পটনা: বাজেয়াপ্ত মদ উধাও হয়ে যাওয়ার পেছনে মাস চারেক আগে ইঁদুরদের দায়ী করেছিলেন এক পুলিশ অফিসার। এ বার রাজ্যে বন্যার জন্য আবার ইঁদুরকুলকেই দায়ী করা হল। যিনি এই মন্তব্য করলেন তিনি রাজ্যের এক মন্ত্রী।

সাম্প্রতিক কালের সব থেকে ভয়াবহ বন্যার মুখোমুখি হয়েছে বিহার। বন্যায় রাজ্যে এখনও পর্যন্ত পাঁচশো জনের মৃত্যু হয়েছে।

শুক্রবার বন্যা পরিস্থিতি পর্যালোচনা করার সময়ে ইঁদুরদের ঘাড়ে দোষ চাপান রাজ্যের জলসম্পদমন্ত্রী রাজীব রঞ্জন সিংহ, ওরফে লালন সিংহ। ইঁদুরের দাপটে নাকি নদীর বাঁধ ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছে। তাঁর কথায়, “নদীর বাঁধ ক্ষতি করছে ইঁদুর। এই ঘটনাটা সব থেকে বেশি ঘটেছে কমলা বালন নদীর ক্ষেত্রে। এই নদীর ধারে যে সমস্ত গ্রাম রয়েছে, তার বাসিন্দারা বাঁধের ওপরে অস্থায়ী মঞ্চ (মাচা) করে তার ওপর শস্য মজুত রাখে। ইঁদুরেরা এতে আকৃষ্ট হয়। যেন তেন প্রকারেণ তারা ওই শস্যের কাছে পৌঁছোতে যায়, এর ফলে ক্ষতিগ্রস্ত হয় বাঁধ।” তবে নদীবাঁধে সৃষ্টি হওয়া সেই সব ফুটো যে দ্রুত সারানো হয়েছে, সেই ‘সাফল্যের’ কথাও বলেন ওই মন্ত্রী।

আরও পড়ুন ইঁদুরে মদ খায়! বিহারে বাজেয়াপ্ত মদ উধাও হওয়ার পেছনে গণেশের বাহনেরই হাত দেখছে পুলিশ

শুধু জলসম্পদ মন্ত্রীই নন, বিহারে বন্যার জন্য ইঁদুরকে দায়ী করেন আরও এক মন্ত্রী দীনেশ চন্দ্র যাদব। বহু যুগ ধরে ইঁদুরের সমস্যা হয়ে আসছে, এবং এতে তাদের খুব একটা কিছু করার নেই বলে সাফ জানিয়ে দেন ওই মন্ত্রী। রাজ্যের এই দুই মন্ত্রীর কথায় তীব্র প্রতিবাদে নেমেছে প্রধান বিরোধী দল আরজেডি। দলের প্রবীণ নেতা আব্দুল বারি সিদ্দিকির মতে, “প্রথমে শুনলাম ইঁদুরে মদ খায়, তার পর শুনলাম ইঁদুরে শস্য খেয়ে নিচ্ছে, এখন শুনছি ইঁদুরের জন্য বন্যা হচ্ছে। ইঁদুর যখন এতই ক্ষমতাশালী, তা হলে ওরাই কেন সরকার চালাচ্ছে না।”

আরজেডির আরও এক নেতা তথা বিধায়ক শক্তি যাদবের কথায়, “রাজ্য সরকারের মুখ লুকোনোর জায়গা নেই, এখন এই সব উলটোপালটা মন্তব্য করছে।”

উত্তর দিন

আপনার মন্তব্য দিন !
আপনার নাম লিখুন