজ। সাবস্ক্রাইব করুন আমাদের ইউটিউব চ্যানেল

বিজ্ঞাপন